![]()
ইবি রিপোর্ট
ব্যবসা শুরু করতে জামানতবিহীন অর্থায়নের সুযোগ নিতে দেশের আট জেলার ১৮ হাজার ৪৪৪ জন তরুণ আবেদন করেছেন। তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গঠিত ৫০০ কোটি টাকার তহবিলের আওতায় এসব আবেদন জমা পড়েছে। পরীক্ষামূলক পর্যায়ে বিপুলসংখ্যক তরুণের সাড়া পাওয়ার পর এবার সারা দেশে আবেদন গ্রহণের পরিকল্পনা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি’ বা ‘উদ্যোগ’ প্রকল্পের আওতায় গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত আট জেলার তরুণদের কাছ থেকে আবেদন নেওয়া হয়। দেশের আট বিভাগের একটি করে জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে এ কার্যক্রম চালানো হয়েছে।
আবেদনের সংখ্যায় এগিয়ে রয়েছে নেত্রকোনা। এ জেলা থেকে ৫ হাজার ৩৫১ জন তরুণ অর্থায়নের জন্য আবেদন করেছেন। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা রংপুরে আবেদন জমা দিয়েছেন ২ হাজার ৭৪৫ জন। নওগাঁ থেকে ২ হাজার ৪৫৬ জন, ঝিনাইদহ থেকে ২ হাজার ১৯১ জন, হবিগঞ্জ থেকে ১ হাজার ৫৫২ জন, ভোলা থেকে ১ হাজার ৫৪৫ জন, মানিকগঞ্জ থেকে ১ হাজার ৩৪৩ জন এবং ফেনী থেকে ১ হাজার ২৬১ জন আবেদন করেছেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে সাড়া পাওয়ায় আট জেলার বাইরে অন্যান্য জেলার তরুণদের কাছ থেকেও আবেদন নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ জন্য আগামী ১ থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে। আগ্রহী তরুণেরা নিজ নিজ উপজেলার যেকোনো ব্যাংকের শাখায় আবেদন করতে পারবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই কর্মসূচির আওতায় দেশের ৫০৩টি উপজেলার ৫ হাজার ৩০ জন তরুণ উদ্যোক্তাকে অর্থায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য গঠিত ৫০০ কোটি টাকার তহবিলের অর্ধেক, অর্থাৎ ২৫০ কোটি টাকা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাকি ২৫০ কোটি টাকা দেবে সহযোগী বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো।
প্রতিজন উদ্যোক্তার জন্য ১০ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়নের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর একটি অংশ অনুদান হিসেবে দেওয়া হবে। বাকি অর্থ ৪ থেকে ৭ শতাংশ সুদে ঋণ হিসেবে নিতে পারবেন নির্বাচিত উদ্যোক্তারা। ফলে ব্যবসা শুরু বা সম্প্রসারণের জন্য যাঁদের প্রয়োজনীয় জামানত নেই, তাঁদের জন্য এই কর্মসূচিতে অর্থায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে।
তবে এ সুবিধা পেতে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে। আবেদন জমার শেষ দিনে প্রার্থীর বয়স সর্বোচ্চ ২৮ বছর হতে হবে। আগে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেওয়া তরুণেরা এ কর্মসূচির আওতায় আবেদন করতে পারবেন না। ঋণখেলাপি এবং সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মচারীরাও এ সুবিধার বাইরে থাকবেন।
অর্থায়নের আওতায় কৃষিভিত্তিক শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, হস্তশিল্প, মৎস্য, পশুপালন, পর্যটন, হালকা প্রকৌশল ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ই-কমার্স, ফিনটেক, এডটেক, অ্যাগ্রিটেক, হেলথটেকসহ প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপ এবং আয় করা সম্ভব—এমন বৈধ উদ্যোগেও অর্থায়ন করা হবে।
আট জেলায় আবেদনকারীর সংখ্যা কর্মসূচিটির প্রতি তরুণদের আগ্রহের একটি চিত্র তুলে ধরেছে। তবে নির্ধারিত ৫ হাজার ৩০ জনকে অর্থায়নের লক্ষ্য পূরণে আবেদনকারীদের মধ্য থেকে যোগ্য উদ্যোক্তা নির্বাচন করতে হবে। অর্থায়নের পাশাপাশি নতুন উদ্যোগগুলো টেকসই ব্যবসায় রূপ নিতে পারে কি না, তার ওপরও কর্মসূচিটির কার্যকারিতা নির্ভর করবে।