• হোম > এআই | জাতীয় | দেশজুড়ে > এআই যুগে সফটওয়্যারের মান নিশ্চিতে ঢাকায় আন্তর্জাতিক সম্মেলন ৫ ডিসেম্বর

এআই যুগে সফটওয়্যারের মান নিশ্চিতে ঢাকায় আন্তর্জাতিক সম্মেলন ৫ ডিসেম্বর

  • বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ২১:৫৫
  • ৩২

---

ইবি রিপোর্ট

লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার সনদপ্রাপ্ত সফটওয়্যার টেস্ট ইঞ্জিনিয়ার তৈরি,বাংলাদেশে সফটওয়্যার পরীক্ষণ ও মান নিশ্চিতকরণ খাতের দক্ষতা বাড়াতে আগামী ৫ ডিসেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে চতুর্থ ‘সিম্পোজিয়াম অন সফটওয়্যার কিউএ অ্যান্ড টেস্টিং’। ‘কোয়ালিটি ইন দ্য এজ অব এআই’ প্রতিপাদ্যে দিনব্যাপী এ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক সফটওয়্যার টেস্টিং বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি দেশীয় প্রযুক্তি খাতের পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ ও নীতিনির্ধারকেরা অংশ নেবেন।

আয়োজকদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঢাকার শেরাটন হোটেলে অনুষ্ঠেয় এ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক সফটওয়্যার টেস্টিং কোয়ালিফিকেশন বোর্ডের (আইএসটিকিউবি) বর্তমান গ্লোবাল প্রেসিডেন্ট ড. ক্লডিয়া দুসা-জাইগার এবং সাবেক গ্লোবাল প্রেসিডেন্ট অলিভিয়ের ডেনু অংশ নেবেন। তাঁদের অংশগ্রহণে সফটওয়্যার পরীক্ষণ, আন্তর্জাতিক সনদ এবং মান নিশ্চিতকরণের বৈশ্বিক চর্চা নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি হবে।

বাংলাদেশ সফটওয়্যার টেস্টিং বোর্ড (বিএসটিবি) এ সম্মেলনের আয়োজন করছে। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি একাডেমিক পার্টনার এবং ইন্টারন্যাশনাল সফটওয়্যার কোয়ালিটি ইনস্টিটিউট (আইএসকিউআই) পরীক্ষা ও ওয়েবভিত্তিক প্রশিক্ষণ পার্টনার হিসেবে যুক্ত রয়েছে।

সম্মেলনে সফটওয়্যার কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স (কিউএ), সফটওয়্যার টেস্টিং, টেস্ট অটোমেশন, কোয়ালিটি ইঞ্জিনিয়ারিং, এআই টেস্টিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে আলোচনা হবে। পাশাপাশি পেশাগত সনদ, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং আন্তর্জাতিক সফটওয়্যার বাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনাও আলোচনায় স্থান পাবে।

২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার দক্ষ প্রকৌশলী তৈরির লক্ষ্য

বাংলাদেশে সফটওয়্যার পরীক্ষণ খাতে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার সনদপ্রাপ্ত টেস্ট ইঞ্জিনিয়ার তৈরির লক্ষ্য নিয়েছে বিএসটিবি। সংস্থাটির উদ্দেশ্য শুধু সনদপ্রাপ্ত পেশাজীবীর সংখ্যা বাড়ানো নয়; তাঁদের কর্মসংস্থান, আন্তর্জাতিক প্রকল্পে কাজের সুযোগ এবং প্রযুক্তিসেবা রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত করা।

আয়োজকদের মতে, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সফটওয়্যার পরীক্ষণ ও মান নিশ্চিতকরণে দক্ষ জনবল তৈরি হলে বাংলাদেশের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ফ্রিল্যান্সিং, দূরবর্তী কাজ, আন্তর্জাতিক আউটসোর্সিং এবং উচ্চ দক্ষতাভিত্তিক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সফটওয়্যার টেস্টিং, টেস্ট অটোমেশন, পারফরম্যান্স টেস্টিং, নিরাপত্তা পরীক্ষা, এপিআই টেস্টিং এবং এআই টেস্টিংয়ের মতো সেবাকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও রয়েছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন থেকে কর্মসংস্থান এবং কর্মসংস্থান থেকে রপ্তানি আয় তৈরির একটি ধারাবাহিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানিয়েছে বিএসটিবি।

সংস্থাটির সভাপতি ড. এম. নুরুজ্জামান বলেন, ১০ হাজার সনদপ্রাপ্ত টেস্ট ইঞ্জিনিয়ার তৈরির লক্ষ্য শুধু একটি সংখ্যা অর্জন নয়। এসব পেশাজীবী দেশের সফটওয়্যারের মান উন্নয়নের পাশাপাশি উচ্চ দক্ষতাভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক সফটওয়্যার পরীক্ষণ প্রকল্প বাংলাদেশে আনতে ভূমিকা রাখবেন।

এআইয়ের যুগে বাড়ছে মান নিশ্চিতকরণের চ্যালেঞ্জ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার সফটওয়্যার তৈরির প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনছে। এআই-সহায়ক কোডিং, স্বয়ংক্রিয় পরীক্ষা এবং বুদ্ধিমান ডেভেলপমেন্ট টুল উৎপাদনশীলতা বাড়ালেও এআইভিত্তিক ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা, নিরাপত্তা, পূর্বানুমানযোগ্যতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করা নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

এ কারণে এবারের সম্মেলনে এআই টেস্টিং, টেস্টিং এআই, টেস্ট অটোমেশন, সফটওয়্যার নির্ভরযোগ্যতা, নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যতের টেস্টিং পেশা নিয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। আয়োজকদের মতে, সফটওয়্যারের মান নিশ্চিতকরণ এখন শুধু উন্নয়নপ্রক্রিয়ার শেষ ধাপ নয়; ব্যবসার ধারাবাহিকতা, ডিজিটাল ব্যবস্থার ওপর আস্থা এবং গ্রাহকের বিশ্বাসের সঙ্গেও এটি যুক্ত।

সম্মেলনে সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশল ও মাননিয়ন্ত্রণ বিভাগের পরিচালক, ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের প্রধান, টেলিযোগাযোগ খাতের এআই ও ডিজিটাল রূপান্তরসংশ্লিষ্ট নেতৃত্ব, সরকারি দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ খাতের নীতিনির্ধারক, গবেষক এবং প্রযুক্তি পেশাজীবীরা অংশ নেবেন।

দিনব্যাপী আয়োজনে থাকবে মাস্টারক্লাস, মূল প্রবন্ধ, প্যানেল আলোচনা, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পেশাগত যোগাযোগের সুযোগ। শিক্ষার্থী, সফটওয়্যার ডেভেলপার, টেস্ট ইঞ্জিনিয়ার এবং এ খাতে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহীরাও এতে অংশ নিতে পারবেন।

আয়োজকদের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সেশন, ক্যারিয়ারবিষয়ক ধারণা, চাকরির সুযোগ সম্পর্কে জানার সুযোগ এবং গ্লোবাল প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরযুক্ত অংশগ্রহণ সনদ পাবেন।

সম্মেলনে অংশগ্রহণের নিবন্ধন শুরু হয়েছে। আগ্রহীরা http://sqat.bstb-bd.org ওয়েবসাইটে বিস্তারিত তথ্য ও নিবন্ধনের সুযোগ পাবেন।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/20067 ,   Print Date & Time: Wednesday, 21 October 2026, 06:15:54 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh