• হোম > দেশজুড়ে > সাজেক থেকে বিশেষ নিরাপত্তায় খাগড়াছড়ি গেলেন ২ হাজার ৯৩৩ পর্যটক

সাজেক থেকে বিশেষ নিরাপত্তায় খাগড়াছড়ি গেলেন ২ হাজার ৯৩৩ পর্যটক

  • বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:৫১
  • ৩১

---

ইবি রিপোর্ট

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক সড়কে ফের অবরোধের কারণে আটকে পড়া ২ হাজার ৯৩৩ জন পর্যটককে বিশেষ নিরাপত্তায় খাগড়াছড়ির উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর নিরাপত্তা পাহারায় পর্যটকবাহী যানবাহনগুলো সাজেক থেকে বাঘাইহাটের উদ্দেশে রওনা হয়। সেখান থেকে তাঁদের খাগড়াছড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার দিকে সাজেক সড়কের বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং শুরু করেন অবরোধকারীরা। এতে সাজেকের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেয়।

এর আগের দিন বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জরুরি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পর্যটনকেন্দ্রটি বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার মধ্যে এলাকা ছেড়ে নিজ নিজ গন্তব্যে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এর আগে বুধবার বিকেলে সাজেক সড়কে আবারও অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করে সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি। সংগঠন দুটির সভাপতি নতুন জয় চাকমা ও আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার থেকে কর্মসূচি শুরুর কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবারের মধ্যে সব পর্যটককে সাজেক ছেড়ে যেতে হবে। পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে। তবে ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স, লাশবাহী গাড়ি, জরুরি ওষুধ সরবরাহকারী যানবাহন, সংবাদপত্র বহনকারী যান এবং সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত সাংবাদিকদের গাড়ি অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে।

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় অবস্থিত সাজেক দেশের একটি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। সারা বছরই সেখানে পর্যটকদের আনাগোনা থাকে। তাঁদের থাকার জন্য এলাকায় গড়ে উঠেছে বিভিন্ন মানের কটেজ, হোটেল ও মোটেল। রয়েছে আলাদা পরিবহন স্টেশনও। পর্যটনকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে বস্ত্র, খাবার ও বিভিন্ন পণ্যসামগ্রীর বেচাকেনার মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার ঘটেছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নিরাপত্তাহীনতা ও বারবার অবরোধের কারণে পর্যটনকেন্দ্রটি বন্ধ রাখতে হলে স্থানীয় অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পর্যটকেরা ফিরে যেতে বাধ্য হওয়ায় আবাসন ব্যবসা, পরিবহন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যবসার ওপরও চাপ তৈরি হচ্ছে।

এর আগে গত ১১ অক্টোবর সকাল ৬টা থেকে সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির ডাকে সাজেক-দীঘিনালা সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হয়। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা জানিয়ে সেদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাজেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন। তখন সেখানে অবস্থানরত পর্যটকদের ১৩ অক্টোবর বিকেল ৫টার মধ্যে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

পরবর্তী সময়ে দুই দিন কর্মসূচি স্থগিত রাখার পর ১৫ অক্টোবর থেকে আবারও সড়ক অবরোধ শুরু করে সংগঠন দুটি। পরে সাজেকের মাচালং বাজার দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির অনুরোধ এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার প্রতি সম্মান জানিয়ে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত অবরোধ স্থগিত রাখা হয়।

সাজেক থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া, এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি ও সাধারণ মানুষকে হুমকি-ভয়ভীতি প্রদর্শনের প্রতিবাদ, সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে সংগঠন দুটি


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/20117 ,   Print Date & Time: Thursday, 22 October 2026, 09:36:29 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh