• হোম > অর্থনীতি | আন্তর্জাতিক অর্থনীতি | বিশ্ব সংবাদ > যুক্তরাষ্ট্রের ঋণের সুদ বেড়ে ১ লাখ ৫ হাজার কোটি ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের ঋণের সুদ বেড়ে ১ লাখ ৫ হাজার কোটি ডলার

  • মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:০১
  • ১৪

---

ইবি আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সরকারি ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয় বাড়তে থাকায় দেশটির বাজেটের ওপর চাপ বাড়ছে। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে ঋণের নিট সুদ পরিশোধে দেশটির ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৮ শতাংশ বেশি। দৈনিক হিসাবে এ ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ২৯০ কোটি ডলার। বিপুল সরকারি ঋণ ও উচ্চ সুদহার এ ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া অর্থবছরে সরকারি ঋণের মোট সুদ ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি ডলারে। এ সময়ে গড় সুদহার ছিল ৩ দশমিক ৫৩ শতাংশ, যা ২০২০–২১ অর্থবছরের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি। ওই সময়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ দ্রুত সুদহার বাড়াতে শুরু করে।

বাজেট ঘাটতিও বেড়েছে

সরকারি সুদ ব্যয়ের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট ঘাটতিও বেড়েছে। গত অর্থবছরে দেশটির বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৯ হাজার কোটি ডলারে। আগের অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৭৮ হাজার কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরে ঘাটতি বেড়েছে ১২ শতাংশ।

এ সময়ে সরকারের রাজস্ব আয় ৩ শতাংশ বেড়ে ৫ লাখ ৪০ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে সরকারি ব্যয় ৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৪০ হাজার কোটি ডলারে। রাজস্ব আয়ের তুলনায় ব্যয় দ্রুত বাড়ায় বাজেট ঘাটতির পরিমাণও বেড়েছে।

মোট সুদ ব্যয় ও নিট সুদ ব্যয়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। মোট সুদ ব্যয় হলো সরকারি ঋণের বিপরীতে পরিশোধ করা সুদের অর্থ। আর নিট সুদ ব্যয় হিসাব করা হয় সুদ পরিশোধ থেকে সুদ বাবদ সরকারের পাওয়া আয় বাদ দিয়ে। ২০২৬ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের নিট সুদ ব্যয় ১ লাখ ৫ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছেছে।

দেশটির মোট সরকারি ঋণের পরিমাণ এখন ৪০ ট্রিলিয়ন বা ৪০ লাখ কোটি ডলার। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে থাকা সরকারি ঋণের পরিমাণও দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় সমান। সুদহার বেশি থাকলে এ বিপুল ঋণের বিপরীতে সরকারকে আরও বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়।

পুনঃঅর্থায়নে বাড়তে পারে ব্যয়

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বাজেট ঘাটতি মেটাতে স্বল্পমেয়াদি ঋণের ব্যবহার বাড়িয়েছেন। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি কিছু ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে। তবে স্বল্পমেয়াদি ঋণের মেয়াদ দ্রুত শেষ হওয়ায় সেগুলো নতুন করে নিতে হয়। বাজারে সুদহার বেশি থাকলে নতুন ঋণ নেওয়া কিংবা পুরোনো ঋণ পুনঃঅর্থায়নের খরচও বেড়ে যায়।

বর্তমানে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে থাকা সরকারি ঋণের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আগামী ১২ মাসের মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ হবে। এর পরিমাণ ১০ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি। ফলে এসব ঋণ নতুন করে নিতে বা পুনঃঅর্থায়ন করতে হবে। উচ্চ সুদহারের মধ্যে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সরকারের সুদ পরিশোধের ব্যয় আরও বাড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসনাল বাজেট অফিস (সিবিও) গত ফেব্রুয়ারিতে পূর্বাভাস দিয়েছিল, ২০৩৬ সালে দেশটির বার্ষিক সুদ ব্যয় বেড়ে ২ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে। তবে এরপর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম ও বন্ডের ইল্ড বেড়েছে। এতে আগের পূর্বাভাসের চেয়ে সুদ ব্যয় বেশি হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

দায়িত্বশীল বাজেট ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করা সংস্থা কমিটি ফর আ রেসপনসিবল ফেডারেল বাজেটের (সিআরএফবি) হিসাব অনুযায়ী, বন্ডের ইল্ড সিবিওর পূর্বাভাসের তুলনায় ১ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি থাকলে চলতি দশকের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক সুদ ব্যয় বেড়ে ২ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়াতে পারে।

প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর ওপর জোর

ঋণের চাপ সামলাতে অর্থমন্ত্রী বেসেন্ট অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন। তাঁর মতে, অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশে উন্নীত করা গেলে প্রবৃদ্ধির মাধ্যমেই ঋণের বোঝা সামলানো সম্ভব হবে। গত মাসে সাউদার্ন মেথডিস্ট ইউনিভার্সিটিতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধের পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি আবার গতি পেতে পারে।

তবে দেশটির বর্তমান প্রবৃদ্ধি এ লক্ষ্যের নিচে রয়েছে। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে, অর্থাৎ এপ্রিল-জুন সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ২ দশমিক ২ শতাংশ। ওয়াল স্ট্রিটের পূর্বাভাসে পুরো বছরের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকারি ব্যয় ও ঋণের সুদ পরিশোধের ক্রমবর্ধমান চাপ সামলে বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে আনাই যুক্তরাষ্ট্রের বড় চ্যালেঞ্জ। সুদহার দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে ঋণ পুনঃঅর্থায়নের ব্যয় বাড়বে। পাশাপাশি বাজেটের বড় অংশ সুদ পরিশোধে ব্যয় হলে অন্যান্য খাতে সরকারের ব্যয়ের সুযোগ সীমিত হতে পারে। তাই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর পাশাপাশি রাজস্ব আয় ও সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনাতেও পরিবর্তন আনার প্রয়োজন হতে পারে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/20027 ,   Print Date & Time: Tuesday, 20 October 2026, 10:11:56 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh