• হোম > অর্থনীতি | জাতীয় | দেশজুড়ে > যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হওয়া ৭৮ শতাংশ খেলনাই চীনে তৈরি

যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হওয়া ৭৮ শতাংশ খেলনাই চীনে তৈরি

  • শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:৫০
  • ২৫

---

ইবি রিপোর্ট

যুক্তরাষ্ট্রের খেলনার বাজারে চীনের আধিপত্য দীর্ঘদিনের। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা খেলনার ৭৮ দশমিক ৩ শতাংশই ছিল চীনে তৈরি। এসব খেলনার মোট আমদানি মূল্য ছিল ৯৮০ কোটি ডলার।

চীনের কারখানায় উৎপাদিত খেলনা জাহাজে করে পৌঁছায় যুক্তরাষ্ট্রের বন্দরে। এরপর আমদানি শুল্ক, পরিবহন ও বিপণন ব্যয় যুক্ত হয়ে সেগুলো স্থান পায় দেশটির খুচরা বিক্রির দোকানে। উৎপাদন থেকে বিক্রি পর্যন্ত এই সরবরাহব্যবস্থায় চীনের কারখানাগুলো বড় ভূমিকা রাখছে।

চীনের দক্ষিণাঞ্চলে খেলনা উৎপাদনের কেন্দ্র

হংকংয়ের কাছাকাছি চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় কুয়াংতুং প্রদেশ দেশটির খেলনা উৎপাদনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। এ প্রদেশের তোংকুয়ান শহরের মিহক্স কারখানায় ধাতব ছাঁচ ব্যবহার করে প্লাস্টিকের খেলনার বিভিন্ন অংশ তৈরি করা হয়। পরে সেগুলো রঙ করা ও জোড়া লাগানোর মাধ্যমে সম্পূর্ণ খেলনায় রূপ দেওয়া হয়।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, কারখানাটিতে বছরে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি খেলনা উৎপাদিত হয়। এর অর্ধেকই যায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে।

একটি খেলনা তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয় ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের দেওয়া নকশা দিয়ে। প্রথমে নমুনা তৈরি করা হয়। এরপর প্লাস্টিকের বিভিন্ন অংশ উৎপাদনের জন্য ছাঁচ বানানো হয়। নকশা চূড়ান্ত করা থেকে শুরু করে বাজারে বিক্রির উপযোগী খেলনা তৈরি করতে এক থেকে দুই বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এ সময়ে ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী নকশায় একাধিকবার পরিবর্তন আনতে হয়।

নকশা চূড়ান্ত হওয়ার পর ছাঁচ তৈরি করতে প্রায় এক মাস লাগে। এরপর শুরু হয় মূল উৎপাদনপ্রক্রিয়া, যা সম্পন্ন করতে আরও তিন মাসের বেশি সময় পেরিয়ে যায়।

চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে লাগে ১৫ থেকে ৩০ দিন

কারখানায় উৎপাদন শেষ হলে ট্রাকে করে খেলনা বন্দরে নেওয়া হয়। সেখান থেকে কনটেইনারে ভরে জাহাজে পাঠানো হয় যুক্তরাষ্ট্রে। কুয়াংতুং প্রদেশের শেনচেন বন্দর থেকে দেশটির পশ্চিম উপকূলে পৌঁছাতে জাহাজের প্রায় ১৫ দিন লাগে। পূর্ব উপকূলে যেতে সময় লাগে ২৫ থেকে ৩০ দিন।

যুক্তরাষ্ট্রের দোকানে একটি খেলনা বিক্রি হয় প্রায় ৩০ ডলারে। মিহক্সের বিক্রয় বিভাগের কর্মী মেলানি ওয়াংয়ের হিসাব অনুযায়ী, এই খুচরা বিক্রয়মূল্যের প্রায় ২০ শতাংশ পায় উৎপাদনকারী কারখানা। অর্থাৎ ৩০ ডলারের একটি খেলনা তৈরির জন্য কারখানার আয় প্রায় ৬ ডলার।

আমদানি শুল্ক ও ব্যয়ের হিসাব

যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর চীনে তৈরি খেলনার ওপর আমদানি শুল্ক দিতে হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শুল্কের মূল হার ১২ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে কিছু খেলনার ক্ষেত্রে শুল্কের হার আরও বেশি।

উৎপাদন, পরিবহন ও আমদানি শুল্ক মিলিয়ে ৩০ ডলারের একটি খেলনার মোট ব্যয় দাঁড়ায় ৭ ডলার ৩৫ সেন্ট। ফলে খুচরা বিক্রয়মূল্যের বাকি ২২ ডলার ৬৫ সেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে থেকে যায়।

এই হিসাব চীনের উৎপাদনব্যবস্থা ও যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বাজারের মধ্যে মূল্য বণ্টনের একটি চিত্র তুলে ধরে। খেলনার বড় অংশ চীনে তৈরি হলেও চূড়ান্ত বিক্রয়মূল্যের উল্লেখযোগ্য অংশ উৎপাদনকারী কারখানার বাইরে থেকে যায়।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/19777 ,   Print Date & Time: Saturday, 17 October 2026, 09:17:19 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh