• হোম > মতামত > থাইল্যান্ড সম্মেলনে বাংলাদেশ কী পেল

থাইল্যান্ড সম্মেলনে বাংলাদেশ কী পেল

  • মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:১৮
  • ২৯

---

আহমেদ তোফায়েল

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বার্ষিক সম্মেলন শেষ হয়েছে। ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে বাংলাদেশের জন্য অর্থায়নের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, দুই উন্নয়ন সহযোগীর সঙ্গে আলোচনা এগিয়েছে। কিন্তু দেশে ফেরার সময় বাংলাদেশের হাতে নতুন ঋণের চূড়ান্ত চুক্তি কিংবা অর্থছাড়ের নিশ্চয়তা ছিল না। বরং সামনে এসেছে অর্থনীতির দুর্বলতা কাটাতে কঠিন কিছু সংস্কারের প্রশ্ন।

বাংলাদেশ আইএমএফের কাছে নতুন কর্মসূচির আওতায় ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ চেয়েছে। পাশাপাশি আগামী তিন বছরে বিশ্বব্যাংকের কাছে নিয়মিত সহায়তার বাইরে আরও ১০ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের প্রস্তাব দিয়েছে। এই অর্থায়ন পাওয়া গেলে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ সামলানো, বাজেটের চাহিদা পূরণ এবং উন্নয়ন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে। তবে অর্থ চাওয়া আর অর্থ পাওয়া এক বিষয় নয়। ঋণের শর্ত পূরণ, সংস্কারের অগ্রগতি এবং অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর নির্ভর করবে পরবর্তী ফলাফল।

এখানেই থাইল্যান্ড সম্মেলন থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ও সীমাবদ্ধতা—দুটিই বিবেচনায় নেওয়া দরকার। আলোচনা এগিয়েছে, অর্থায়নের দরজা খোলা রয়েছে; কিন্তু অর্থনীতির সমস্যাগুলোর সমাধান এখনো দেশের নিজস্ব নীতিগত সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়নের ওপর নির্ভরশীল।

ঋণচুক্তি এখনো চূড়ান্ত নয়

প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয়টি কিস্তিতে আইএমএফের কাছ থেকে প্রায় ৪৫০ কোটি ডলার পেতে চায় বাংলাদেশ। বছরের শেষ নাগাদ চুক্তি করার আশা করছে সরকার। এ জন্য অক্টোবরের শেষ দিকে আইএমএফের একটি প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফরের সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।

ব্যাংককে আইএমএফের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্কের সঙ্গে বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আলোচনায় অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন। পরবর্তী দুই থেকে তিন সপ্তাহে বাকি বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। অর্থাৎ সম্মেলনটি সমঝোতার পথ এগিয়ে দিয়েছে, কিন্তু ঋণের পরিমাণ, শর্ত ও কিস্তির সময়সূচি চূড়ান্ত করেনি।

বিশ্বব্যাংকের কাছে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের প্রস্তাবের ক্ষেত্রেও একই বাস্তবতা প্রযোজ্য। প্রস্তাবটি অনুমোদিত অর্থের সমান নয়। কোন খাতে কত অর্থ দেওয়া হবে, কোন প্রকল্পে অর্থায়ন হবে এবং কী ধরনের সংস্কার বা ফলাফল প্রত্যাশা করা হবে—এসব বিষয় চূড়ান্ত হওয়া প্রয়োজন।

তাই সম্মেলনের সাফল্য পরিমাপ করতে শুধু কত ডলারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তা দেখলে চলবে না। বরং আলোচনার ফল কতটা বাস্তব অর্থায়নে রূপ নেয় এবং সেই অর্থ দেশের উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও আর্থিক স্থিতিশীলতায় কতটা অবদান রাখে, সেটিই হবে আসল বিষয়।

রাজস্ব সংস্কারের কঠিন হিসাব

বাংলাদেশের অর্থনীতির বড় দুর্বলতা হলো সরকারের রাজস্ব আহরণ কম। অর্থনীতির আকার বাড়লেও সেই তুলনায় কর আদায় বাড়েনি। ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো, সামাজিক সুরক্ষা ও উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় মেটাতে সরকারকে ঋণের ওপর নির্ভর করতে হয়। রাজস্বের ভিত্তি দুর্বল থাকলে বিদেশি ঋণ সাময়িক অর্থের জোগান দিতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সক্ষমতা তৈরি করতে পারে না।

আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের সংস্কার আলোচনায় কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো, করের আওতা সম্প্রসারণ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংস্কার এবং কর অব্যাহতি যৌক্তিকীকরণের বিষয় রয়েছে। ২০২৭ সালের মধ্যে কর অব্যাহতি পর্যালোচনার চাপও রয়েছে।

এসব উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু সংস্কারের ধরন ঠিক করা জরুরি। যাঁরা নিয়মিত কর দেন, তাঁদের ওপর আরও চাপ দিয়ে রাজস্ব বাড়ানো সহজ পথ হতে পারে; এতে করব্যবস্থার ন্যায্যতা নষ্ট হবে। বরং কর ফাঁকি কমানো, আয় ও সম্পদের তথ্য যাচাই, ব্যবসায়িক লেনদেনের ডিজিটাল নথি তৈরি এবং করজালের বাইরে থাকা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে আওতায় আনার দিকে জোর দিতে হবে।

কর অব্যাহতি তুলে দেওয়ার ক্ষেত্রেও সব খাতকে একইভাবে দেখা ঠিক হবে না। কোনো অব্যাহতি অকার্যকর বা সুবিধাভোগীকেন্দ্রিক হলে তা পর্যালোচনা করা যায়। কিন্তু কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি বৃদ্ধি কিংবা নতুন শিল্প গড়ে তোলার সঙ্গে যুক্ত সুবিধা বাতিলের আগে তার সম্ভাব্য প্রভাব যাচাই করা দরকার। রাজস্ব বাড়াতে গিয়ে উৎপাদন ও বিনিয়োগ কমে গেলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন হবে।

ব্যাংক খাতের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই

বাংলাদেশের অর্থনীতির আরেকটি বড় সমস্যা ব্যাংক খাতের দুর্বলতা। খেলাপি ঋণ, মূলধন ঘাটতি, ঋণের বিপরীতে পর্যাপ্ত সঞ্চিতি না রাখা এবং ঋণ বিতরণে অনিয়ম ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। দুর্বল ব্যাংক টিকে রাখতে শেষ পর্যন্ত সরকারি অর্থ প্রয়োজন হলে সেই ব্যয়ের দায়ও জনগণকে বহন করতে হয়।

আইএমএফের নতুন ঋণ কর্মসূচির আলোচনায় খেলাপি ঋণ কমানো, দুর্বল ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি পূরণ, প্রয়োজন অনুযায়ী একীভূতকরণ বা পুনর্গঠন এবং ব্যাংকের তারল্য পরিস্থিতি উন্নয়নের বিষয়গুলো রয়েছে। তবে শুধু নির্দেশনা দিয়ে এসব সমস্যার সমাধান হবে না। অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের জবাবদিহি, ঋণ আদায়ে কার্যকর ব্যবস্থা এবং ব্যাংক পরিচালনায় পেশাদারত্ব নিশ্চিত করতে হবে।

একীভূতকরণও নিজে কোনো সমাধান নয়। দুর্বল ব্যাংককে শক্তিশালী ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত করলেই পুরোনো অনিয়মের দায় মুছে যায় না। বরং ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণ, সম্পদের মান যাচাই এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের অনিয়ম ঠেকানোর ব্যবস্থা নিতে হবে। আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা করতে হবে, পাশাপাশি ব্যাংকের ক্ষতি মেটানোর পুরো বোঝা যেন করদাতাদের ওপর না পড়ে, সে ব্যবস্থাও দরকার।

