• হোম > অর্থনীতি | এক্সক্লুসিভ | জাতীয় | বাংলাদেশ > দুই বছরের মধ্যে জ্বালানিসংকট কাটার আশা অর্থমন্ত্রীর

দুই বছরের মধ্যে জ্বালানিসংকট কাটার আশা অর্থমন্ত্রীর

  • সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:৫৫
  • ২৮

---

ইবি রিপোর্ট

আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের জ্বালানিসংকট কাটিয়ে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরিয়ে আনার আশা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী, তৃতীয় বছরে অর্থনীতি গতি পাবে এবং চতুর্থ ও পঞ্চম বছরে গিয়ে পূর্ণমাত্রায় ঘুরে দাঁড়াবে।

সোমবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে টেকসই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এক বা দুই দিনের মধ্যে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে—এমন প্রত্যাশা তৈরি করে জনগণকে ভুল আশা দেওয়া উচিত নয়। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, জ্বালানি খাতসহ সামগ্রিক অর্থনীতিকে স্থিতিশীল পর্যায়ে আনতে অন্তত দুই বছর সময় প্রয়োজন। এরপর তৃতীয় বছরে অর্থনীতির গতি বাড়বে এবং চতুর্থ ও পঞ্চম বছরে তা পূর্ণমাত্রায় ঘুরে দাঁড়াবে। এর চেয়ে দ্রুত ফল পাওয়ার আশ্বাস দেওয়া ঠিক হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও জ্বালানি পরিস্থিতি তুলে ধরে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ এখন আর শুধু পৃথক খাত নয়; এগুলো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রে রয়েছে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় জ্বালানিসংকটের মুখে পড়তে হয়েছে। এর সঙ্গে আগের সরকারের রেখে যাওয়া বিপুল দেনা ও দায়ও যুক্ত হয়েছে।

উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সমস্যাগুলো নিয়ে বারবার কথা বলতে চান না জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এসব বিষয় তুলে ধরলে অজুহাত দেওয়ার মতো মনে হতে পারে। তবে বিভিন্ন খাতে বড় ঘাটতি ছিল এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় বেশি হওয়া এবং ব্যবসা সহজ করার সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান নিম্নমুখী থাকার বিষয়টিও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তাঁর মতে, দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণনির্ভর ব্যবস্থায় চলার কারণে এখন সেই নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ।

এনবিআর সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি জানান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে দুটি পৃথক সংস্থায় রূপান্তর করা হচ্ছে। এর একটি নীতিমালা তৈরি করবে, অন্যটি তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করবে। বিভিন্ন বাধা থাকা সত্ত্বেও সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান তিনি।

জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় নিজস্ব গ্যাসসম্পদ অনুসন্ধানের ওপর জোর দেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, এক থেকে দেড় দশক ধরে দেশে নিজস্ব গ্যাসসম্পদের অনুসন্ধান করা হয়নি। এখন এ খাতে কাজ করাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, বাপেক্সের মাধ্যমে ৫০টি নতুন কূপ খননের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উৎপাদন অংশীদারত্ব চুক্তি বা পিএসসি চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। স্থলভাগ ও সমুদ্র—উভয় অঞ্চলেই গ্যাস অনুসন্ধান করা হবে।

এ ছাড়া অন্তত ১০ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। সৌরবিদ্যুতের অবকাঠামোর ওপর সব ধরনের কর ছাড় দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ব্যাংকিং খাতের পরিস্থিতি তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশ থেকে প্রায় ২৩৫ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়ে যাওয়ার কারণে ব্যাংক খাত ও পুঁজিবাজার বড় ধরনের ধসের মুখে পড়েছিল। তবে বর্তমানে ব্যাংকিং খাত পুনরুদ্ধারের পথে রয়েছে এবং পুঁজিবাজারেও ইতিবাচক লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যে অতিরিক্ত সাত বিলিয়ন ডলার বেরিয়ে গেছে। সামনে আরও কী পরিস্থিতি তৈরি হবে, তা এখনো জানা নেই।

সম্প্রতি নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ওয়াল স্ট্রিটের ১৬ জন বিশ্বমানের বিনিয়োগকারীর একটি বৈঠক হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। ওই বৈঠকে প্রায় ৩৬ ট্রিলিয়ন ডলারের তহবিলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা বাংলাদেশের ব্যাংক খাত, বন্ড মার্কেট ও পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন শেভরন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শু জিওং, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ম তামিম, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক নাজনীন আহমেদ এবং এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হক। আলোচনা সঞ্চালনা করেন এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব উর রহমান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন এফআইসিসিআইয়ের সভাপতি রূপালী চৌধুরী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/19967 ,   Print Date & Time: Monday, 19 October 2026, 12:58:50 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh