• হোম > অর্থনীতি | জাতীয় | দেশজুড়ে > সুতার বন্ড সুবিধা বহালের দাবি, তারেক রহমানের সহায়তা চাইলেন পোশাক মালিকেরা

সুতার বন্ড সুবিধা বহালের দাবি, তারেক রহমানের সহায়তা চাইলেন পোশাক মালিকেরা

  • শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:২৭
  • ১৩

---

ইবি রিপোর্ট

১০–৩০ কাউন্টের কটন সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাতিল করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকেরা। তাঁদের আশঙ্কা, এ সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকলে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, কাঁচামাল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমবে। ইতিমধ্যে বিদেশি ক্রেতারা ভারত ও মিসরের মতো দেশে ক্রয়াদেশ সরিয়ে নিচ্ছেন বলেও দাবি করেছেন তাঁরা।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে এ সহায়তা চেয়েছে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ এবং নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ। যৌথ চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান ও বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।

চিঠিতে সংগঠন দুটির নেতারা বলেন, গত বছর স্থলপথে সুতা আমদানি বন্ধ, সুতা আমদানিতে সেফগার্ড ডিউটি আরোপের উদ্যোগ এবং ২০২৬–২৯ সালের আমদানি নীতিতে নিট কাপড় আমদানি নিষিদ্ধ করে পরে সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার—এ ধরনের ঘন ঘন নীতিগত পরিবর্তনে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তাঁদের মতে, নীতিগত অনিশ্চয়তা বাংলাদেশের ব্যবসায়িক পরিবেশের স্থিতিশীলতা নিয়ে বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। এরই মধ্যে কিছু ক্রেতা ভারত ও মিসরে ক্রয়াদেশ স্থানান্তর করছেন বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন।

বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত যেভাবে

প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ জানায়, গত ২০ আগস্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বস্ত্র ও পোশাক খাত নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার নির্ধারিত আলোচ্যসূচির বাইরে বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএর প্রতিনিধিরা ১০–৩০ কাউন্টের কটন সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের বিষয়টি উত্থাপন করেন।

সংগঠন দুটির দাবি, সভায় এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সভার কার্যবিবরণীতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার এবং ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে সুতা আমদানির অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি সিদ্ধান্ত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

এর ভিত্তিতে ৭ সেপ্টেম্বর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার এবং ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে সুতা আমদানির অনুমতি দিয়ে আদেশ জারি করে।

চিঠিতে বলা হয়, পোশাকশিল্প মালিকদের অনুরোধে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ১৩ সেপ্টেম্বর সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত করতে এনবিআরকে চিঠি দেয়। তবে এনবিআর আগের আদেশ প্রত্যাহার করেনি। বরং গত বুধবার সংস্থাটি একই ধরনের আরেকটি আদেশ জারি করে। এতে রপ্তানি কার্যক্রমে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং কাঁচামাল সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি করেছে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ।

সুতার দাম বাড়ায় বাড়তি চাপ

বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর অভিযোগ, এনবিআরের আদেশের পর স্থানীয় স্পিনিং মিলগুলো প্রতি পাউন্ড সুতার দাম ৩০ থেকে ৫০ সেন্ট বাড়িয়েছে। অন্যদিকে, আমদানি করা সুতার ক্ষেত্রে শুল্ক-কর পরিশোধ অথবা ব্যাংক গ্যারান্টি দেওয়ার বাধ্যবাধকতায় রপ্তানিকারকদের চলতি মূলধন আটকে যাচ্ছে।

এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনাও কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছে সংগঠন দুটি। বিশেষ করে নিট পোশাকশিল্প এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তাদের নেতারা। তাঁদের মতে, বাড়তি তারল্যসংকট কাঁচামাল সরবরাহ সচল রাখা ও উৎপাদন অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

চিঠিতে এনবিআরের জারি করা আদেশ অবিলম্বে ও নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সভাপতিরা। একই সঙ্গে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

সংগঠন দুটির প্রস্তাব, আদেশ প্রত্যাহারের পর বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমএর মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতে সুতা আমদানিসংক্রান্ত একটি টেকসই নীতিকাঠামো তৈরি করা যেতে পারে। তাঁদের মতে, এতে শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহ ও রপ্তানি কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়তা মিলবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/19767 ,   Print Date & Time: Saturday, 17 October 2026, 08:36:02 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh