• হোম > জাতীয় | বাংলাদেশ > সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনা, আজ মন্ত্রিসভার বৈঠকে উঠতে পারে প্রস্তাব

সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনা, আজ মন্ত্রিসভার বৈঠকে উঠতে পারে প্রস্তাব

  • রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৬
  • ১৭

---

ইবি রিপোর্ট

রাজধানীর বর্তমান সচিবালয়ের জায়গার সংকট, পার্কিং সমস্যা ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা কাটাতে শেরেবাংলা নগরে নতুন সচিবালয় নির্মাণের পরিকল্পনা এগোচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে আজ রোববার বিকেলে অনুষ্ঠেয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ প্রস্তাব উঠতে পারে। মন্ত্রিসভার অনুমোদন পাওয়া গেলে নতুন সচিবালয় নির্মাণের কাজ শুরু করার পথে এগোবে সরকার। প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৩২ একর জমিতে ১২ তলা ভবন নির্মাণের নকশা ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর আবদুল গনি রোডে ১৭ দশমিক ৫৭ একর জমির ওপর আটটি ভবন ও তিনটি টিনশেডে ৩৮টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কার্যক্রম চলছে। সেখানে গাড়ি রাখার ব্যবস্থা এক হাজারেরও কম হলেও প্রায় ১০ হাজার গাড়ির প্রবেশের অনুমতিপত্র বা স্টিকার দেওয়া হয়েছে। এতে সচিবালয়ের ভেতরে ও আশপাশের সড়কে যানজট তৈরি হচ্ছে। জরাজীর্ণ ভবন ও জলাবদ্ধতার সমস্যাও স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়ার কারণ।

সচিবালয় স্থানান্তরের আলোচনা অবশ্য দীর্ঘদিনের। স্বাধীনতার পর থেকেই শেরেবাংলা নগরে সচিবালয় নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ২০১৫ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের পাশে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। পরে সেই পরিকল্পনা বাদ দিয়ে বিদ্যমান সচিবালয়ে একাধিক বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সচিবালয়ের পশ্চিম পাশের পরিবহন পুল ও জিপিওর জমি যুক্ত করে প্রায় ১৮ একর জায়গায় নতুন কমপ্লেক্স নির্মাণের সম্ভাবনা যাচাই করা হয়েছিল। পরে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নিয়ে সচিবালয়ের ভেতরে প্রায় ২৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে কয়েকটি ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। তবে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রস্তাবটি অনুমোদন করেনি। এরপর শেরেবাংলা নগরে নতুন সচিবালয়ের সম্ভাব্যতা যাচাই ও নকশা তৈরির দায়িত্ব পায় স্থাপত্য অধিদপ্তর।

অধিদপ্তরের পর্যালোচনায় পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠ ও শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৩৬ একর উন্মুক্ত জায়গা পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৩২ একর জমিতে সচিবালয় নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। স্থপতি ও বাইরের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে তিনটি কমিটি পৃথক নকশা তৈরি করে। জাতীয় সংসদ ভবনের স্থাপত্যশৈলীর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রণীত নকশাগুলোর মধ্যে প্রয়োজনীয় সংশোধনের পর একটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। এতে বড় প্রবেশফটকের বদলে মালয়েশিয়ার পুত্রাজায়ার আদলে উন্মুক্ত স্থাপত্য বিন্যাস রাখা হয়েছে।

গত ৭ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সচিবালয় স্থানান্তরের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রধান স্থপতি আসিফুর রহমান ভূঁইয়া সমকালকে বলেন, স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নকশা তৈরি করা হয়েছে। এতে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব সরকারের।

প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় নতুন সচিবালয়ের চারপাশে চক্রাকার সড়ক এবং বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের পেছন দিয়ে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের পাশ হয়ে মিরপুর সড়কের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের কথাও রয়েছে। এ ছাড়া বিজয় সরণি থেকে আগারগাঁও হয়ে মিরপুর ১০ নম্বরমুখী সড়কের নিচ দিয়ে পাতালপথ নির্মাণের বিষয়টি আলোচনায় আছে। তবে ওই এলাকায় স্কুল, হাসপাতাল ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন স্থাপনা থাকায় সড়ক নির্মাণে সেগুলো সরানোর প্রয়োজন হতে পারে।

অন্যদিকে, পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে বড় স্থাপনা নির্মাণে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা জানিয়েছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। নতুন সচিবালয় নির্মাণের পাশাপাশি স্থানান্তরের পর যানজট নিয়ন্ত্রণও সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। এ বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ বিবেচনা করছে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/19826 ,   Print Date & Time: Sunday, 18 October 2026, 08:33:31 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh