![]()
ইবি বিনোদন ডেস্ক
বলিউড তারকা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনার পর মুম্বাইয়ে চলচ্চিত্র অঙ্গনের অন্য তারকাদের নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ। সালমান খান ও চলচ্চিত্র নির্মাতা রোহিত শেঠির বাড়ির বাইরে অতিরিক্ত পুলিশের গাড়ি মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে আমির খানের বান্দ্রার বাসভবনের আশপাশে বাড়ানো হয়েছে পুলিশের টহল।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। এ ঘটনার এক দিন পর সোমবার (১৯ অক্টোবর) অন্য তারকাদের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
মুম্বাই পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সালমান খান ও রোহিত শেঠির বাড়িতে আগে থেকেই নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল। তবে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, স্থানীয় থানার একটি পুলিশের গাড়ি এখন থেকে তাদের বাড়ির আশপাশে সার্বক্ষণিক নজরদারি করবে। নির্ধারিত কার্যপদ্ধতি (এসওপি) অনুসারে, কেউ হুমকির মুখে পড়লে তার নিরাপত্তাও বাড়ানো হবে। টাইগার শ্রফকেও পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে পাঁচটি গুলি ছোড়ার ঘটনায় অভিযুক্ত তিনজনকে সোমবার সকালে রাজস্থানের কোটায় পুনে-জয়পুর সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মুম্বাই পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সমন্বিত অভিযান চালিয়ে রাজস্থান পুলিশ তাদের আটক করে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গুলি চালানোর পর অভিযুক্তরা মুম্বাই ছেড়ে পালিয়ে যান। তাদের পরিকল্পনা ছিল দিল্লি হয়ে নেপালে যাওয়া। কোটার পুলিশ সুপার তেজস্বনী গৌতম জানান, অভিযুক্তদের অর্থের প্রলোভন দেখানো হয়েছিল। পাশাপাশি বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল।
তেজস্বনী গৌতম বলেন, অভিযুক্তরা অনিল পণ্ডিত নামে এক ব্যক্তির কথা জানিয়েছেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তদের একজন রেহান রহিসউদ্দিন এ চুক্তির অংশ হিসেবে ৩৭ হাজার রুপি পেয়েছিলেন। এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘তারা দিনমজুর হওয়ায় টাকার অঙ্কটি তাদের কাছে বেশ আকর্ষণীয় ছিল।’
পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং মাঝেমধ্যে বলিউড তারকাদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়, যাতে তাদের চাঁদা দিতে বাধ্য করা যায়। তাদের বক্তব্য, ১৯৯০-এর দশকে দাউদ ইব্রাহিম ও ছোটা রাজনের গ্যাংও একইভাবে চলচ্চিত্র অঙ্গনে ভীতি ছড়িয়ে ‘সুরক্ষা বাবদ অর্থ’ আদায় করত।
মুম্বাই পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী সঙ্গে না থাকায় টাইগার শ্রফ হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে থাকতে পারেন। তিনি বলেন, ‘তিনি নিরাপত্তারক্ষী ছাড়াই ফুটবল খেলতে গিয়েছিলেন। হামলাকারীরা হয়তো এটিকেই সুযোগ হিসেবে দেখেছিল। প্রচারের জন্য একজন তারকাকে লক্ষ্যবস্তু করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। তারা শুধু আতঙ্ক সৃষ্টি করতে চেয়েছিল, যাতে চাঁদাবাজি করতে পারে।’
পুলিশ জানিয়েছে, হামলার আগে টাইগার শ্রফের পক্ষ থেকে কোনো হুমকির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করা হয়নি।
মুম্বাই পুলিশ অভিযুক্তদের পরিচয় প্রকাশ করেছে। তারা হলেন ফুল সিং (১৮), হৃতিক মাহাতো (২২) ও রেহান রহিসউদ্দিন (১৮)। পুলিশের অভিযোগ, হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিলেন মাহাতো। অন্য দুজন শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালান। রেহান ও ফুল সিং দিনমজুর। মাহাতো গত এক বছর ধরে মুম্বাইয়ের আন্ধেরি এলাকায় র্যাপিডো বাইকচালক হিসেবে কাজ করছিলেন।
এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, মামলাটি মুম্বাই পুলিশের অপরাধ শাখার অ্যান্টি এক্সটরশন সেলের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এদিকে, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ বলেছেন, হামলায় আর কারা জড়িত এবং এর পেছনে কারা রয়েছে, তা শনাক্ত করতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে। তিনি বলেন, ‘কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’