![]()
ইবি রিপোর্ট
স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের সংস্কারের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের বিদেশমুখী জীবনযাপন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। একই সঙ্গে নির্বাচনের ফলাফল, গণভোট এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ করেছেন তিনি।
রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘যারা স্বাস্থ্য সংস্কারের দায়িত্বে তারা চিকিৎসা নেয় বিদেশে। যারা শিক্ষাখাতকে সংস্কার করতে চায় তাদের ছেলেমেয়েরা পড়ে বিদেশে।’
স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের সংস্কারের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা করে তিনি এ মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্যে সংশ্লিষ্ট খাতগুলোর সংস্কারের দায়িত্ব পালনকারীদের নিজেদের চিকিৎসা এবং সন্তানদের শিক্ষার জন্য বিদেশের ওপর নির্ভরতার বিষয়টি উঠে আসে।
বক্তব্যে দেশের নির্বাচনপ্রক্রিয়া নিয়েও সমালোচনা করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ তুলে বিএনপির বিরুদ্ধে নির্বাচনের ফলাফল চুরির অভিযোগ করেন।
হাসনাত বলেন, ‘বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ভোট চুরি করেছে, আর বিএনপি নির্বাচনের ফলাফল চুরি করেছে। নির্বাচের পর তারা অর্ধেক ফল মেনে নিয়েছে আর অর্ধেক মানেনি। যে অর্ধেকে বিরোধীরা জিতেছে তা তারা মানতে পারেনি।’
তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনের পর বিএনপি নিজেদের অনুকূলে থাকা ফলাফল মেনে নিলেও বিরোধীদের পক্ষে যাওয়া ফলাফল গ্রহণ করেনি। এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে দলটির অবস্থানের সমালোচনা করেন।
হাসনাত আবদুল্লাহর অভিযোগ, নিজেদের পক্ষে যাওয়া নির্বাচনী ফলাফল মেনে নিলেও বিএনপি গণভোটের ফলাফল গ্রহণ করেনি। পাশাপাশি দলটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথও নেয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব পদক্ষেপের ফলে জুলাই সনদ কার্যকারিতা হারিয়ে অলংকারে পরিণত হয়েছে। সনদটি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের কথা বলা হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
হাসনাত আরও অভিযোগ করেন, গত সাত মাসে বিএনপি ১৭ বার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি এবং পরবর্তী কার্যক্রমের মধ্যে অসংগতি রয়েছে বলে তাঁর বক্তব্যে দাবি করা হয়।
অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে হাসনাত আবদুল্লাহ স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের সংস্কার, নির্বাচনী ফলাফল গ্রহণ, গণভোট এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন—এই বিষয়গুলোতে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। এসব বিষয়ে বিএনপির ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে তিনি দলটির বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করার অভিযোগও করেন।
তিনি বলেন, গণভোটের ফলাফল গ্রহণ না করা এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ার কারণে জুলাই সনদের কার্যকারিতা ক্ষুণ্ন হয়েছে। পাশাপাশি গত সাত মাসে ১৭ বার জনগণের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ তুলে তিনি দলটির কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন।