• হোম > অর্থনীতি | জাতীয় | দেশজুড়ে > আমদানি বাড়লেও ছোলার দাম বাড়ছে, কৃত্রিম সংকটের শঙ্কা

আমদানি বাড়লেও ছোলার দাম বাড়ছে, কৃত্রিম সংকটের শঙ্কা

  • শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৪
  • ১৭

---

ইবি রিপোর্ট

দেশে ছোলার আমদানি বাড়লেও বাজারে পণ্যটির দাম ঊর্ধ্বমুখী। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের জুলাই ও আগস্টে বেশি ছোলা আমদানি হয়েছে। এরপরও গত দুই মাসে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি ছোলার দাম বেড়েছে ১৭ থেকে ২১ টাকা। রমজানকে সামনে রেখে এ মূল্যবৃদ্ধির পেছনে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ব্যবসায়ীদের দাবি, অস্ট্রেলিয়ায় ছোলার উৎপাদন কমার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে বুকিং দর বেড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে দেশের বাজারেও। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরও দাম বাড়ায় ভোক্তাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। ভোক্তা অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, বাজার তদারকির ঘাটতিতে অসাধু ব্যবসায়ীরা রমজানের আগেই ধাপে ধাপে দাম বাড়ানোর সুযোগ পাচ্ছেন।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে প্রতি মণ (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) ছোলা ৩ হাজার ৭০০ থেকে ৩ হাজার ৭৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে, গত সপ্তাহে ঢাকার খিলগাঁও কাঁচাবাজারে প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হয়েছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়।

আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে বুকিং দর

খাতুনগঞ্জের ছোলা ব্যবসায়ী ও ডাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পরিতোষ দে বলেন, গত দুই মাসে অস্ট্রেলিয়া থেকে ছোলা আমদানির বুকিং দর ক্রমাগত বেড়েছে। একপর্যায়ে তা টনপ্রতি ৮৫০ ডলারে উঠেছিল। বর্তমানে কিছুটা কমে ৮২০ থেকে ৮৩০ ডলারের মধ্যে রয়েছে। আগে টনপ্রতি ৬৫০ থেকে ৬৮০ ডলারে ছোলা বুকিং দেওয়া যেত।

তিনি বলেন, কম দামের আগের চালানগুলো গত বছরের। বর্তমানে বাজারে মূলত ওই পুরোনো ছোলা রয়েছে। নতুন মৌসুমের ছোলা বাজারে আসতে শুরু করলে দাম কমতে পারে। ভারত থেকে আমদানি বাড়ানো গেলে দেশের বাজারে দামের চাপও কিছুটা কমানো সম্ভব।

চট্টগ্রাম উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ২ লাখ ২৭ হাজার ৩৫৫ মেট্রিক টন ছোলা আমদানি হয়েছে। আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আমদানির পরিমাণ ছিল ২ লাখ ২৬ হাজার মেট্রিক টন।

চলতি বছরের জুলাই ও আগস্টে দেশে ছোলা আমদানি হয়েছে ১৭ হাজার ১৭৭ টন। ২০২৫ সালের একই সময়ে আমদানি হয়েছিল ১ হাজার ৩৮১ টন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এই দুই মাসে আমদানি বেড়েছে ১৫ হাজার ৭৯৬ টন।

রমজানে চাহিদা বাড়ে কয়েক গুণ

ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি মাসে ছোলার গড় চাহিদা ১০ থেকে ১২ হাজার টন। তবে রমজান মাসে তা বেড়ে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টনে পৌঁছায়। এ হিসাবে দেশে ছোলার বার্ষিক চাহিদা ২ লাখ ২০ হাজার থেকে ২ লাখ ৩০ হাজার টন।

২০২৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া রমজানকে সামনে রেখে ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত তিন মাসে দেশে ছোলা আমদানি হয়েছিল ১ লাখ ৭৮ হাজার ৭৯২ টন। এর মধ্যে শুধু জানুয়ারিতেই আমদানি হয়েছিল ৭৯ হাজার ৭৭১ মেট্রিক টন।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ছোলার দাম বাড়ানোর পেছনে কৃত্রিম সংকট বা কোনো সিন্ডিকেটের ভূমিকা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে বাজারের মজুত, আমদানিকারকদের বিক্রির তথ্য ও সরবরাহব্যবস্থা যাচাই করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বাজার তদারকির অভাবে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়। ছোলার চাহিদা, আমদানির পরিমাণ, আমদানি খরচ এবং বিক্রয়মূল্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণের আওতায় আনতে হবে। তা না হলে বাজারকে সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত করা কঠিন হবে। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে রমজান পর্যন্ত তা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়ায় উৎপাদন কমার পূর্বাভাস

অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম এবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির কৃষি, পানি ও পরিবেশবিষয়ক গবেষণা ও অর্থনীতি ব্যুরো ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ছোলার উৎপাদন ৫২ শতাংশ কমে ১০ লাখ টনের সামান্য বেশি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে।

ছোলা চাষের জমি কমে যাওয়া এবং প্রধান উৎপাদন অঞ্চল নিউ সাউথ ওয়েলসের উত্তরাঞ্চল ও কুইন্সল্যান্ডে ফলন কম হওয়ার আশঙ্কা থেকে এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উৎপাদন কমার পূর্বাভাসও অতিরিক্ত আশাবাদী হতে পারে। প্রকৃত উৎপাদন আরও কম হলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে পারে।

বৈশ্বিক পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থায় অস্থিরতা এবং ভারতের কিছু অঞ্চলে মৌসুমি বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের চেয়ে কম হওয়ার প্রভাবও ছোলার বাজারে পড়তে পারে। অস্ট্রেলিয়ার কিছু অঞ্চলে ছোলার দাম টনপ্রতি প্রায় ১ হাজার ডলারে পৌঁছেছে, যা বছরের শুরুর দিকে ছিল প্রায় ৬০০ ডলার। তবে নতুন ফসল বাজারে এলে দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

চাক্তাই খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় উৎপাদন কমার আশঙ্কায় ছোলার বুকিং দর বেড়েছে। এর প্রভাব স্থানীয় বাজারেও পড়েছে। তবে বর্তমানে ছোলার সরবরাহে বড় ধরনের সংকট নেই।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. ফয়েজ উল্ল্যাহ বলেন, ছোলার মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি যাচাই করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/20213 ,   Print Date & Time: Saturday, 24 October 2026, 07:56:54 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh