• হোম > অর্থনীতি | জাতীয় | দেশজুড়ে > ইউরোপে পোশাক রপ্তানিতে পিছিয়ে বাংলাদেশ, আয় কমেছে ১১.৬৭%

ইউরোপে পোশাক রপ্তানিতে পিছিয়ে বাংলাদেশ, আয় কমেছে ১১.৬৭%

  • শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৬
  • ৩২

---

 

ইবি রিপোর্ট

দেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির অন্যতম প্রধান বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে এ বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আয় কমেছে ১১ দশমিক ৬৭ শতাংশ। অথচ একই সময়ে ইইউর সামগ্রিক পোশাক আমদানি কমেছে ৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ। অর্থাৎ বাজারের মোট সংকোচনের তুলনায় বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানি কমেছে প্রায় তিন গুণ হারে।

রপ্তানি আয় কমার পাশাপাশি বাংলাদেশের পোশাকের গড় রপ্তানিমূল্যও হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে চীন ও ভিয়েতনামের মতো প্রতিযোগী দেশের রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। ফলে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের তথ্য বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েস (বিএভি) এ চিত্র তুলে ধরেছে। সংস্থাটির সংকলিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১ হাজার ১৯৩ কোটি ইউরো। গত বছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ১ হাজার ৩৫০ কোটি ইউরো। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি আয় কমেছে প্রায় ১৫৭ কোটি ইউরো।

এ সময়ে বাংলাদেশের পোশাকের গড় রপ্তানিমূল্যও কমেছে। গত বছরের জানুয়ারি-আগস্টে ইইউতে প্রতি কেজি বাংলাদেশি পোশাকের গড় মূল্য ছিল ১৪ দশমিক ৮৭ ইউরো। চলতি বছরের একই সময়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ৭৬ ইউরোতে।

চীন-ভিয়েতনামের রপ্তানি আয় বেড়েছে

ইইউর সামগ্রিক পোশাক আমদানির চিত্রেও সংকোচন দেখা গেছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে জোটটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ৬ হাজার ২৯ কোটি ইউরোর পোশাক আমদানি করেছে। গত বছরের একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ২৬৯ কোটি ইউরো। সে হিসাবে আমদানি ব্যয় কমেছে ৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

তবে এ বাজারে চীনের পোশাক রপ্তানি আয় বেড়েছে ২ দশমিক ৩৮ শতাংশ। দেশটি থেকে ইইউর আমদানি দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৭১ কোটি ইউরোতে। একই সময়ে চীনের পোশাক রপ্তানির পরিমাণ বেড়েছে ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ। যদিও দেশটির প্রতি কেজি পোশাকের গড় মূল্য কমেছে ১ দশমিক ০৪ শতাংশ।

অন্যদিকে ভিয়েতনামের পোশাক রপ্তানি আয় বেড়েছে ৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ, দাঁড়িয়েছে ৩০০ কোটি ইউরোতে। দেশটির রপ্তানির পরিমাণ কমেছে ৫ দশমিক ১৩ শতাংশ। তবে প্রতি কেজি পোশাকের গড় মূল্য বেড়েছে ১০ দশমিক ১১ শতাংশ। ফলে কম পরিমাণ পোশাক রপ্তানি করেও দেশটির আয় বেড়েছে।

আট মাসের সামগ্রিক চিত্রে নেতিবাচক প্রবণতা থাকলেও আগস্টে ইইউর পোশাক আমদানিতে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। গত বছরের আগস্টের তুলনায় চলতি বছরের একই মাসে আমদানি মূল্য বেড়েছে শূন্য দশমিক ৭২ শতাংশ। তবে আমদানির পরিমাণ কমেছে শূন্য দশমিক ৫৭ শতাংশ।

কম দামের চাপ ও প্রতিযোগিতার চ্যালেঞ্জ

বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক এবং বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ক্রেতাদের কম দামে পোশাক কেনার চাপ সব রপ্তানিকারক দেশের ওপরই রয়েছে। ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়া ছাড়া অধিকাংশ দেশের পোশাকের ইউনিট মূল্য কমেছে।

তিনি বলেন, চীনের আগ্রাসী বিপণন কৌশলের কারণে দেশটি ইউরোপের বাজার পুনরুদ্ধারের সুযোগ বেশি কাজে লাগাচ্ছে। সামনে বাংলাদেশের পোশাকের রপ্তানিমূল্য ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা অনেকটাই জ্বালানির দামের ওপর নির্ভর করবে।

ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আয় কমে যাওয়া এবং প্রতিযোগী দেশগুলোর অগ্রগতির ফলে রপ্তানির পরিমাণের পাশাপাশি পণ্যের মূল্য ধরে রাখাও বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/20223 ,   Print Date & Time: Saturday, 24 October 2026, 08:46:37 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh