• হোম > আন্তর্জাতিক | ইউরোপ | বিদেশ > দাঙ্গা-লুটপাটের জেরে প্যারিসসহ ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে কারফিউ

দাঙ্গা-লুটপাটের জেরে প্যারিসসহ ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে কারফিউ

  • মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০
  • ১৬

---

ইবি আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ফ্রান্সজুড়ে চলমান দাঙ্গা ও লুটপাটের ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাজধানী প্যারিসের কেন্দ্রীয় অংশসহ বিভিন্ন শহরে রাতের কারফিউ জারি করেছে সরকার। কয়েকটি এলাকায় জনসমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পুনরুদ্ধারে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিক্ষোভ থেকে শুরু হওয়া সহিংসতায় ব্যাপক ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশ সদস্য হতাহত হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, দাঙ্গা ও লুটপাটের ঘটনায় ফ্রান্সে আড়াই হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ভাঙচুর ও লুটপাটের কারণে সৃষ্ট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ কয়েক শ মিলিয়ন ইউরো ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।

চলমান আন্দোলনে ফ্রান্সজুড়ে প্রায় পাঁচ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির দাম এবং জনসেবার অবনতির প্রতিবাদে এই আন্দোলনের সূচনা হয়। পরে বিক্ষোভ বিভিন্ন স্থানে সহিংস রূপ নেয়। একপর্যায়ে বিভিন্ন শহরে গাড়ি ও ভবনে আগুন দেওয়া এবং দোকানপাটে লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষকে বিভিন্ন ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করতে হয়েছে।

রাজধানী প্যারিসের প্লাস দ্য লা রিপাবলিক ও লে আল শপিং এলাকায় স্থানীয় সময় রাত ১১টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ কার্যকর করা হয়েছে। এ ছাড়া মার্সেই, বোর্দো, নিস, লিওঁ ও লিলসহ অন্যান্য শহরেও বিভিন্ন ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করেছে প্রশাসন। এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য চলমান সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু জানিয়েছেন, দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর পুনরুদ্ধারে সরকার অর্থ বরাদ্দ দেবে। তবে সহিংসতার জন্য দায়ীদের কাছ থেকেও ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যবস্থা করা হবে। পরিস্থিতির অবনতি হলে জরুরি অবস্থা জারির সম্ভাবনাও তিনি নাকচ করেননি।

এদিকে সহিংসতায় দুই হাজারের বেশি দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফ্রান্সের চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রধান আলাঁ দি ক্রেসেনজো জানিয়েছেন, এসব ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ কয়েক শ মিলিয়ন ইউরো হতে পারে। ভাঙচুর ও লুটপাটের কারণে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষতির পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পুনরুদ্ধারের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

দাঙ্গা মোকাবিলায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ স্বীকার করেছেন, কয়েকটি শহরে পুলিশ পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল। এ ঘটনার পর তিনি পদত্যাগের প্রস্তাব দিলেও প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো তা প্রত্যাখ্যান করেন।

সব মিলিয়ে ফ্রান্সে চলমান সহিংসতা মোকাবিলায় একদিকে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় কারফিউ, জনসমাবেশে নিষেধাজ্ঞা এবং দায়ীদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে রয়েছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/19991 ,   Print Date & Time: Tuesday, 20 October 2026, 08:13:53 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh