• হোম > লাইফ স্টাইল | স্বাস্থ্য > দুধে ভেজাল শনাক্তে ঝাঁকিয়ে পরীক্ষা, কতটা নির্ভরযোগ্য এই পদ্ধতি

দুধে ভেজাল শনাক্তে ঝাঁকিয়ে পরীক্ষা, কতটা নির্ভরযোগ্য এই পদ্ধতি

  • রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৮
  • ১৭

---

ইবি রিপোর্ট

সকালের চা-কফি, শিশুদের পুষ্টি কিংবা নানা ধরনের খাবার ও মিষ্টান্ন তৈরিতে দুধের ব্যবহার নিয়মিত। তবে বাজার থেকে কেনা দুধের বিশুদ্ধতা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে দুধে পানি মেশানো এবং ঘনত্ব বা ফেনা বাড়াতে ডিটারজেন্ট ব্যবহারের অভিযোগ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ঘরোয়া একটি পদ্ধতিতে দুধে ডিটারজেন্টের উপস্থিতির সম্ভাবনা যাচাই করা যেতে পারে। তবে এই পরীক্ষার ফলই দুধ খাঁটি নাকি ভেজাল, তা নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট নয়।

ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অব ইন্ডিয়ার (এফএসএসএআই) তথ্য অনুযায়ী, দুধ ঝাঁকানোর পর তৈরি হওয়া ফেনা পর্যবেক্ষণ করে ডিটারজেন্ট মেশানোর সম্ভাবনা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

দুধে পানি মেশালে এর ঘনত্ব ও স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন আসতে পারে। এমন দুধের ফেনা বাড়ানোর জন্য কেউ ডিটারজেন্ট মেশালে ঝাঁকানোর পর তুলনামূলক ঘন ও দীর্ঘস্থায়ী ফেনা তৈরি হতে পারে। ডিটারজেন্টে থাকা রাসায়নিক উপাদান তরলের পৃষ্ঠটান পরিবর্তন করে এবং ফেনাকে দীর্ঘক্ষণ স্থায়ী হতে সহায়তা করে।

তবে খাঁটি দুধ ঝাঁকালেও ফেনা তৈরি হতে পারে। দুধে চর্বির পরিমাণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের কারণে ফেনা কতক্ষণ থাকবে, তাতে পার্থক্য দেখা যায়। তাই ফেনা দ্রুত মিলিয়ে গেলে দুধ খাঁটি কিংবা দীর্ঘক্ষণ থাকলে তাতে ডিটারজেন্ট রয়েছে—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।

দুধে ডিটারজেন্টের উপস্থিতির সম্ভাবনা যাচাই করতে প্রথমে একটি পরিষ্কার কাচের গ্লাস বা ছোট বোতলে অল্প পরিমাণ দুধ নিতে হবে। এরপর পাত্রের মুখ বন্ধ করে কয়েক সেকেন্ড ঝাঁকিয়ে দুধের ওপরের অংশ পর্যবেক্ষণ করতে হবে। এ সময় ফেনা তৈরি হচ্ছে কি না এবং তৈরি হলে কতক্ষণ স্থায়ী হচ্ছে, তা খেয়াল করুন।

ঝাঁকানোর পর ঘন ফেনা দীর্ঘক্ষণ স্থায়ী হলে দুধে ডিটারজেন্ট বা অন্য কোনো উপাদান মেশানো হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সন্দেহ তৈরি হতে পারে। তবে এটি কেবল প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ। এই পদ্ধতিতে ভেজাল নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা সম্ভব নয়। দুধে ডিটারজেন্ট বা অন্য কোনো ভেজাল রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।

দুধের বিশুদ্ধতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে কেনার সময় বিক্রেতা এবং পণ্যের মান সম্পর্কে সতর্ক থাকা জরুরি। বিশ্বস্ত বিক্রেতা বা মান নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানের দুধ কেনার চেষ্টা করা উচিত।

প্যাকেটজাত দুধ কেনার ক্ষেত্রে উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, উপাদানের তালিকা, লাইসেন্সসংক্রান্ত তথ্য এবং প্যাকেটের সিল পরীক্ষা করুন। প্যাকেট ছেঁড়া, ফুটো বা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে থাকলে সেটি কেনা এড়িয়ে চলুন।

দুধের মোড়ক টেট্রা প্যাক নাকি প্লাস্টিকের, শুধু তা দেখে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় না। দুধের মান নির্ভর করে উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও সরবরাহব্যবস্থার ওপর। ফলে মোড়কের ধরনকে একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

এ ছাড়া দুধের রং, গন্ধ বা স্বাদে অস্বাভাবিকতা দেখা গেলে তা পান না করাই ভালো। সন্দেহজনক দুধ শিশুদেরও খাওয়ানো উচিত নয়। দুধে ভেজাল থাকার বিষয়ে সন্দেহ হলে নিজে পরীক্ষা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিয়ে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট খাদ্যনিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের সহায়তা নিতে হবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/19832 ,   Print Date & Time: Sunday, 18 October 2026, 08:32:49 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh