![]()
ইবি আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় কমানোর দাবিতে তিউনিসিয়ার রাজধানী তিউনিসে বিক্ষোভ করেছেন হাজারো মানুষ। গতকাল শনিবার অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচি থেকে প্রেসিডেন্ট কাইস সাইদের পদত্যাগও দাবি করেন বিক্ষোভকারীরা।
দেশটির প্রভাবশালী শ্রমিক ইউনিয়ন ইউজিটিটি, বিভিন্ন নাগরিক সমাজের সংগঠন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর যৌথ উদ্যোগে এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা গণমিছিল নিয়ে রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। এ সময় তাঁরা সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। একই সঙ্গে দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, নাগরিক অধিকার রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর দাবি জানান তাঁরা।
বিক্ষোভের মিছিলে পিপলস মুভমেন্ট, এন্নাহদা মুভমেন্ট ও ন্যাশনাল স্যালভেশন ফ্রন্টসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা অংশ নেন। তাঁদের সঙ্গে শ্রমিক ইউনিয়ন এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও কর্মসূচিতে যোগ দেন। মিছিল থেকে প্রেসিডেন্ট কাইস সাইদের পদত্যাগের দাবিও তোলা হয়।
গণমিছিল শেষে মিউনিসিপ্যাল থিয়েটারের সামনে একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বক্তব্য দেন শ্রমিক ইউনিয়ন ইউজিটিটির সাধারণ সম্পাদক সালাহ উদ্দিন সালমি। তিনি বলেন, সরকার যদি আলোচনার পথ বন্ধ করে দেয়, তাহলে রাজপথ ও চত্বরগুলোই প্রতিবাদের প্রধান মঞ্চ হয়ে উঠবে।
সালমি তিউনিসিয়ার মানুষের অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষায় দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘দেশে মানুষের অধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে। তিউনিসিয়াকে কোনো একজন ব্যক্তির শাসনে চলতে দেওয়া যায় না। এমন একটি সরকারের হাতে দেশ ছেড়ে দেওয়া যায় না, যারা জনগণের কথা শোনে না।’
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা রাজনৈতিক অধিকার ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের উদ্বেগের কথাও তুলে ধরেন। তাঁদের অভিযোগ, দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিসর ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে এবং মৌলিক স্বাধীনতার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মুনির জেলাসি তাঁর বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, প্রথমত, দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দিন দিন কমে আসছে। মৌলিক স্বাধীনতার ওপরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, চলমান অর্থনৈতিক সংকট সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে।
জেলাসির ভাষ্য অনুযায়ী, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে সাধারণ মানুষের পক্ষে স্বাভাবিক জীবনযাপন করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপও বিক্ষোভের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে।
বিক্ষোভকারীদের দাবির মধ্যে রয়েছে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, নাগরিক অধিকার রক্ষা, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং প্রেসিডেন্ট কাইস সাইদের পদত্যাগ। শ্রমিক ইউনিয়ন, নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে এসব দাবি তুলে ধরা হয়।