![]()
ইবি আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মতবিরোধ আবারও প্রকাশ্যে এসেছে। ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে ইসরাইলের আচরণ নিয়ে ওবামার সমালোচনার পর শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) পাল্টা বক্তব্য দিয়েছেন নেতানিয়াহু। ইসরাইলের আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচন সামনে রেখে দুই নেতার এই বক্তব্য-পাল্টা বক্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে আচরণের ক্ষেত্রে ইসরাইল তার ‘নৈতিক উচ্চ অবস্থান থেকে সরে এসেছে’ বলে মন্তব্য করেছিলেন ওবামা। মঙ্গলবার বেলফাস্টে এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট থাকাকালে নেতানিয়াহুকে সরাসরি জানিয়েছিলেন, সংঘাতের চক্র ভাঙতে একপর্যায়ে শক্তিশালী পক্ষের ওপরই বিশেষ দায়িত্ব বর্তায়।
ওবামা বলেন, ইসরাইল যদি মনে করে, এই অঞ্চলে সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী ও উন্নত প্রযুক্তি থাকায় নিরাপত্তার জন্য তারা যা খুশি করতে পারবে, নিজেদের ইচ্ছামতো সবকিছু নিতে পারবে এবং কারও সঙ্গে কোনো ছাড় দিতে হবে না, তাহলে সেই অবস্থান স্বল্পমেয়াদে কার্যকর মনে হতে পারে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তা ইসরাইলের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামলা চালানো ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন হামাসেরও তীব্র সমালোচনা করেন সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে ইসরাইলের সংবাদমাধ্যমগুলো তার বক্তব্যের আরেকটি অংশকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে। সেখানে হলোকাস্টের ভয়াবহতার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৪৮ সালে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি।
ওবামার ভাষ্য অনুযায়ী, হাজার হাজার বছর ধরে ইহুদি জনগোষ্ঠী নিপীড়ন, বৈষম্য ও হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে, যার বড় অংশের জন্য ইউরোপ দায়ী ছিল। এ কারণে ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে এমন একটি স্থানে আশ্রয় খোঁজা তাদের জন্য স্বাভাবিক ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুতির বিষয়টিও সামনে আনেন ওবামা। তিনি বলেন, ইসরাইল এমন একটি ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে, যেখানে আগে অন্য মানুষ বসবাস করত এবং সেই মানুষদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ফিলিস্তিনিরা স্বাভাবিকভাবেই এটিকে অবিচার হিসেবে দেখেছে এবং নিজেদের ভূমি ফিরিয়ে পাওয়ার দাবি জানিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওবামার বক্তব্যের একটি ভিডিও প্রকাশ করে তার মন্তব্যের জবাব দেন নেতানিয়াহু। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্যকে ‘দুঃখজনক’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ইহুদিরা তাদের পূর্বপুরুষের ভূমিতে বহিরাগত দখলদার নয়। তাদের ইতিহাস কোনো ঔপনিবেশিক প্রকল্প নয় এবং তাদের ভূমি চুরি করা জমিও নয়।
নেতানিয়াহু আরও বলেন, ‘এটাই আমাদের মাতৃভূমি। এর নাম জুদেয়া।’ জুদেয়া একটি বাইবেলীয় নাম, যা পশ্চিম তীরের দক্ষিণাঞ্চল বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে ইসরাইল পশ্চিম তীরের নিয়ন্ত্রণ নেয়।
ইসরাইলের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালনকারী প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও রিপাবলিকান নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র। ২০০৯ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ওবামার প্রেসিডেন্ট থাকার সময় দুই নেতার মধ্যে তীব্র বিরোধ তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে ওবামা প্রশাসনের কূটনৈতিক উদ্যোগের বিরোধিতা করতে নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে রিপাবলিকানদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছিলেন।
আগামী ২৭ অক্টোবরের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন সামনে রেখে নেতানিয়াহু বারবার ভোটারদের বলছেন, বিদেশিরা তাকে নির্বাচনে পরাজিত করতে চায়। এ প্রসঙ্গে তিনি বিশেষ করে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির সমালোচনা করেছেন। মামদানি ইসরাইলের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত।