• হোম > জাতীয় | বাংলাদেশ > দেশে ১২ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৯৫ হাজার ৭৬১ জন

দেশে ১২ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৯৫ হাজার ৭৬১ জন

  • বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১২
  • ১২

---

ইবি রিপোর্ট

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন গড়ে ২২ জনের প্রাণহানি—দেশের সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরছে এ পরিসংখ্যান। আজ ২২ অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসে ‘নিরাপদ সড়কসমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে দিবসটি পালিত হচ্ছে। তবে দীর্ঘ সময়ের হিসাব বলছে, সড়কে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমানো এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির হিসাব অনুযায়ী, ২০১৪ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ১২ বছরে দেশে ৬৯ হাজার ৪৪৮টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৯৫ হাজার ৭৬১ জন। একই সময়ে আহত হয়েছেন ১ লাখ ৬৮ হাজার ৬৯ জন। অর্থাৎ, এই ১২ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন গড়ে ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যানে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা আবারও বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ২০২৪ সালে দেশে ৬ হাজার ৩৫৯টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় প্রাণ হারান ৮ হাজার ৫৪৩ জন। পরের বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালে দুর্ঘটনার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৬ হাজার ৭২৯টিতে। একই সময়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে হয় ৯ হাজার ১১১ জন।

এক বছরের ব্যবধানে দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর সংখ্যা—দুটিই বেড়েছে। ফলে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিদ্যমান উদ্যোগ কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসে দীর্ঘমেয়াদি পরিসংখ্যানের পাশাপাশি সাম্প্রতিক পরিস্থিতিও সড়ক নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ সামনে এনেছে।

এদিকে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের হিসাবে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে দেশে ৪৪২টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪২৩ জন। নিহতদের মধ্যে ১৩৯ জন মোটরসাইকেল আরোহী এবং ১০৬ জন পথচারী। এই পরিসংখ্যান সড়কে মোটরসাইকেল আরোহী ও পথচারীদের প্রাণহানির বিষয়টিও সামনে এনেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বেপরোয়া গতি, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, চালকদের অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা, সড়কের নকশাগত ত্রুটি এবং দুর্বল তদারকি। এসব সমস্যার সমাধান ছাড়া সড়কে দুর্ঘটনা কমানো কঠিন বলে মনে করছেন তাঁরা।

সড়ক নিরাপদ করতে শুধু সচেতনতামূলক কর্মসূচি যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং পরিবহণ খাতে কার্যকর শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা। যানবাহনের ত্রুটি নিয়ন্ত্রণ, চালকদের কর্মঘণ্টার বিষয়টি নজরদারিতে রাখা, সড়কের নকশাগত সমস্যার সমাধান এবং তদারকি জোরদার করার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসে প্রকাশিত এসব পরিসংখ্যান সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে। দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমাতে আইন প্রয়োগ, সড়ক ব্যবস্থাপনা এবং গণপরিবহণে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার উদ্যোগ কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তার ওপরই নিরাপদ সড়ক গড়ার লক্ষ্য অনেকাংশে নির্ভর করছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/20089 ,   Print Date & Time: Thursday, 22 October 2026, 08:01:20 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh