• হোম > এক্সক্লুসিভ | জাতীয় | প্রধানমন্ত্রী | বাংলাদেশ > তারেক রহমানের জাপান সফরে বিগ-বি উদ্যোগে ভারতকে যুক্ত করার প্রস্তাব

তারেক রহমানের জাপান সফরে বিগ-বি উদ্যোগে ভারতকে যুক্ত করার প্রস্তাব

  • বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:২২
  • ৩৩

---

ইবি রিপোর্ট

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরকে কেন্দ্র করে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে শিল্পায়ন, বাণিজ্য ও যোগাযোগ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নতুন করে আলোচনায় আসছে। মুক্ত ও অবাধ ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল (এফওআইপি) গড়ে তোলার বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট’ (বিগ-বি) উদ্যোগে ভারতকে আবারও যুক্ত করার প্রস্তাব দিতে পারে জাপান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। এর প্রভাব পড়ে এ অঞ্চলে জাপানের কৌশলগত পরিকল্পনাতেও। জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের নেওয়া বিগ-বি উদ্যোগ বাস্তবায়নেও বাধা তৈরি হয়। গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে শিল্প ও বাণিজ্যকেন্দ্র গড়ে তোলার এই পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, ভারতকে সম্পৃক্ত করা ছাড়া উদ্যোগটির পূর্ণ বাস্তবায়ন কঠিন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে জাপানের উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ রয়েছে। ওই অঞ্চলের রাজ্যগুলোর সঙ্গে ভারতের মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ সহজ করতে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আন্তঃসীমান্ত সংযোগ প্রকল্প রয়েছে। পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে বাংলাদেশ ও ভারতের উভয়ের স্বার্থ রয়েছে।

ওই কর্মকর্তা জানান, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুকূলে এলে ঢাকা ও টোকিওর জন্য ভারতকে বিগ-বি উদ্যোগে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তাঁর ভাষ্য, রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসায় জাপান এ অঞ্চলে নিজেদের কৌশলগত পরিকল্পনা নতুন করে বাস্তবায়ন করতে চায়। এ কারণে আসন্ন শীর্ষ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বিগ-বি প্রসঙ্গটি আলোচনায় আসতে পারে।

ভারতে জাপানি দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রায় ৩৮৫ বিলিয়ন ইয়েন উন্নয়ন সহায়তা দিয়েছে জাপান। এই সহায়তার বড় অংশ ব্যয় হয়েছে অবকাঠামো ও যোগাযোগ প্রকল্পে।

এর আগে ২০২৩ সালে ভারত সফরের সময় জাপানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা বলেছিলেন, বঙ্গোপসাগরকে কাজে লাগিয়ে অঞ্চলটিকে আরও স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ করতে বাংলাদেশ ও ভারতের সঙ্গে কাজ করতে চায় জাপান। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের তৎকালীন রাষ্ট্রদূত ইয়োয়ামা কিমিনোরিও বলেছিলেন, মুক্ত ও অবাধ ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলা অপরিহার্য।

ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে ইয়োয়ামা বলেন, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর শুধু বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপাক্ষিক ব্যবহারের জন্য তৈরি হচ্ছে না; এর লক্ষ্য বাংলাদেশকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা। তাঁর মতে, আঞ্চলিক সংযোগের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে বাংলাদেশ ও ভারতের পারস্পরিক আস্থা এবং বোঝাপড়া জরুরি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। তাঁদের দাবি, বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনইচি অন্তর্বর্তী সরকারের অধিকাংশ সময় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করেও বৈঠক করতে পারেননি। শিনইচি ২০২৫ সালের ১০ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান থাকবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি। মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেন, “সময়সূচির সঙ্গে মিললে পররাষ্ট্রমন্ত্রী যোগ দেবেন।”

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দ্য ডেইলি স্টারকে জানিয়েছেন, এই সফরে দুই দেশের বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারত্বকে আরও বিস্তৃত করে সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারত্ব বা সিএসপিতে উন্নীত করার সম্ভাবনা রয়েছে। জাপানের কূটনৈতিক কাঠামোয় সিএসপি সাধারণ কৌশলগত অংশীদারত্বের তুলনায় উচ্চতর ও বিস্তৃত সহযোগিতার সম্পর্ককে বোঝায়। এতে প্রায় সব খাতে বহুমাত্রিক সহযোগিতার সুযোগ থাকে। নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং উন্মুক্ত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল গড়ে তোলার লক্ষ্যে আসিয়ান, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম ও লাওসের সঙ্গে জাপানের এ ধরনের অংশীদারত্ব রয়েছে।

মঙ্গলবার এক ঘোষণায় জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফর দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করবে এবং পরিমার্জিত এফওআইপি বাস্তবায়নে পারস্পরিক সমন্বয় বাড়াবে বলে তারা আশা করছে।

বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে শিল্পোন্নয়ন ও যোগাযোগ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে ২০১৪ সালে বিগ-বি উদ্যোগ চালু করে জাপান। শুরুতে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার করিডোরকে কেন্দ্র করে পরিকল্পনাটি সাজানো হয়েছিল। পরে ২০২৩ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে ‘বে অব বেঙ্গল-নর্থইস্ট ইন্ডিয়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভ্যালু চেইন ইনিশিয়েটিভ’ নামে একটি বিস্তৃত প্রস্তাব দেয় জাপান।

বিগ-বি উদ্যোগের তিনটি প্রধান স্তম্ভ হলো শিল্প ও বাণিজ্য, জ্বালানি এবং পরিবহন। জাপানি বিনিয়োগ উৎসাহিত করা, শিল্পায়নে সহায়তা দেওয়া এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের মতো অবকাঠামোর মাধ্যমে উৎপাদনকেন্দ্রগুলোকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করাই এর মূল লক্ষ্য।

মাতারবাড়ীকে আঞ্চলিক বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জাপানি প্রস্তাব সম্পর্কে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যের সঙ্গে বন্দর অবকাঠামোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের ভবিষ্যৎ আমদানি-রপ্তানি পরিচালনা এবং সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বন্দরগুলোকে প্রস্তুত করা উচিত। সেভাবেই মাতারবাড়ী প্রকল্পটি সামনে এসেছে। আমাদের নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পর বন্দরটি যদি বাড়তি মালামাল সামলাতে পারে, তবেই আমরা বিষয়টি ভেবে দেখব।”

সূত্র: ডেইলি স্টার


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/20142 ,   Print Date & Time: Thursday, 22 October 2026, 11:41:00 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh