![]()
ইবি রিপোর্ট
দেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়তে থাকায় ডিসেম্বর পর্যন্ত রোগটির প্রকোপ থাকার আশঙ্কা করছেন কীটতত্ত্ববিদেরা। তাঁদের মতে, এডিস মশার ঘনত্ব নিয়ন্ত্রণে না আনা পর্যন্ত ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকানো কঠিন। গ্রামাঞ্চলে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভাগীয় শহরগুলোর হাসপাতালেও রোগীর চাপ বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ডিসেম্বর থেকে শীত বাড়লে এবং বৃষ্টিপাত কমে এলে এডিস মশার বংশবিস্তারের সুযোগ কমতে পারে। এতে ডেঙ্গুর প্রকোপও কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তাপমাত্রার ওঠানামার ওপর পরিস্থিতি অনেকটা নির্ভর করবে।
ডেঙ্গু রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে অন্যান্য রোগীর চিকিৎসা এবং অস্ত্রোপচারও ব্যাহত হচ্ছে। হাসপাতালসংশ্লিষ্ট একাধিক কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। এক শল্যবিদ জানান, কয়েকজন জটিল রোগীর জরুরি অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হলেও নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) শয্যা সংকটের কারণে তা করা যাচ্ছে না। তাঁর ভাষ্য, আইসিইউর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শয্যায় ডেঙ্গু রোগী থাকায় অস্ত্রোপচারের আগে প্রয়োজনীয় আইসিইউ প্রস্তুত রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ
বিশেষজ্ঞদের মতে, এডিস মশা নির্মূল করা গেলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। বাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এ মশা বংশবিস্তার করে। তাই বাসিন্দারা নিয়মিত জমে থাকা পানি অপসারণ এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করলে সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
মহাখালীর জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের বিভাগীয় প্রধান কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. গোলাম ছারোয়ার বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু সরকারের উদ্যোগের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। বাসিন্দাদের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি মশক নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেশব্যাপী সমন্বিত ক্রাশ প্রোগ্রাম চালাতে হবে। তাঁর মতে, ডেঙ্গু এখন গ্রামাঞ্চলেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
জনস্বাস্থ্যবিদ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. বেনজীর আহমেদ বলেন, প্রায় ২৬ বছর আগে রাজধানীতে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব শুরু হলেও বর্তমানে গ্রামাঞ্চলে রোগটির বিস্তার বেড়েছে। গ্রামে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার বেশি হওয়ার পাশাপাশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং চিকিৎসাসেবায় ঘাটতি রয়েছে। উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকটও রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, সরকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মশক নিধন কার্যক্রম চালানোর পাশাপাশি সব পর্যায়ের মানুষের অংশগ্রহণে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। শুধু সরকারের একার পক্ষে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজিমপুর সরকারি আবাসিক এলাকায় ময়লা-আবর্জনা দেখতে পাওয়ার পর সিটি করপোরেশনসহ সরকারের বিভিন্ন বিভাগ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেয়।
ডেঙ্গু ও হাম নিয়ন্ত্রণে কার্যক্রম
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ২৯৯ জন। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ৮০১ জন এবং মারা গেছেন ৩৭১ জন।
একই সময়ে হামে সাতজনের মৃত্যু এবং ১ হাজার ৯১০ জন আক্রান্ত হওয়ার তথ্য দেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত হামে আক্রান্তের সংখ্যা ২১ লাখ ৮ হাজার ৮৭০ এবং মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ১১০ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাতচন্দ্র বিশ্বাস জানান, ডেঙ্গু ও হাম নিয়ন্ত্রণে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে। হামের টিকাদান কর্মসূচির শুরুতে ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছিল। পরে বাদ পড়া শিশুদের বাড়ি বাড়ি খুঁজে টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ পর্যন্ত ২ কোটি ১২ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে হামের টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি একটি শিশুও যেন টিকার বাইরে না থাকে, সে জন্য টিকাদান কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।