![]()
ইবি রিপোর্ট
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের আগেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পন্ন করতে চায় সরকার। একই সঙ্গে আগামী বছরের মধ্যে আট থেকে ১০টি দেশের সঙ্গে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সেপা) বা এফটিএ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে বাণিজ্যসুবিধা ধরে রাখতে এসব চুক্তিকে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখছে সরকার।
সোমবার রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সম্মেলন কক্ষে ‘বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে এসব তথ্য জানান বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। ইআরএফ ও বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউট (বিএফটিআই) যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।
ইইউর সঙ্গে এফটিএ নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আলোচনার জন্য প্রধান আলোচক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রথম দফার কারিগরি আলোচনা শুরুর প্রস্তুতি চলছে। তবে আলোচনার দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের আগেই আলোচনা শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।
মন্ত্রী জানান, ইইউর বাজারে জিএসপি প্লাস সুবিধা পাওয়ার প্রস্তুতিও চলছে। তবে সরকারের আশা, এ সুবিধার প্রয়োজন হওয়ার আগেই এফটিএ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া ২০২৬ ও ২০২৭ সালের মধ্যে আট থেকে ১০টি দেশের সঙ্গে সেপা বা এফটিএ করার লক্ষ্য রয়েছে। এলডিসি উত্তরণের পর বিভিন্ন দেশের বাজারে বাণিজ্যসুবিধা বজায় রাখতে এসব চুক্তি সহায়ক হবে বলে মনে করছে সরকার।
আঞ্চলিক বাণিজ্য জোটে যোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া
আঞ্চলিক বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব (আরসিইপি) চুক্তিতে যোগ দেওয়ার প্রক্রিয়াও এগোচ্ছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন পাওয়া গেছে। এখন প্রক্রিয়াগত কাজ চলছে।
এদিকে এলডিসি থেকে উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর পেছানোর বিষয়ে চলতি অক্টোবরের মধ্যেই সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। মন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) ধাপ বাংলাদেশ পার করেছে। এখন জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদে (ইকোসক) তিন বছর সময় বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। ইইউসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছ থেকেও এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে।
প্রস্তুতির ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ
উত্তরণের সময় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রস্তুতি পর্যাপ্ত ছিল না। অর্থনৈতিক ও আর্থিক চ্যালেঞ্জের চেয়ে উত্তরণকে রাজনৈতিকভাবে মহিমান্বিত করার ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। উত্তরণের সুবিধা কাজে লাগানো এবং সম্ভাব্য অসুবিধা মোকাবিলার সক্ষমতা তৈরিতে যথেষ্ট মনোযোগ দেওয়া হয়নি।
তিনি জানান, বাড়তি সময় পাওয়া গেলে তা প্রস্তুতির কাজে ব্যবহারের জন্য সময়বদ্ধ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে এবং পরিকল্পনাটি ইইউকে জানানো হয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিনিয়োগ বাড়াতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ, সহজ ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া এবং বিরোধ নিষ্পত্তির স্বচ্ছ ব্যবস্থা প্রয়োজন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএফটিআইর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মোস্তফা আবিদ খান। তিনি এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশের সামনে তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। এগুলো হলো ডিএফকিউএফ বাজারসুবিধা হারানো, রপ্তানি ভর্তুকিতে নমনীয়তা কমে যাওয়া এবং বাণিজ্য-সম্পর্কিত মেধাস্বত্ববিষয়ক ট্রিপস চুক্তি বাস্তবায়নের প্রভাব।