ব্যাংক সংস্কারের আরেকটি দিক হলো ঋণপ্রবাহ। ব্যাংকগুলো দুর্বল থাকলে নতুন উদ্যোক্তা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও উৎপাদনমুখী শিল্প সহজে ঋণ পায় না। ফলে খেলাপি ঋণ কমানোর উদ্যোগের সঙ্গে ভালো ঋণগ্রহীতাদের অর্থায়ন বাড়ানোর পরিকল্পনাও থাকতে হবে। অর্থনীতিতে নতুন বিনিয়োগ না এলে ব্যাংক সংস্কারের সুফল কর্মসংস্থানে পৌঁছাবে না।

জ্বালানির দাম ও মূল্যস্ফীতির দ্বন্দ্ব

জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসে ভর্তুকি কমানো এবং বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দাম সমন্বয়ের বিষয়েও ঋণদাতাদের চাপ রয়েছে। সরকারের দৃষ্টিতে ভর্তুকি কমলে বাজেটের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হতে পারে। কিন্তু জ্বালানির দাম বাড়লে তার প্রভাব পরিবহন, কৃষি, শিল্প উৎপাদন ও নিত্যপণ্যের বাজারে পড়ে। মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় তখন আরও বেড়ে যেতে পারে।

এ কারণে ভর্তুকি সংস্কারকে শুধু দাম বাড়ানোর কর্মসূচি হিসেবে দেখা উচিত নয়। কোথায় ভর্তুকির অপচয় হচ্ছে, কারা প্রকৃত সুবিধা পাচ্ছে এবং কোন খাতে সহায়তা রাখলে উৎপাদন ও জনকল্যাণ রক্ষা করা যাবে—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে। দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা নিশ্চিত না করে একসঙ্গে সব ধরনের ভর্তুকি কমানো হলে সংস্কারের সামাজিক মূল্য অনেক বেশি হতে পারে।

জ্বালানি সরবরাহের সমস্যাটিও বিবেচনায় নিতে হবে। দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা প্রায় ৩০ হাজার মেগাওয়াট হলেও জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন ১৭ থেকে ১৮ হাজার মেগাওয়াটে সীমিত থাকছে। এই ব্যবধান দেখায়, শুধু উৎপাদনক্ষমতা বাড়ালেই বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান হয় না; নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহও প্রয়োজন।

দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, আমদানির ব্যয়, দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি চুক্তি এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা—সবকিছু মিলিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে। বিদেশি বিনিয়োগের প্রয়োজন হতে পারে, তবে চুক্তির শর্ত, ব্যয় ও সম্ভাব্য সুফল যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার। জ্বালানি সরবরাহ নির্ভরযোগ্য না হলে শিল্পের উৎপাদন খরচ বাড়বে, নতুন বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হবে এবং কর্মসংস্থান তৈরির গতি কমবে।

সংস্কারের বোঝা কার ওপর পড়বে

অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেনের বক্তব্য অনুযায়ী, আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের ঋণ সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে, কিন্তু ব্যাংক ও রাজস্ব ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি দুর্বলতা কাটাতে সুশাসন ও কাঠামোগত সংস্কারের বিকল্প নেই। অন্যদিকে অর্থনীতি সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আইনুল ইসলাম আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, মূল্যস্ফীতি ও দারিদ্র্যের চাপে থাকা মানুষের ওপর ভর্তুকি কমানোর বাড়তি বোঝা পড়তে পারে।

দুটি বক্তব্যের মধ্যে নীতিনির্ধারণের মূল দ্বন্দ্বটি ধরা পড়ে। একদিকে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে রাজস্ব বাড়ানো, ভর্তুকি নিয়ন্ত্রণ ও ব্যাংক সংস্কার প্রয়োজন। অন্যদিকে এসব পদক্ষেপের তাৎক্ষণিক ব্যয় বহন করতে হয় সাধারণ মানুষকে।

এখানে সরকারের দায়িত্ব হলো সংস্কারের সময়সূচি ও পদ্ধতি এমনভাবে ঠিক করা, যাতে অর্থনীতির স্থিতিশীলতা এবং মানুষের জীবনযাত্রা—দুটিই বিবেচনায় থাকে। দরিদ্র মানুষের প্রকৃত অবস্থা, কর্মসংস্থানের পরিস্থিতি ও মূল্যস্ফীতির গতিপ্রকৃতি বিবেচনা না করে শুধু রাজস্ব বা বাজেটের হিসাব দিয়ে সিদ্ধান্ত নিলে জনসমর্থন ধরে রাখা কঠিন হবে।

অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, জনগণের ম্যান্ডেট ও দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বিবেচনায় ঋণদাতাদের শর্ত একসঙ্গে বাস্তবায়নের বদলে ধাপে ধাপে এগোনোর কৌশল নেওয়া হয়েছে। এই অবস্থান কার্যকর হতে হলে সরকারকে প্রতিটি সংস্কারের অগ্রাধিকার, সময়সীমা ও সম্ভাব্য সামাজিক প্রভাব ব্যাখ্যা করতে হবে। কোন পদক্ষেপ এখনই নেওয়া সম্ভব, কোনটির জন্য প্রস্তুতি দরকার এবং কোন ক্ষেত্রে বিকল্প ব্যবস্থা প্রয়োজন—তারও হিসাব থাকা উচিত।

ঋণের বাইরে অর্থনীতির শক্তি বাড়াতে হবে

থাইল্যান্ড সম্মেলন বাংলাদেশের সামনে অর্থায়নের একটি সম্ভাবনা তৈরি করেছে। কিন্তু বিদেশি ঋণ দিয়ে অর্থনীতির সব দুর্বলতা সারানো যাবে না। ঋণের অর্থ ব্যয় হয়ে গেলে আবার অর্থায়নের প্রয়োজন দেখা দিতে পারে, যদি এর মধ্যে রাজস্ব আয়, উৎপাদনশীলতা ও কর্মসংস্থানের ভিত্তি শক্তিশালী না হয়।

এ জন্য প্রথমেই রাজস্ব প্রশাসনে জবাবদিহি বাড়াতে হবে। ব্যাংক খাতে অনিয়মের তদন্ত ও ঋণ আদায়ের অগ্রগতি দৃশ্যমান করতে হবে। জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা আনতে হবে এবং ব্যবসার খরচ কমিয়ে বেসরকারি বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করতে হবে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর উদ্যোগ প্রয়োজন।

বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের নিজস্ব অগ্রাধিকারও তুলে ধরতে হবে। যে সংস্কার দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে, তা গ্রহণ করা দরকার; কিন্তু বাস্তবতা বিবেচনা না করে কোনো পদক্ষেপের তাৎক্ষণিক সামাজিক ব্যয় উপেক্ষা করা উচিত নয়। ঋণের শর্ত নিয়ে দর-কষাকষি এবং দেশের ভেতরে সংস্কার বাস্তবায়ন—দুটিই পাশাপাশি চালাতে হবে।

শেষ পর্যন্ত থাইল্যান্ড সম্মেলনে বাংলাদেশ কী পেল, তার উত্তর কেবল ডলারের অঙ্কে পাওয়া যাবে না। সম্মেলন থেকে অর্থায়নের সম্ভাবনা ও আলোচনার অগ্রগতি এসেছে। এখন দেখতে হবে, সরকার সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অর্থনীতির পুরোনো দুর্বলতা কাটাতে কতটা সক্ষম হয়। ঋণ সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে; কিন্তু টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন রাজস্বের শক্ত ভিত্তি, জবাবদিহিমূলক ব্যাংকব্যবস্থা, নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ এবং সাধারণ মানুষের জন্য সহনীয় অর্থনৈতিক পরিবেশ।

লেখক: বিজনেস এডিটর, প্রতিদিনের বাংলাদেশ 


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/20055 ,   Print Date & Time: Tuesday, 20 October 2026, 01:26:47 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh