![]()
ইবি আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের সামরিক ঘাঁটি কিংবা পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র আবার হামলা চালালে অন্তত ৯টি দেশে পাল্টা আঘাত হানার হুমকি দিয়েছে তেহরান। সোমবার (১৯ অক্টোবর) ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির এক উপদেষ্টা এই সতর্কবার্তা দেন। আট মাস ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে নতুন এই হুঁশিয়ারিতে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
যুদ্ধের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, কোনো কারণ ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধ শুরু করেছিল। আট মাস পেরিয়ে গেলেও ওয়াশিংটন এখন সংঘাত থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র খুব শিগগিরই ইরানে তাদের কাজ শেষ করবে।
প্রণালিতে সৃষ্ট অস্থিতিশীলতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে ইরান। তবে দেশটির প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, আলোচনার মাধ্যমে আঞ্চলিক সমস্যার সমাধানে তেহরান প্রস্তুত রয়েছে। সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক মার্কিন দূতাবাস তাদের নাগরিকদের সতর্ক করেছে। ইরান কিংবা ইরান-সমর্থিত হুতিদের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় জারি করা হয়েছে জরুরি নিরাপত্তা সতর্কতা।
এদিকে সংকট নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির মঙ্গলবার তেহরান সফর করবেন। চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ সফর হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। একই সময়ে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীও ইরান সফরে রয়েছেন।
উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টায় যুক্ত হয়েছেন মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও। তিনি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে লেবাননের প্রেসিডেন্ট আউন অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েল ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি মেনে চলেনি। এ অভিযোগ আঞ্চলিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এই উত্তেজনার মধ্যেই ইয়েমেনের শবওয়া অঞ্চলে সরকারি একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। ওই হামলায় অন্তত ৫০ থেকে ৫৮ জন নিহত হয়েছেন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। হামলাটি সংঘাতের আঞ্চলিক বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে আসন্ন নির্বাচনে সমর্থন জানিয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত, পাল্টা হামলার হুমকি এবং কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি ট্রাম্পের এই অবস্থানও চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির অংশ হয়ে উঠেছে।
সব মিলিয়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত ঘিরে সামরিক হুঁশিয়ারি ও কূটনৈতিক তৎপরতা পাশাপাশি চলছে। একদিকে তেহরান সম্ভাব্য হামলার জবাবে একাধিক দেশে পাল্টা আঘাতের হুমকি দিয়েছে, অন্যদিকে বিভিন্ন দেশ আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছে।