• হোম > আন্তর্জাতিক | বিদেশ > ‘সব বোমার জনক’ নামে নতুন অস্ত্র উন্মোচনের প্রস্তুতি ইরানের

‘সব বোমার জনক’ নামে নতুন অস্ত্র উন্মোচনের প্রস্তুতি ইরানের

  • বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:৫৩
  • ২৯

---

ইবি আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নতুন একটি শক্তিশালী অস্ত্র উন্মোচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি বুধবার এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি নতুন অস্ত্রটিকে ‘সব বোমার জনক’ বা ‘ফাদার অব অল বোমস’ নামে উল্লেখ করেছেন। তবে অস্ত্রটির প্রকৃতি, প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য কিংবা ধ্বংসক্ষমতা সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি তিনি।

ইরানের ইয়ং জার্নালিস্টস ক্লাবের মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মোহেবি বলেন, নতুন এই অস্ত্র শত্রুপক্ষের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। তবে এটি বোমা, ক্ষেপণাস্ত্র নাকি অন্য কোনো ধরনের সামরিক অস্ত্র, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাননি।

ইরানের এই ঘোষণার আগে গত শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী অ-পারমাণবিক বোমা জিবিইউ-৪৩/বি ব্যবহারের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন। অস্ত্রটি ‘মাদার অব অল বোমস’ বা ‘সব বোমার জননী’ নামে পরিচিত। এর ওজন প্রায় ৯ হাজার ৮০০ কেজি।

২০১৭ সালের এপ্রিলে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে আফগানিস্তানে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) একটি সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্কে প্রথমবারের মতো এই বোমা ব্যবহার করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের নতুন অস্ত্রের নামকরণ এবং মার্কিন বোমা নিয়ে সাম্প্রতিক বক্তব্যের কারণে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে ইরানের প্রস্তাবিত অস্ত্রটির সঙ্গে মার্কিন বোমাটির প্রযুক্তিগত বা কার্যগত কোনো মিল রয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি দাবি করেছেন, ২০২৫ সালের জুনে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধের পর দেশটির ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ দেড় গুণ বেড়েছে। একই সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা, ধ্বংসক্ষমতা এবং লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার নির্ভুলতাও উন্নত হয়েছে বলে জানান তিনি।

তবে ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ বৃদ্ধির দাবি কিংবা সক্ষমতার উন্নতির পক্ষে কোনো নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান বা বিস্তারিত তথ্য দেননি মোহেবি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি এমন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যাতে প্রতিপক্ষ ভবিষ্যতে দেশটির ওপর হামলা চালানো থেকে বিরত থাকে।

ইরানের প্রতিরক্ষা নীতিতেও পরিবর্তন আনার কথা জানিয়েছেন আইআরজিসির মুখপাত্র। তিনি বলেন, আগে ইরানের নীতি ছিল আক্রান্ত হলে পাল্টা জবাব দেওয়া। এখন থেকে কোনো দেশ ইরানে হামলা চালালে শুধু প্রতিক্রিয়া জানানো নয়, বরং পাল্টা আক্রমণও চালানো হবে।

মোহেবি আরও বলেন, ইরানের সামরিক কৌশলে অপ্রতিসম যুদ্ধের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। এই কৌশলের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে এমনভাবে মোকাবিলা করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে তারা ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার তীব্রতা উপলব্ধি করতে পারে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং আরব দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়।

জুনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয় এবং দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। তবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিয়ে মতবিরোধের কারণে পরবর্তী সময়ে আলোচনা ভেস্তে যায়।

জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথকে ঘিরে দুই পক্ষের বিরোধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন অস্ত্র উন্মোচনের প্রস্তুতি, ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা বৃদ্ধির দাবি এবং প্রতিরক্ষা নীতিতে পরিবর্তনের ঘোষণা ইরানের সামরিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/20146 ,   Print Date & Time: Thursday, 22 October 2026, 11:56:09 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh