![]()
ইবি রিপোর্ট
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং শিক্ষা-গবেষণায় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেছেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। এ লক্ষ্যে সোমবার সকালে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে পাকিস্তান হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার মুহাম্মাদ ওয়াসিফ এবং পলিটিক্যাল কাউন্সেলর কামরান দাংগাল উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর বৈঠকে অংশ নেন।
জামায়াত সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের পাশাপাশি ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক গড়ে তোলার সম্ভাবনাও আলোচনায় স্থান পায়।
বৈঠকে পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার বলেন, ‘বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার সম্পর্ককে ভবিষ্যৎমুখী দৃষ্টিভঙ্গিতে আরও এগিয়ে নিতে তারা আগ্রহী।’
সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক ইতিবাচক ধারায় এগোচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ বেড়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে একাধিক সফরও অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব যোগাযোগের ধারাবাহিকতায় দুই দেশের সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
বৈঠকে হাইকমিশনার বিরোধীদলীয় নেতাকে নোলেজ করিডোর প্রকল্পের চলমান কার্যক্রম সম্পর্কেও অবহিত করেন। এ ছাড়া বাংলাদেশের শিক্ষাবিদদের একটি প্রতিনিধিদলের সাম্প্রতিক পাকিস্তান সফরের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। সফরকালে প্রতিনিধিদলটি পাকিস্তানের উন্নত শিক্ষা কাঠামো ও শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে এবং এ বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। একই সঙ্গে শিক্ষা ও গবেষণায় পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো, সাংস্কৃতিক বিনিময় জোরদার এবং দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরির সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।
আলোচনায় দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও উঠে আসে। পারস্পরিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখা এবং সম্পর্ক উন্নয়নে ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনার মধ্য দিয়ে বৈঠকটি শেষ হয়।