• হোম > অর্থনীতি | জাতীয় | দেশজুড়ে > আইপিও বিধিমালায় বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব বিএসইসির

আইপিও বিধিমালায় বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব বিএসইসির

  • সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:১৩
  • ২৩

---

ইবি রিপোর্ট

পুঁজিবাজারে নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) বিধিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে আইপিওর আগে কোম্পানির আর্থিক তথ্য যাচাই বাধ্যতামূলক করা, নতুন শেয়ার ইস্যুর পাশাপাশি বিদ্যমান শেয়ার বিক্রির সুযোগ, শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ ও বরাদ্দ পদ্ধতি এবং লক-ইন বিধানে পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে।

গতকাল ২০২৫ সালের পাবলিক অফার অব ইকুইটি সিকিউরিটিজ রুলস সংশোধনের খসড়া প্রকাশ করে জনমত আহ্বান করেছে কমিশন। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখ থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের মতামত, পরামর্শ ও আপত্তি জমা দিতে বলা হয়েছে।

খসড়া অনুযায়ী, আইপিও আবেদনের আগে বিএসইসির অনুমোদিত প্যানেল থেকে নিয়োগ করা নিরীক্ষকের মাধ্যমে কোম্পানির আর্থিক ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করাতে হবে। এ যাচাইয়ের আওতায় থাকবে আর্থিক বিবরণী, আয়, পাওনা-দেনা, মজুদ পণ্য, স্থায়ী সম্পদ, ঋণ, সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে লেনদেন, কর পরিপালন, করপোরেট গভর্ন্যান্স, শেয়ারহোল্ডিং কাঠামো এবং প্রসপেক্টাসে প্রকাশিত তথ্য। যাচাই প্রতিবেদনটি বিধিবদ্ধ নিরীক্ষা প্রতিবেদন থেকে আলাদাভাবে প্রসপেক্টাসে যুক্ত করতে হবে।

মূলধন ও শেয়ার ছাড়ার শর্ত

বিদ্যমান বিধিমালায় আইপিওর আগে পরিশোধিত মূলধন কমপক্ষে ৩০ কোটি টাকা এবং আইপিও-পরবর্তী পরিশোধিত মূলধন কমপক্ষে ৫০ কোটি টাকা রাখার শর্ত রয়েছে। সাধারণভাবে আইপিও-পরবর্তী মূলধনের অন্তত ১০ শতাংশ শেয়ার ছাড়তে হয়। প্রস্তাবিত সংশোধনীতেও এসব শর্ত বহাল রাখার কথা বলা হয়েছে।

তবে আইপিওর আগে কোনো কোম্পানির নিট সম্পদমূল্য অন্তত ৫০০ কোটি টাকা হলে, সে ক্ষেত্রে আইপিওতে ৫ থেকে ১০ শতাংশ শেয়ার ছাড়ার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

খসড়ায় নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন কোম্পানির জন্য আইপিওর পাশাপাশি অফার ফর সেল (ওএফএস) চালুর বিধানও যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নতুন শেয়ার ইস্যুর পাশাপাশি বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডাররা নিজেদের শেয়ার বিক্রি করতে পারবেন।

নির্দিষ্ট শ্রেণির বিদেশি মালিকানাধীন ও বিটিআরসি-নিবন্ধিত কোম্পানির ক্ষেত্রে অন্তত ৩০০ কোটি টাকা নিট সম্পদমূল্য অথবা ৫০০ কোটি টাকার বেশি বার্ষিক টার্নওভার কিংবা মোট সম্পদের শর্ত রাখার প্রস্তাব রয়েছে। এ ব্যবস্থায় নতুন শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে অন্তত ৫ শতাংশ এবং আইপিও ও ওএফএস মিলিয়ে মোট অন্তত ১০ শতাংশ শেয়ার ছাড়তে হবে।

মূল্য নির্ধারণ ও বরাদ্দে পরিবর্তন

শেয়ারের মূল্য নির্ধারণে ইস্যুয়ার ও ইস্যু ম্যানেজারকে অন্তত চারটি মূল্যায়ন পদ্ধতি ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছে বিএসইসি। এর মধ্যে দুটি অ্যাবসলিউট এবং দুটি রিলেটিভ পদ্ধতি থাকতে হবে।

বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দ করা শেয়ার যে সর্বনিম্ন দরে সম্পূর্ণ সাবস্ক্রাইব হবে, সেই দরকে ভিত্তি করে কাট-অফ মূল্য নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। সফল দরদাতারা নিজেদের প্রস্তাবিত দরেই শেয়ার পাবেন। একই দরে শেয়ারের চাহিদা বরাদ্দের পরিমাণ ছাড়িয়ে গেলে আনুপাতিক হারে শেয়ার বণ্টন করা হবে।

বিনিয়োগকারী শ্রেণিভিত্তিক বরাদ্দেও পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। ফিক্সড-প্রাইস পদ্ধতিতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ৬৫ শতাংশ এবং বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে ৪০ শতাংশ শেয়ার বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে। বুক বিল্ডিংয়ে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দ থাকবে ৩৫ শতাংশ।

অর্থ ব্যবহারে সীমা, লক-ইনে পরিবর্তন

আইপিও থেকে সংগৃহীত অর্থের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ ঋণ বা বিনিয়োগ পরিশোধে ব্যবহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ঋণ প্রকল্প বাস্তবায়ন কিংবা আধুনিকায়ন, পুনর্বাসন ও সম্প্রসারণের কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকলে এ অর্থ ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি আইপিওর সাবস্ক্রিপশন অর্থ পৃথক এসক্রো হিসাবে রাখার বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে।

যোগ্য বিনিয়োগকারীদের বরাদ্দ পাওয়া শেয়ারের ক্ষেত্রে লক-ইন বিধানেও পরিবর্তন আনার প্রস্তাব দিয়েছে কমিশন। খসড়া অনুযায়ী, তাঁরা প্রথম লেনদেনের দিন বরাদ্দ পাওয়া শেয়ারের ৫০ শতাংশ বিক্রি করতে পারবেন। বাকি শেয়ারের একাংশ ৬০ দিন এবং অবশিষ্টাংশ ৯০ দিনের জন্য লক-ইনে রাখার প্রস্তাব রয়েছে।

প্রস্তাবগুলো এখনো খসড়া পর্যায়ে রয়েছে। জনমত গ্রহণের পর সংশোধনীর বিষয়ে কমিশনের পরবর্তী সিদ্ধান্তে আইপিওর নতুন বিধানগুলো চূড়ান্ত হবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/19971 ,   Print Date & Time: Monday, 19 October 2026, 01:01:13 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh