• হোম > অর্থনীতি | জাতীয় | দেশজুড়ে > বাজারে ক্রেতা কম, তবুও কমছে না নিত্যপণ্যের দাম

বাজারে ক্রেতা কম, তবুও কমছে না নিত্যপণ্যের দাম

  • বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:০৬
  • ৯

---

ইবি রিপোর্ট

 দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে রাজধানীর অনেক বাসিন্দা ঢাকা ছেড়েছেন। এতে বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি কমেছে, কমেছে বিক্রিও। তবে চাহিদা কমলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে তেমন পরিবর্তন আসেনি। চাল, ডাল, আটা, পেঁয়াজ ও মাছ-মাংসের দাম গত সপ্তাহের মতোই চড়া রয়েছে। ছুটির সময়ে বাজার তদারকি কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের একাংশ এর সুযোগ নিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা।

বুধবার রাজধানীর মহাখালী, তেজগাঁও কলোনি ও কারওয়ান বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে চাহিদা কম থাকলেও পণ্যের দাম কমানোর উদ্যোগ নেই। এতে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর ব্যয়ের চাপ বাড়ছে।

তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে ক্রেতা কম থাকলেও পরিবহন ও অন্যান্য খরচ আগের মতোই রয়েছে। চাল, তেল ও আটার মতো পণ্যের মিল পর্যায়ের সরবরাহমূল্য না কমায় খুচরা বাজারে দাম কমানোর সুযোগ নেই।

কারওয়ান বাজারের তুহিন জেনারেল স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. রায়হান বলেন, মুদি পণ্যের দাম এক মাস ধরে বাড়তি। সম্প্রতি চালের কেজিতে প্রায় দুই টাকা বেড়েছে। পূজার ছুটিতে অনেক মানুষ বাড়ি চলে যাওয়ায় বাজারে ক্রেতা প্রায় নেই বললেই চলে। তবে ক্রেতা কম হলেও লোকসান দিয়ে পণ্য বিক্রি করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

চাল-আটা-ময়দার দাম চড়া

বাজারে মাঝারি মানের বিআর-২৮ ও পাইজাম চাল মানভেদে প্রতি কেজি ৫৫ থেকে ৬৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরু বা মিনিকেট চালের দাম ৭০ থেকে ৭৫ টাকা। চায়না ইরি ও গুটি স্বর্ণা জাতের মোটা চালের কেজি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। তবে নাজিরশাইল চাল কিনতে প্রতি কেজিতে ৮০ থেকে ৯০ টাকা গুনতে হচ্ছে।

খোলা আটা প্রতি কেজি ৪৮ থেকে ৫০ টাকা এবং প্যাকেটজাত আটা ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরকারি সংস্থা টিসিবির হিসাবে, গত এক মাসে আটার দাম গড়ে ৫ শতাংশ বেড়েছে। এদিকে খোলা ময়দার কেজি প্রায় ৭০ টাকা এবং প্যাকেটজাত ময়দা ৮৫ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পেঁয়াজের দামও বাড়তি। ভালো মানের পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৫৫ থেকে ৬০ টাকা এবং হাইব্রিড জাতের পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আদা-রসুনের দামেও গত সপ্তাহের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নেই।

মোটা মসুর ডাল প্রতি কেজি ৯৫ থেকে ১১০ টাকা এবং ভালো মানের ডাল ১৫০ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোলার কেজি ১০০ থেকে ১১০ টাকা। টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, এক মাসে ছোলার দাম প্রায় ১২ শতাংশ বেড়েছে। অ্যাংকর ডাল খুচরা বাজারে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা এবং পাড়া-মহল্লার দোকানে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ১৫ থেকে ২০ দিন আগেও এ ডালের দাম ৫ থেকে ১০ টাকা কম ছিল।

মাংসের দাম বেশি, ডিমে কিছুটা স্বস্তি

ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৭৫ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ২৯০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের দাম এলাকাভেদে ৭৮০ থেকে ৮৫০ টাকা। অন্যদিকে ডিমের দাম কিছুটা কমেছে। ফার্মের ডিম প্রতি ডজন ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। তিন সপ্তাহ আগে ডিমের ডজন ১৬০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল।

সবজির বাজারে তুলনামূলক স্বস্তি রয়েছে। পটোল ও ঢ্যাঁড়শসহ বেশির ভাগ সবজি প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লম্বা বেগুন ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং উচ্ছে ও ঝিঙা ৫০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। তবে নতুন আসা শীতকালীন সবজির দাম বেশি। শিমের কেজি ১২০ থেকে ১৪০ টাকা এবং আকারভেদে ফুলকপি প্রতিটি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তেজগাঁও এলাকায় ভ্যানে সবজি বিক্রি করা শাহ আলম বলেন, বিক্রি কমে যাওয়ায় তিনি সবজি কম আনছেন। বিক্রি না হলে সবজি পচে লোকসান হয়।

কারওয়ান বাজারে পণ্য কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী নুর হোসেনের অভিযোগ, চাহিদা বাড়লে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ান, কিন্তু সরবরাহ ভালো থাকলেও বা ক্রেতা কমলেও দাম কমানোর উদ্যোগ দেখা যায় না। তাঁর মতে, বাজার তদারকির ঘাটতিও এর একটি কারণ।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/20150 ,   Print Date & Time: Thursday, 22 October 2026, 12:15:32 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh