• হোম > অর্থনীতি | জাতীয় | পুঁজিবাজার > মুনাফা বাড়ল তিন ব্যাংকের, তবু আইনি চাপে ইয়েস ব্যাংক

মুনাফা বাড়ল তিন ব্যাংকের, তবু আইনি চাপে ইয়েস ব্যাংক

  • রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:৫৮
  • ২২

---\

ইবি রিপোর্ট

ভারতের বেসরকারি খাতের তিন ব্যাংক—ইয়েস ব্যাংক, আইসিআইসিআই ব্যাংক ও অ্যাক্সিস ব্যাংক—২০২৬-২৭ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে মুনাফায় প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। ঋণের চাহিদা বৃদ্ধি, সুদ আয় বাড়া এবং খেলাপি ঋণের বিপরীতে সংস্থান কমে আসা এ প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। তবে পরিচালন ব্যয় ও অন্যান্য আয় কমে যাওয়ায় অ্যাক্সিস ব্যাংকের মুনাফা বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। অন্যদিকে, আদালতের একটি রায়ের আর্থিক প্রভাব হিসাবভুক্ত না করায় ইয়েস ব্যাংকের প্রকৃত আর্থিক অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) প্রকাশিত ব্যাংকগুলোর দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক ফলাফলের বরাতে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

পূর্বাভাস ছাড়িয়েছে আইসিআইসিআই ব্যাংক

তিন ব্যাংকের মধ্যে আইসিআইসিআই ব্যাংক বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছাড়িয়ে মুনাফা করেছে। জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ব্যাংকটির একক নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৮৪৩ কোটি রুপি, যা আগের বছরের একই সময়ের ১২ হাজার ৩৫৯ কোটি রুপির তুলনায় ২০ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছিল ১৪ হাজার ২৫১ কোটি রুপি।

এ সময়ে ব্যাংকটির নিট সুদ আয় ১৭ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ২৫ হাজার ৩৩৯ কোটি রুপিতে পৌঁছেছে। মোট ঋণ বিতরণ বেড়েছে ৩০ শতাংশ এবং আমানত বেড়েছে ২৭ দশমিক ১ শতাংশ।

তবে নিট সুদ মার্জিন আগের প্রান্তিকের ৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে কমে ৪ দশমিক ১৮ শতাংশ হয়েছে। অন্যদিকে, খেলাপি ঋণ ও সম্ভাব্য ক্ষতির বিপরীতে সংস্থান ৬ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ৮৫১ কোটি রুপিতে দাঁড়িয়েছে। সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংকটির মোট খেলাপি ঋণের অনুপাত ১ দশমিক ২০ শতাংশে নেমেছে, যা আগের প্রান্তিকে ছিল ১ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

মুনাফা বাড়লেও প্রত্যাশা পূরণ হয়নি অ্যাক্সিস ব্যাংকের

সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে অ্যাক্সিস ব্যাংকের একক নিট মুনাফা হয়েছে ৭ হাজার ৩ কোটি রুপি। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ৫ হাজার ৯০ কোটি রুপি। অর্থাৎ এক বছরে মুনাফা বেড়েছে ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ।

ব্যাংকটির নিট সুদ আয় ১১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১৫ হাজার ৩৭১ কোটি রুপিতে দাঁড়িয়েছে। ঋণ বেড়েছে ২৩ শতাংশ এবং আমানত ২০ দশমিক ৭ শতাংশ।

তবে বন্ডসহ অন্যান্য উৎস থেকে আয় ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৬ হাজার ৫৩১ কোটি রুপিতে নেমেছে। পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধিও মুনাফার ওপর চাপ তৈরি করেছে। এ সময়ে খেলাপি ঋণ ও সম্ভাব্য ক্ষতির বিপরীতে সংস্থান ৫২ দশমিক ২ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬৯৪ কোটি রুপিতে দাঁড়িয়েছে। সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংকটির মোট খেলাপি ঋণের অনুপাত আগের প্রান্তিকের ১ দশমিক ২৮ শতাংশ থেকে কমে ১ দশমিক ১৬ শতাংশ হয়েছে।

ইয়েস ব্যাংকের মুনাফায় আদালতের রায়ের ছায়া

ইয়েস ব্যাংকের দ্বিতীয় প্রান্তিকের নিট মুনাফা আগের বছরের তুলনায় ৬৫ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৮০ কোটি রুপিতে দাঁড়িয়েছে। গত বছরের একই সময়ে ব্যাংকটির মুনাফা ছিল প্রায় ৬৫৫ কোটি রুপি। বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছিল ৯৫৫ কোটি রুপি।

তবে এ ফলাফলে বড় ধরনের আইনি অনিশ্চয়তা রয়েছে। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি ২০২০ সালে ব্যাংকটির ৮ হাজার ৪০০ কোটি রুপির অতিরিক্ত প্রথম স্তরের মূলধনী বন্ড বাতিলের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করেছে। আদালতের রায়ের আর্থিক প্রভাব দ্বিতীয় প্রান্তিকের হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করেনি ব্যাংকটি।

ইয়েস ব্যাংকের ভাষ্য অনুযায়ী, আদালতের সিদ্ধান্তের প্রভাব হিসাবভুক্ত করা হলে দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৫ হাজার ২১৭ কোটি রুপির নিট লোকসান হতো। রায় বাস্তবায়নের পদ্ধতি ও সময় নির্ধারণসহ সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপ পর্যালোচনা করছে ব্যাংকটি। প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টে আরও আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।

রায়ের প্রভাব সমন্বয় করা হলে ব্যাংকটির নিট সম্পদ ৫৩ হাজার ২৬৮ কোটি রুপি থেকে কমে ৪৬ হাজার ৯৭০ কোটি রুপিতে দাঁড়াতে পারে। একই সঙ্গে ঋণের পরিমাণ ৭৭ হাজার ৭৩৪ কোটি রুপি থেকে বেড়ে ৮৬ হাজার ১৪৯ কোটি রুপিতে পৌঁছাতে পারে। তবে ব্যাংকটির মোট মূলধন পর্যাপ্ততার অনুপাত ১৪ দশমিক ৫ শতাংশে অপরিবর্তিত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে, ইয়েস ব্যাংকের নিট সুদ আয় ২২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৮২২ কোটি রুপিতে দাঁড়িয়েছে। ঋণ বিতরণ বেড়েছে ২৩ দশমিক ৭ শতাংশ এবং আমানত ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ। খেলাপি ঋণ ও সম্ভাব্য ক্ষতির বিপরীতে সংস্থান ২৪ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৩১৭ কোটি রুপিতে নেমেছে। সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংকটির মোট খেলাপি ঋণের অনুপাত ১ দশমিক ২০ শতাংশ, যা জুন শেষে ছিল ১ দশমিক ৩০ শতাংশ।

তিন ব্যাংকের ফলাফলে ঋণ ও আমানত বৃদ্ধির পাশাপাশি খেলাপি ঋণের বিপরীতে সংস্থান কমে আসার প্রভাব দেখা গেছে। তবে অ্যাক্সিস ব্যাংকের ক্ষেত্রে পরিচালন ব্যয় ও অন্যান্য আয় এবং ইয়েস ব্যাংকের ক্ষেত্রে আদালতের রায়ের আর্থিক প্রভাব বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/19858 ,   Print Date & Time: Sunday, 18 October 2026, 10:32:56 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh