• হোম > দেশজুড়ে > সাজেকের উজোবাজারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠীর গোলাগুলি

সাজেকের উজোবাজারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠীর গোলাগুলি

  • বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:৪০
  • ১৮

---

ইবি রিপোর্ট

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকের উজোবাজার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর গোলাগুলি শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গোলাগুলি শুরু হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। দুপুর সাড়ে ১২টায় প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সেখানে গোলাগুলি চলছিল।

রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর গোলাগুলি চলছিল। এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানান তিনি।

এর আগে সাজেক ভ্যালি থেকে খাগড়াছড়িতে ফেরার পথে প্রায় দুই হাজার পর্যটক উজোবাজার এলাকায় আটকা পড়েছিলেন। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সদস্যদের পাহারায় তাঁরা সাজেক থেকে রওনা হন। তবে আঞ্চলিক দুটি সংগঠনের ডাকা অবরোধের কারণে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উজোবাজার এলাকায় তাঁদের যাত্রা বাধাগ্রস্ত হয়।

অবরোধকারীরা ওই এলাকায় অবস্থান নেওয়ায় পর্যটকেরা সামনে এগোতে পারছিলেন না। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা লাঠিপেটা করলে অবরোধকারীরা সরে যান। এরপর বেলা ১১টার দিকে পর্যটকবাহী গাড়ির বহর উজোবাজার এলাকা ছেড়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পরই বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সেখানে গোলাগুলি শুরু হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

গত বুধবার সাজেক পর্যটন সড়কে তৃতীয় দফায় অবরোধের ঘোষণা দেয় সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন। এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠন দুটি জানায়, বৃহস্পতিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধ চলবে। এ কারণে বুধবারের মধ্যে সাজেক থেকে সব পর্যটককে চলে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল।

অবরোধের পর নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সাজেক পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন। বুধবার সন্ধ্যায় এক গণবিজ্ঞপ্তিতে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী জানান, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ থাকবে। বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার মধ্যে সবাইকে নিরাপদে সাজেক ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সকালে সাজেক ছাড়তে শুরু করেন পর্যটকেরা। তবে পর্যটনকেন্দ্র থেকে বের হওয়ার প্রায় আধা ঘণ্টার মধ্যে উজোবাজারে অবরোধকারীদের মুখে পড়েন তাঁরা।

সাজেকে পর্যটকবাহী যানবাহনের লাইনম্যান মো. ইয়াসিন জানান, সাধারণত সকাল সাড়ে ১০টায় সাজেক থেকে পর্যটকবাহী যান খাগড়াছড়ির উদ্দেশে ছেড়ে যায়। কিন্তু অবরোধের কারণে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় যানবাহনগুলো রওনা হয়। সেনাবাহিনী ও পুলিশের পাহারায় প্রায় দুই হাজার পর্যটক সাজেক ছেড়েছেন বলে জানান তিনি।

এর আগে ১৫ অক্টোবর সকাল ছয়টা থেকে সাজেক পর্যটন সড়কে দ্বিতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু করেন সংগঠন দুটির নেতা-কর্মীরা। এ সময় সড়কের বিভিন্ন স্থানে টায়ার ও গাছের গুঁড়িতে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন তাঁরা। অবরোধকারীদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু লারমা) সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া। ১১ অক্টোবরও একই দাবিতে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক দিয়েছিলেন তাঁরা।

তবে অবরোধকারীদের অভিযোগ অস্বীকার করেছে জেএসএস। সংগঠনটির প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা বলেন, সাজেকে সাধারণ মানুষের ওপর ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের দীর্ঘদিনের নিপীড়ন ও হয়রানির বিষয়টি আড়াল করতেই এমন অভিযোগ তোলা হচ্ছে।

অবরোধ ও পর্যটনকেন্দ্র বন্ধের ঘোষণায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা। সাজেক রিসোর্ট কটেজ মালিক সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা জানান, অবরোধের কারণে পর্যটকদের সাজেক ছাড়তে হচ্ছে এবং অনেকে রিসোর্টের আগাম বুকিং বাতিল করেছেন। সড়ক অবরোধের কারণে পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও ভোগান্তিতে পড়ছেন। খাদ্যসামগ্রী কেনাকাটা এবং উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়ার ক্ষেত্রেও বাধা তৈরি হচ্ছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/20113 ,   Print Date & Time: Thursday, 22 October 2026, 09:36:20 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh