![]()
ইবি রিপোর্ট
মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া ‘এযাবৎকালের’ সেরা পরামর্শ বলে উল্লেখ করেছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা জানান তিনি। ইশরাকের ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ তিনি এক বাক্যেই মেনে নিয়েছিলেন।
বুধবার সকালে প্রকাশিত ওই পোস্টে ইশরাক জানান, শুরুতে পদত্যাগের নির্দেশকে তাঁর শাস্তি বলে মনে হয়েছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর পরিস্থিতি আগে থেকেই বুঝতে পেরেছিলেন বলে মনে করেন তিনি। ইশরাকের অভিযোগ, একটি গণমাধ্যম ও সাধারণ স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষতিকর পরিকল্পনা করেছিল।
ফেসবুক পোস্টে ইশরাক লেখেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দিয়ে এযাবৎকালের সেরা পরামর্শটি দিয়েছিলেন যা আমি একবাক্য মেনে নিয়েছিলাম। প্রথমে শাস্তি মনে হয়েছিল কিন্তু সবার আগে তিনিই পরিষ্কার বুঝে ফেলেছিলেন যে একটি গণমাধ্যম ও কমন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী আমার জন্য অত্যন্ত শক্তিশালী ও ক্ষতিকর একটি পরিকল্পনা সাজিয়ে রেখেছে।’
নিজের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত প্রচারণার অভিযোগ তুলে তিনি আরও লেখেন, ‘পুরো ছক তৈরি করা হয়েছিল, যার মাধ্যমে একটার পর একটা বিধ্বংসী প্রতিবেদন ও মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে আমার চরিত্র হনন করা হতো এবং আমাকে জনগণের তুমুল সমালোচনার মুখে ফেলা হতো। এবং আমার শুভাকাঙ্খী সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সাথে দুরুত্ব তৈরি করে আমাকে একঘরে করে ফেলত।’
ইশরাকের দাবি, এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অবসান ঘটানোর চেষ্টা করা হতে পারত। একই চক্র অতীতে তাঁর বিরুদ্ধে কী ধরনের অন্যায় পরিকল্পনা করেছিল, সে বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রী তাঁকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন বলে পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আস্থার কথা জানিয়ে ইশরাক লেখেন, ‘আমি তার প্রতি অন্ধ বিশ্বাস রাখা একজন কর্মী। আল্লাহর রহমতে দেশনায়ক তারেক রহমান আমাকে ছোট ভাইয়ের মতো স্নেহের চোখে দেখেন এবং সবসময় আমার জন্যে কোনটা ভালো সেটি চিন্তায় রাখেন। যার প্রমাণ আমি জীবনে বার বার পেয়েছি।’
ইশরাকের পদত্যাগের পেছনে ছিল অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়ার ভিডিও ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক। গত ১৭ অক্টোবর বিকেলে নিজের ফেসবুক পেজে গেন্ডারিয়ায় পরিচালিত অভিযানের একাধিক ভিডিও প্রকাশ করেন তিনি। এর একটি ভিডিওতে রেললাইনের পাশের একটি এলাকায় তাঁকে অস্ত্র হাতে অভিযানে অংশ নিতে দেখা যায়। তাঁর সঙ্গে থাকা আরেক ব্যক্তির হাতেও অস্ত্র ছিল। অন্য একটি ভিডিওতে কয়েকজনকে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে যেতে দেখা যায়।
ভিডিওগুলো প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। একজন জনপ্রতিনিধি এভাবে অস্ত্র হাতে অভিযান পরিচালনা করতে পারেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এর দুদিন পর, গত ১৯ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ইশরাক। এর আগে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে জানা যায়।
ইশরাক হোসেন অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে।