• হোম > তথ্য-প্রযুক্তি > ইস্টার দ্বীপ থেকে হাওয়াইয়ে পলিনেশীয় নাবিকদের যাত্রার জিনগত প্রমাণ

ইস্টার দ্বীপ থেকে হাওয়াইয়ে পলিনেশীয় নাবিকদের যাত্রার জিনগত প্রমাণ

  • বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:৪৬
  • ২০

---

ইবি আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রশান্ত মহাসাগরের বিস্তীর্ণ জলরাশি পাড়ি দিয়ে প্রাচীন পলিনেশীয় নাবিকেরা কীভাবে বিভিন্ন দ্বীপে পৌঁছেছিলেন, তা নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এনেছে জিনগত গবেষণা। গবেষকদের বিশ্লেষণে ইস্টার দ্বীপ বা রাপা নুইয়ের মানুষের সঙ্গে হাওয়াইয়ের আদি বাসিন্দাদের বংশগত সম্পর্কের সন্ধান মিলেছে। তাঁদের ধারণা, ত্রয়োদশ শতকে ইস্টার দ্বীপের সঙ্গে সম্পর্কিত নাবিকেরা হাওয়াইয়ে পৌঁছে বসতি স্থাপন করে থাকতে পারেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক হাজারেরও বেশি পলিনেশীয় মানুষের সম্পূর্ণ জিনগত তথ্য বিশ্লেষণ করে এই যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন গবেষকেরা। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী সায়েন্স-এ।

গবেষণার ফল অনুযায়ী, হাওয়াইয়ের মানুষের সঙ্গে জিনগতভাবে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক পাওয়া গেছে ইস্টার দ্বীপের অধিবাসীদের। এ তথ্যের ভিত্তিতে গবেষকেরা ধারণা করছেন, প্রশান্ত মহাসাগরের দক্ষিণাঞ্চলের মাঙ্গারেভা দ্বীপ থেকে আসা একটি জনগোষ্ঠী ত্রয়োদশ শতকে ইস্টার দ্বীপে পৌঁছেছিল। পরে ওই জনগোষ্ঠীর একটি অংশ সেখান থেকে হাওয়াইয়ের দিকে যাত্রা করে থাকতে পারে।

এই সম্ভাব্য সমুদ্রযাত্রায় পাড়ি দিতে হয়েছিল প্রায় ৪ হাজার ৪০০ মাইল বা ৭ হাজার ১০০ কিলোমিটার। প্রাচীনকালে এত দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার সক্ষমতা পলিনেশীয় নাবিকদের সমুদ্র সম্পর্কে জ্ঞান ও নৌচালনার দক্ষতার পরিচয় বহন করে।

গবেষকেরা শুধু জিনগত তথ্যই নয়, মানুষের পারিবারিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতাও বিশ্লেষণ করেছেন। তাঁদের তৈরি করা বংশগতির বিভিন্ন সম্ভাব্য বিন্যাসের ৬১ শতাংশে হাওয়াই ও ইস্টার দ্বীপের জনগোষ্ঠীর মধ্যে সম্পর্ক পাওয়া গেছে। গবেষকদের মতে, এই ফলাফল দুই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে অতীতে যোগাযোগের সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, পলিনেশীয় জনগোষ্ঠীর বিস্তার একক কোনো যাত্রার মাধ্যমে ঘটেনি। বরং একাধিক দ্বীপের মধ্যে ধারাবাহিক সমুদ্রযাত্রা এ প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রেখেছিল। ত্রয়োদশ শতকের দিকে প্রশান্ত মহাসাগরের বিভিন্ন দ্বীপে মানুষের বসতি বিস্তারের ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রেও নতুন গবেষণাটি সূত্র দিতে পারে।

গবেষকদের অনুমান, তাহিতিতে বসতি স্থাপনকারী একটি প্রাথমিক জনগোষ্ঠীর সদস্যসংখ্যা ছিল আনুমানিক ৮০০। তাঁদের হিসাব অনুযায়ী, ওই বসতি গড়ে উঠেছিল প্রায় ১০৭০ সালের দিকে। পরবর্তী সময়ে পলিনেশীয়রা বিভিন্ন দ্বীপে ছড়িয়ে পড়ে এবং পৃথক জনগোষ্ঠী গড়ে তোলে।

প্রাচীন মানুষের যাত্রাপথ অনুসন্ধানের পাশাপাশি দ্বীপগুলোর মধ্যে সাংস্কৃতিক ও বংশগত সম্পর্ক বুঝতেও এ গবেষণা সহায়ক হতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে বিচ্ছিন্ন দ্বীপে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিরল জিনগত বৈশিষ্ট্য এবং বংশগত রোগের ঝুঁকি কীভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, তা বিশ্লেষণেও এ ধরনের গবেষণা কাজে লাগতে পারে।

তবে গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, জিনগত মিলের ভিত্তিতে অতীতের সব সমুদ্রযাত্রার সুনির্দিষ্ট পথ বা সময় নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তাঁদের বিশ্লেষণ ইস্টার দ্বীপ ও হাওয়াইয়ের মধ্যে প্রাচীন নাবিকদের যোগাযোগের একটি সম্ভাব্য চিত্র তুলে ধরেছে।

প্রশান্ত মহাসাগরজুড়ে পলিনেশীয়দের বসতি স্থাপনের ইতিহাস দীর্ঘদিন ধরে গবেষণার বিষয়। নতুন এই গবেষণা সেই ইতিহাসে দুই দ্বীপের মানুষের সম্ভাব্য যোগসূত্র সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে এনেছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/20164 ,   Print Date & Time: Thursday, 22 October 2026, 01:37:35 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh