• হোম > জাতীয় | বাংলাদেশ | শিক্ষা > প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে পাঁচ বিষয়ে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে পাঁচ বিষয়ে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার

  • সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:৩৩
  • ২৬

---

ইবি রিপোর্ট

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে কারিকুলাম, শিক্ষক, তদারকি, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি—এই পাঁচটি ক্ষেত্রকে অগ্রাধিকার দিয়ে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে সরকার। পাশাপাশি ২০২৮ সালে নতুন কারিকুলাম চালুর প্রস্তুতিও চলছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, শিক্ষাব্যবস্থার একটি অংশে পরিবর্তন এনে অন্য ক্ষেত্রগুলো উপেক্ষা করলে প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যাবে না। তাই মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতামতের ভিত্তিতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল শেরাটনে ‘ফ্রম দ্য ফিল্ড টু রিফর্ম: অ্যাডভান্সিং প্রাইমারি এডুকেশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং ইউনিসেফ যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার প্রতিটি ক্ষেত্র পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। একটি ক্ষেত্রে উন্নয়ন ঘটিয়ে অন্য ক্ষেত্রগুলোকে অবহেলা করলে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়। এ কারণে সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনার সময় মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, গত কয়েক মাসে প্রাথমিক শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তা, তদারকি কর্মকর্তা ও প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে ৬০ ঘণ্টার বেশি আলোচনা হয়েছে। তিন হাজারের বেশি অংশীজনের মতামত ও অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৭০০-এর বেশি তদারকি কর্মকর্তা এবং দেড় হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষকের মতামত নেওয়া হয়েছে। এসব আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষার বিদ্যমান সমস্যা, অগ্রাধিকার এবং সম্ভাব্য সমাধান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেছে।

নতুন কারিকুলাম সম্পর্কে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ফলভিত্তিক ও শিশুবান্ধব শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। বাংলা, গণিত ও ইংরেজিতে দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি খেলনাভিত্তিক শিক্ষা, ডিজিটাল কনটেন্ট এবং ব্যবহারিক শিখন কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন বিদ্যালয়ের মধ্যে শিখন-সময়ের বৈষম্য কমানো এবং সরকারি-বেসরকারি সব প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় মানদণ্ড নির্ধারণের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে নিয়োগ, চাকরির আগের প্রশিক্ষণ, পদায়ন, পেশাগত উন্নয়ন ও মূল্যায়নকে সমন্বিত করে শিক্ষক নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে বলে জানান ববি হাজ্জাজ। তাঁর মতে, প্রশিক্ষণের পাশাপাশি শিক্ষকদের নিয়মিত পেশাগত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষক প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলো কার্যকর করা এবং শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের মূল্যায়ন পৃথক রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে শ্রেণিকক্ষ, আসবাবপত্র, শৌচাগার ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা শিশুদের উপযোগী করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। নদীভাঙনপ্রবণ এলাকা ও পাহাড়ি অঞ্চলের ভৌগোলিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো নির্মাণের কথাও বলেন তিনি। প্রযুক্তির ব্যবহার এমনভাবে নিশ্চিত করতে হবে, যাতে শিক্ষকদের কাজ সহজ হয় এবং শিক্ষার্থীদের শেখার মান বাড়ে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মান বাড়ানো ও শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া ঠেকাতে অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষকদের মর্যাদা, বেতন-ভাতা এবং পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে হবে।

তিনি জানান, শিক্ষা খাতে পর্যায়ক্রমে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। প্রথম অর্থবছরেই এ খাতে ২ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, আগামী দুই বছরে নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়নের প্রস্তুতির পাশাপাশি শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, শিক্ষকস্বল্পতা দূর করা এবং তাঁদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের দলগত আলোচনা ও পারস্পরিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে শেখার সুযোগ বাড়ানোর ওপরও জোর দেন তিনি। তাঁর মতে, পাঠ্যবিষয়ের ব্যাপ্তির চেয়ে শেখার গভীরতা ও গুণগত মানকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. মোক্তার আলী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য রেজা কিবরিয়া ও বীথিকা বিনতে হোসাইন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী গিয়াস উদ্দিন এবং গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/19975 ,   Print Date & Time: Monday, 19 October 2026, 01:52:18 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh