![]()
ইবি আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় পদ হারিয়েছেন নতুন প্রেস সচিব কেটি যাকারায়া। সপ্তাহজুড়ে চলা বিতর্ক, প্রথম সংবাদ সম্মেলনে সমালোচনার মুখে পড়া এবং আইনজীবী পরিচয় নিয়ে প্রশ্নের পর শুক্রবার তাকে ওই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। হোয়াইট হাউসের এমন দ্রুত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন বিরল ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রক্ষণশীল ধারাভাষ্যকার হিসেবে ট্রাম্পের নজরে এসেছিলেন যাকারায়া। গত সোমবার তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে মঙ্গলবার নিজের প্রথম ও একমাত্র সংবাদ সম্মেলনেই তাকে নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। লিখিত বক্তব্য দেখে প্রায় পুরো সময় কথা বলেন তিনি। মাত্র সাড়ে পাঁচ মিনিটের মধ্যে প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষ করায় সংবাদমাধ্যমে তাকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
এরপর তার আইনজীবী পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। যুক্তরাষ্ট্রের বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হয়েও তিনি নিজেকে আইনজীবী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন কি না, তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও তাকে ‘অ্যাটর্নি’ বলে সম্বোধন করেছিলেন।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন যাকারায়া। তিনি দাবি করেন, ওয়াশিংটনের সাংবাদিকদের মুখোমুখি হওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলেন না। কিন্তু এসব সাক্ষাৎকারে বিতর্কের অবসান না হয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
শুক্রবার বিকেলে জর্জিয়ায় মধ্যবর্তী নির্বাচনের একটি সমাবেশে যাওয়ার পথে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি জানান, কিছুক্ষণ আগেই যাকারায়াকে নতুন চাকরিটি নিয়ে আবার ভেবে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমি তোমার জায়গায় থাকলে বিষয়টি আবার ভেবে দেখতাম। কেটি, তোমার কি আসলেই এই ঝামেলার দরকার আছে? আমার মনে হয় না এটার প্রয়োজন আছে তোমার।’
অভ্যন্তরীণ আলোচনা সম্পর্কে অবগত তিনজন ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউইয়র্ক টাইমসকে জানান, যাকারায়াকে মূলত প্রেস সচিবের পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে ট্রাম্প বলেন, তার অধীনে অন্য কোনো দায়িত্বে কাজ চালিয়ে যেতে পারেন যাকারায়া। সে ক্ষেত্রে পদটি তার জন্য আরও স্বস্তিদায়ক হতে পারে।
শুক্রবার হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন শিয়াং জানান, যাকারায়া নতুন একটি দায়িত্বে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে পরে ঘোষণা দেওয়া হবে। গত সপ্তাহের শুক্রবার ট্রাম্প তাকে প্রেস সচিব হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ফক্স নিউজের স্বল্পপরিচিত ও অবৈতনিক ধারাভাষ্যকার হওয়ায় হোয়াইট হাউসের অনেকের কাছেই তিনি অপরিচিত ছিলেন। প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ সহকারী নাটালি হার্পের সমর্থন অবশ্য তার পক্ষে ছিল।
নিজেকে আইনজীবী হিসেবে পরিচয় দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন যাকারায়া। নিউইয়র্ক টাইমসের এক সাংবাদিক তাকে যুক্তরাষ্ট্রের কোন অঙ্গরাজ্যে বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন, তা জানতে চাইলে তিনি দুবার বলেন, ‘আমি যখন চীনে গিয়েছিলাম।’ পরে তিনি সংবাদমাধ্যমটিকে জানান, প্রশ্নটি ভুল শুনেছিলেন। অথচ কয়েক ফুট দূরে থাকা ট্রাম্পও সাংবাদিকের প্রশ্নটি তাকে আবার জিজ্ঞেস করেছিলেন।
বৃহস্পতিবার রাতে ফক্স নিউজে ট্রাম্পের বন্ধু শন হ্যানিটির সাক্ষাৎকারে অংশ নেন যাকারায়া। সেখানে হ্যানিটি তাকে বেশ কয়েকটি কঠিন প্রশ্ন করেন এবং তার বক্তব্য নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। শুক্রবার সকালে ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানেও তাকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক লরেন্স জোন্স জানতে চান, বার পরীক্ষা ও তাতে উত্তীর্ণ না হওয়ার বিষয়টি প্রেসিডেন্টকে আগে জানানো উচিত ছিল কি না। জবাবে যাকারায়া বলেন, ‘দেখুন, লরেন্স, আমাকে এসব প্রশ্ন করাই হয়নি।’
অথচ বুধবারই স্টিভেন শিয়াং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছিলেন, অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই যাকারায়ার কাজে হোয়াইট হাউসের সবাই মুগ্ধ হয়েছেন। এমনকি ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শেষে তাকে সর্বকালের অন্যতম সেরা প্রেস সচিব হিসেবে স্মরণ করা হবে বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি।
বাসা বদলে এখনো ওয়াশিংটনে না আসা যাকারায়া দায়িত্ব পালন করেছেন মাত্র পাঁচ দিন। এ সময়ে তিনি সংবাদ সম্মেলন করেছেন একবার। এর মধ্য দিয়ে হোয়াইট হাউসের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময় দায়িত্ব পালন করা প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে পরিচিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে তার।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক অ্যান্টনি স্কারামুচিকে নিয়োগের ১০ দিনের মাথায় বরখাস্ত করা হয়েছিল। তবে যোগাযোগ পরিচালকের পদটি প্রেস সচিবের পদ থেকে আলাদা। যাকারায়ার বিদায়ের খবর প্রকাশের পর স্কারামুচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘রেকর্ড গড়াই হয় ভাঙার জন্য। তবে অন্যের কষ্টে আমি কোনো আনন্দ পাই না।’
যাকারায়াকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে চলমান অস্থিরতারও প্রতিফলন। মঙ্গলবার তার প্রথম ব্রিফিং চলাকালে গ্রিসে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত কিম্বার্লি গিলফয়েলকে টেলিভিশনেই বরখাস্ত করা হয়। পাশাপাশি রিচার্ড গ্রেনেল ও আলিনা হাব্বা মিলডনের মধ্যকার বিরোধের কারণ খুঁজতে ট্রাম্পকে ওভাল অফিসে সময় ব্যয় করতে হয়েছে।
এ ছাড়া ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী পাওলো জাম্পোলিকে পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। অভ্যন্তরীণ বিরোধ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। একই সময়ে হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলসের মেয়ে এবং তার ঘনিষ্ঠ বলয়ের অন্য সদস্যরা বিদেশে অর্থ উপার্জনের বিষয়ে তদন্তের মুখে পড়েছেন।