• হোম > বাণিজ্য | রাজধানী > পূজার ছুটিতে ক্রেতা কম, তবু রাজধানীর বাজারে কমেনি দাম

পূজার ছুটিতে ক্রেতা কম, তবু রাজধানীর বাজারে কমেনি দাম

  • বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:২৯
  • ২৭

---

ইবি রিপোর্ট

দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে রাজধানীর অনেক বাসিন্দা ঢাকা ছেড়েছেন। এতে বিভিন্ন বাজারে ক্রেতার আনাগোনা কমলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে তার প্রভাব পড়েনি। চাল, ডাল, আটা, তেল, মাছ ও মাংসসহ বেশির ভাগ পণ্য গত সপ্তাহের মতোই বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। বুধবার রাজধানীর মহাখালী, তেজগাঁও কলোনি ও কারওয়ান বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

ক্রেতাদের অভিযোগ, ছুটির সময়ে বাজার তদারকি কমে যাওয়ার সুযোগ নিচ্ছেন কিছু ব্যবসায়ী। এতে বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর দৈনন্দিন ব্যয়ের চাপ বাড়ছে। অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের দাবি, বাজারে ক্রেতা কমে যাওয়ায় বিক্রিও কমেছে। তবে পরিবহন ও অন্যান্য খরচ আগের মতোই রয়েছে। চাল, তেল ও আটার মতো পণ্যের মিল পর্যায়ের সরবরাহমূল্য না কমায় খুচরা বাজারে দাম কমানোর সুযোগ নেই।

কারওয়ান বাজারের তুহিন জেনারেল স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. রায়হান বলেন, এক মাস ধরে মুদি পণ্যের দাম বাড়তি রয়েছে। সম্প্রতি প্রতি কেজি চালের দাম প্রায় দুই টাকা বেড়েছে। পূজার ছুটিতে অনেক মানুষ বাড়িতে চলে যাওয়ায় বাজারে ক্রেতা প্রায় নেই বললেই চলে। তবে ক্রেতা কম থাকলেও লোকসান দিয়ে পণ্য বিক্রি করা সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।

রাজধানীর বাজারে চালের দাম গত সপ্তাহের মতোই রয়েছে। মানভেদে বিআর-২৮ ও পাইজাম জাতের মাঝারি মানের চাল প্রতি কেজি ৫৫ থেকে ৬৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরু বা মিনিকেট চালের দাম ৭০ থেকে ৭৫ টাকা। চায়না ইরি ও গুটি স্বর্ণা জাতের মোটা চাল প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে নাজিরশাইল চাল কিনতে ক্রেতাদের প্রতি কেজিতে ৮০ থেকে ৯০ টাকা গুনতে হচ্ছে।

আটার বাজারেও স্বস্তি নেই। খোলা আটা প্রতি কেজি ৪৮ থেকে ৫০ টাকা এবং প্যাকেটজাত আটা ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, গত এক মাসে আটার দাম গড়ে ৫ শতাংশ বেড়েছে। ময়দার দামও রয়েছে বাড়তি। প্রতি কেজি খোলা ময়দা প্রায় ৭০ টাকা এবং প্যাকেটজাত ময়দা ৮৫ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পেঁয়াজের দামও তুলনামূলক বেশি। ভালো মানের পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৫৫ থেকে ৬০ টাকা এবং হাইব্রিড জাতের পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আদা ও রসুনের বাজারে গত সপ্তাহের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি। আগের বাড়তি দামেই এসব পণ্য বিক্রি হচ্ছে।

ডালের বাজারেও ক্রেতাদের বাড়তি টাকা খরচ করতে হচ্ছে। প্রতি কেজি মোটা মসুর ডাল ৯৫ থেকে ১১০ টাকা এবং ভালো মানের মসুর ডাল ১৫০ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোলার দাম প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১১০ টাকা।

ছোলার পাশাপাশি অ্যাংকর ডালের দামও বেড়েছে। কারওয়ান বাজারের খুচরা দোকানে প্রতি কেজি অ্যাংকর ডাল ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হলেও পাড়া-মহল্লার মুদি দোকানে দাম ৬৫ থেকে ৭০ টাকা। ১৫ থেকে ২০ দিন আগেও এই ডালের দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা কম ছিল। টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, এক মাসের ব্যবধানে ছোলার দাম বেড়েছে প্রায় ১২ শতাংশ।

ব্রয়লার মুরগির বাজারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৭৫ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ২৯০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের দামও সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। এলাকাভেদে প্রতি কেজি গরুর মাংস কিনতে ৭৮০ থেকে ৮৫০ টাকা খরচ হচ্ছে।

তবে ডিমের দামে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে। বর্তমানে ফার্মের ডিমের প্রতি ডজন ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রায় তিন সপ্তাহ আগে ডিমের দাম প্রতি ডজনে ১৬০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল।

সবজির বাজারে তুলনামূলক স্বাভাবিক পরিস্থিতি দেখা গেছে। পটোল ও ঢ্যাঁড়শসহ বেশির ভাগ সবজি প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লম্বা বেগুনের দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং উচ্ছে ও ঝিঙা ৫০ থেকে ৭০ টাকা কেজি।

তবে বাজারে নতুন আসা কয়েকটি শীতকালীন সবজির দাম বেশি। প্রতি কেজি শিম কিনতে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা খরচ হচ্ছে। আকারভেদে প্রতিটি ফুলকপির দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকা।

তেজগাঁও এলাকায় ভ্যানে সবজি বিক্রি করেন শাহ আলম। তিনি বলেন, বর্তমানে বিক্রি কিছুটা কম। সবজি বিক্রি না হলে পচে যায়, এতে লোকসান গুনতে হয়। এ কারণে তিনি আগের তুলনায় কম সবজি আনছেন।

কারওয়ান বাজারে মুদি পণ্য কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী নুর হোসেন বলেন, বাজারে পণ্যের চাহিদা বাড়লে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দেন। কিন্তু সরবরাহ ভালো থাকলেও কিংবা ক্রেতা কমে গেলেও তদারকির অভাবে দাম কমানোর উদ্যোগ দেখা যায় না।

সব মিলিয়ে পূজার ছুটিতে রাজধানীর বাজারে ক্রেতা কমলেও নিত্যপণ্যের দামে তেমন পরিবর্তন আসেনি। কিছু সবজিতে তুলনামূলক স্বস্তি থাকলেও চাল, আটা, ডাল, পেঁয়াজ ও মাংসের বাড়তি দাম সাধারণ পরিবারের ব্যয় সামলানো কঠিন করে তুলছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/20144 ,   Print Date & Time: Thursday, 22 October 2026, 11:43:33 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh