![]()
ইবি আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাজ্যের করনীতি ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আস্থা কমতে থাকায় দেশটি ছেড়ে অন্য দেশে বসতি গড়ার কথা ভাবছেন ধনীদের একটি বড় অংশ। গত এক বছরে যুক্তরাজ্য ছাড়ার বিষয়টি বিবেচনা করেছেন এমন বিত্তশালীর হার ২৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩০ শতাংশে পৌঁছেছে। তাঁদের কেউ কেউ ইতোমধ্যে অন্য দেশে যাওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছেন। সল্টাস ওয়েলথ ইনডেক্সের এক জরিপে এ চিত্র উঠে এসেছে।
যুক্তরাজ্যে অন্তত ২ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড বিনিয়োগযোগ্য সম্পদ রয়েছে—এমন দুই হাজার প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ওপর জরিপ চালিয়ে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। এতে তাঁদের নিজস্ব বসতবাড়ির মূল্য সম্পদের হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। জরিপের ফলাফলে দেশটির অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ করব্যবস্থা নিয়ে ধনীদের উদ্বেগের বিষয়টি উঠে এসেছে।
সল্টাস ওয়েলথ ইনডেক্সের জরিপ অনুযায়ী, এক বছর আগে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতির ওপর আস্থা ছিল অংশগ্রহণকারীদের ৬৬ শতাংশের। বর্তমানে সেই হার কমে ৫৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে অর্থনীতি নিয়ে আস্থাশীল ধনীদের অনুপাত ১০ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে।
এ ছাড়া জরিপে অংশ নেওয়া ৪০ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, ভবিষ্যতে করব্যবস্থায় সম্ভাব্য পরিবর্তন তাঁদের সম্পদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তার পাশাপাশি করসংক্রান্ত উদ্বেগও তাঁদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে।
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, যুক্তরাজ্য ছাড়ার বিষয়টি বিবেচনা করা ধনীদের অনুপাতও গত এক বছরে বেড়েছে। আগে যেখানে ২৫ শতাংশ বিত্তশালী দেশটি ছেড়ে যাওয়ার কথা ভেবেছিলেন, বর্তমানে তা বেড়ে ৩০ শতাংশ হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ ইতোমধ্যে অন্য দেশে স্থানান্তরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
যুক্তরাজ্যের করব্যবস্থায় পরিবর্তন ধনীদের দেশ ছাড়ার প্রবণতা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। আগে দেশটিতে বসবাসকারী কিছু ধনী ব্যক্তি বিদেশ থেকে অর্জিত আয়ের ওপর বিশেষ করসুবিধা পেতেন। নন-ডমিসাইল ব্যবস্থার আওতায় এই সুবিধা দেওয়া হতো।
তবে ২০২৫ সালের এপ্রিলে যুক্তরাজ্য সরকার ব্যবস্থাটি বাতিল করে। এর ফলে বিদেশি আয়ের ওপর কর আরোপের নিয়মে পরিবর্তন আসে। নতুন ব্যবস্থায় করের নিয়ম কঠোর হওয়ায় ধনী পরিবারগুলোর মধ্যে সম্পদ ব্যবস্থাপনা, বসবাস এবং ব্যবসা অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার চিন্তা বাড়ছে।
করসংক্রান্ত নীতির এই পরিবর্তন তাঁদের ভবিষ্যৎ আর্থিক পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলছে বলে জরিপের ফলাফলে প্রতিফলিত হয়েছে। অর্থনীতি নিয়ে কমে আসা আস্থার সঙ্গে করের সম্ভাব্য চাপ যুক্ত হয়ে যুক্তরাজ্যে অবস্থান অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্তকে আরও জটিল করে তুলছে।
যুক্তরাজ্য ছাড়তে আগ্রহী ধনীদের সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), সুইজারল্যান্ড, ইতালি, সিঙ্গাপুর ও যুক্তরাষ্ট্রের নাম উঠে এসেছে। এসব দেশের মধ্যে ইউএই বিশেষভাবে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
দেশটিতে ব্যক্তিগত আয়ের ওপর আয়কর নেই। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের সুযোগ, উন্নত অবকাঠামো, প্রতিষ্ঠিত আর্থিক কেন্দ্র এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করছে।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি নিয়ে আস্থা হ্রাস, করব্যবস্থার পরিবর্তন এবং সম্পদ নিয়ে উদ্বেগ দেশটির ধনীদের একাংশকে বিকল্প গন্তব্য বিবেচনায় উৎসাহিত করছে। সল্টাস ওয়েলথ ইনডেক্সের জরিপে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে দেশ ছাড়ার কথা ভাবা ধনীদের অনুপাত বেড়ে ৩০ শতাংশে পৌঁছেছে।