• হোম > অর্থনীতি | জাতীয় | দেশজুড়ে > দুই দিনে কেজিতে আদার দাম বাড়ল ৬০ টাকা, চড়া পেঁয়াজ-রসুনও

দুই দিনে কেজিতে আদার দাম বাড়ল ৬০ টাকা, চড়া পেঁয়াজ-রসুনও

  • শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:২৪
  • ১৩

---

ইবি রিপোর্ট

রাজধানীর কাঁচাবাজারে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি চীনা আদার দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা বেড়েছে। বুধবার ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া আদার দাম শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯০ টাকায়। আদার পাশাপাশি পেঁয়াজ ও রসুনের দামও বেড়েছে। তবে কিছুটা কমেছে ডিমের দাম।

শীতের আগাম সবজি বাজারে উঠতে শুরু করলেও উচ্চমূল্যের কারণে ক্রেতাদের বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। শুক্রবার রাজধানীর হাতিরপুল, নিউমার্কেট ও লালবাগের কাঁচাবাজার ঘুরে এসব চিত্র দেখা গেছে।

লালবাগের বিক্রেতা মো. ইউসুফ জানান, বুধবার তিনি ১৩০ টাকা কেজি দরে আদা কিনেছিলেন। শুক্রবার তাঁকে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি দরে আদা কিনতে হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, আদা ভেজা থাকায় শুকিয়ে গেলে ওজন আরও কমে যাবে। এতে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ছে।

আদার দাম বাড়ার কারণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এই বিক্রেতা। তাঁর দাবি, আমদানি বা সরবরাহ কমে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই। পাইকারি বাজারেও পর্যাপ্ত পণ্য পাওয়া যাচ্ছে। এমন অবস্থায় দাম বাড়ার কারণ তাঁর কাছে পরিষ্কার নয়।

পেঁয়াজ ও রসুনের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। সোমবারের তুলনায় ক্রস জাতের পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ টাকা এবং দেশি পেঁয়াজের দাম ৫ টাকা বেড়েছে। একই সময়ে চীনা রসুনের দাম কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে ১৮০ টাকায় পৌঁছেছে।

শুক্রবার ক্রস জাতের পেঁয়াজ আকার ও মানভেদে প্রতি কেজি ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। দেশি পেঁয়াজের দামও ছিল ৬০ টাকা। চীনা রসুনের কেজি ১৮০ টাকা এবং দেশি রসুনের কেজি ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকার পরও আদার দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার কারণ জানাতে পারছেন না বিক্রেতারা।

চড়া দামে শীতের আগাম সবজি

বাজারে শিম, ফুলকপি ও মুলার মতো শীতের আগাম সবজি আসতে শুরু করেছে। কিন্তু সরবরাহ এখনো পর্যাপ্ত না হওয়ায় এসব পণ্যের দাম বেশি বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

পেঁপে ও মিষ্টিকুমড়া ছাড়া অধিকাংশ সবজি প্রতি কেজি ৮০ টাকা বা তার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ঝিঙা, কচুমুখী, পটোল, মুলা ও ঢ্যাঁড়সের কেজি ৮০ টাকা। বেগুন ও কাঁকরোল বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজি দরে। আগাম শিমের দাম কেজিতে ১৬০ টাকা। অন্যদিকে, টমেটোর কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা।

প্রতিটি ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। আকারভেদে প্রতি পিস লাউয়ের দাম ৪০ থেকে ৬০ টাকা। তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে পেঁপে ও মিষ্টিকুমড়া। পেঁপের কেজি ৩০ টাকা এবং মিষ্টিকুমড়ার কেজি ৫০ টাকা।

সবজির বাজারে কাঁচা মরিচের দামে অবশ্য কিছুটা স্বস্তি এসেছে। মানভেদে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকায়।

লালবাগের সবজি বিক্রেতা তারেক বলেন, শীতের সবজি বাজারে এলেও এখনো সরবরাহ পর্যাপ্ত নয়। সরবরাহ বাড়লে ধীরে ধীরে দাম কমতে পারে।

ডিমের দাম কমলেও চড়া মুরগি ও মাংস

ডিমের দাম কিছুটা কমেছে। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম ডজনপ্রতি ১৬০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। পরে ১০ থেকে ১৫ টাকা কমে বর্তমানে প্রতি ডজন ডিম ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। হাঁসের ডিমের দাম ডজনপ্রতি ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকা।

তবে মুরগি ও অন্যান্য মাংসের দামে তেমন স্বস্তি নেই। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৭৫ থেকে ১৮৫ টাকা, কক মুরগি ৩০০ থেকে ৩১০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ৩৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি মুরগির কেজি ৬৫০ টাকা। গরুর মাংসের দাম প্রতি কেজি ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২৫০ টাকা।

লালবাগের ডিম বিক্রেতা জসিম মিয়া বলেন, ডিমের দাম কিছুটা কমেছে। তাঁর ধারণা, শীত এলে ডিমের দাম আরও কমতে পারে।

মাছের বাজারেও উচ্চমূল্য

মাছের বাজারেও ক্রেতাদের বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে। আকার ও ওজনভেদে প্রতি কেজি রুই মাছ ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকা এবং কাতল মাছ ৩০০ থেকে ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া কালিবাউশের কেজি ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা এবং কৈ মাছ ২২০ থেকে ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাবদা মাছের দাম প্রতি কেজি ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা। আকারভেদে চাষের শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে।

সব মিলিয়ে আদা, পেঁয়াজ ও রসুনের বাড়তি দামের পাশাপাশি সবজি, মাছ ও মাংসের উচ্চমূল্যেও চাপে রয়েছেন রাজধানীর ক্রেতারা। ডিমের দাম কিছুটা কমলেও নিত্যপণ্যের সামগ্রিক বাজারে স্বস্তি ফেরেনি।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/19765 ,   Print Date & Time: Saturday, 17 October 2026, 08:35:56 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh