• হোম > লাইফ স্টাইল > তরুণদের পিঠে ব্যথা বাড়ছে, যেসব লক্ষণ এড়িয়ে যাওয়া বিপজ্জনক

তরুণদের পিঠে ব্যথা বাড়ছে, যেসব লক্ষণ এড়িয়ে যাওয়া বিপজ্জনক

  • বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০২
  • ২৫

---

ইবি রিপোর্ট

দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটার বা মোবাইলের পর্দার দিকে ঝুঁকে থাকা, ভুল ভঙ্গিতে বসে কাজ করা কিংবা সঠিক নির্দেশনা ছাড়া ভারী ওজন নিয়ে ব্যায়াম—তরুণদের পিঠে ব্যথার পেছনে এসব অভ্যাস ভূমিকা রাখতে পারে। শুরুতে সাধারণ ক্লান্তি বা পেশির টান মনে হলেও বারবার ফিরে আসা কিংবা দীর্ঘস্থায়ী ব্যথাকে অবহেলা না করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে ব্যথার কারণ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হয়।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ডেস্কে ভুল ভঙ্গিতে বসে কাজ করলে মেরুদণ্ড ও ইন্টারভার্টিব্রাল ডিস্কের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। একইভাবে মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহারের সময় শরীর সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে রাখার অভ্যাসও পিঠের অস্বস্তি বাড়াতে পারে। দীর্ঘদিন এমন ভঙ্গিতে কাজ করলে পিঠে স্থায়ী ব্যথার সমস্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে।

ব্যায়ামের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, যথাযথ নির্দেশনা ছাড়া অতিরিক্ত ওজন নিয়ে ব্যায়াম বা জিম করলে মেরুদণ্ডে আঘাত লাগার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এর ফলে স্পাইনাল ইনজুরি কিংবা ডিস্ক হার্নিয়েশনের মতো জটিলতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দীর্ঘ সময় বসে থাকা, কুঁজো হয়ে কাজ করা এবং শারীরিকভাবে সক্রিয় না থাকার অভ্যাস পিঠের অস্বস্তি বাড়াতে পারে। এর সঙ্গে অফিস বা পড়ার টেবিলের ভুল বিন্যাস যুক্ত হলে সমস্যাটি আরও বাড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞরা ব্যায়ামের সময় সঠিক কৌশল অনুসরণ এবং নিজের শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী ওজন বেছে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। ভুল পদ্ধতিতে ভারী জিনিস তোলা কিংবা নিজের সামর্থ্যের বাইরে ওজন ব্যবহার করলে আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

তবে পিঠে ব্যথা হলেই মেরুদণ্ডে বড় ধরনের সমস্যা হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। এই ব্যথার বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। তাই ব্যথার ধরন, স্থায়িত্ব এবং সঙ্গে থাকা অন্যান্য লক্ষণ বিবেচনা করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে অবহেলা নয়

পিঠে ব্যথা বারবার ফিরে এলে কিংবা দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে সেটিকে সাধারণ ক্লান্তি বা পেশির টান ভেবে উপেক্ষা করা উচিত নয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

সময়মতো স্বাস্থ্য পরীক্ষা করালে ব্যথার প্রকৃত কারণ শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে। পরীক্ষার ফল অনুযায়ী দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিবর্তন আনা কিংবা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।

যেসব লক্ষণ দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন

পিঠে ব্যথার পাশাপাশি কিছু উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে নতুন করে পায়ে দুর্বলতা অনুভব করা, গোপনাঙ্গ বা কুঁচকির চারপাশ অবশ হয়ে যাওয়া কিংবা প্রস্রাব ও পায়খানার ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে সমস্যা হওয়াকে অবহেলা করা উচিত নয়।

এসব লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। বিশেষ করে পিঠের ব্যথার সঙ্গে প্রস্রাব-পায়খানা নিয়ন্ত্রণের সমস্যা বা কুঁচকির আশপাশ অবশ হওয়ার মতো উপসর্গ থাকলে তা জরুরি ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

তরুণদের ক্ষেত্রে দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করার ভঙ্গি, শরীরচর্চার পদ্ধতি এবং ব্যথার স্থায়িত্বের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে বা সতর্কসংকেত দেখা দিলে নিজে থেকে কারণ নির্ধারণ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/20071 ,   Print Date & Time: Thursday, 22 October 2026, 06:52:21 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh