• হোম > অর্থনীতি | জাতীয় | দেশজুড়ে > আইএমএফের কাছে ২০২৯ সাল পর্যন্ত ৪.৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ চায় বাংলাদেশ

আইএমএফের কাছে ২০২৯ সাল পর্যন্ত ৪.৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ চায় বাংলাদেশ

  • শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:৪২
  • ৯

---

ইবি রিপোর্ট

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ত্রৈমাসিক কিস্তিতে ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিতে চায় বাংলাদেশ। এ বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে নিতে চলতি বছরের শেষ নাগাদ ঋণচুক্তি সইয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ঋণের পরিমাণ ও শর্ত চূড়ান্ত হবে আইএমএফের স্টাফ পর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আইএমএফের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্কের সঙ্গে বৈঠক শেষে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের একজন কর্মকর্তা এ তথ্য জানান। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, চলতি মাসের শেষ দিকে আইএমএফের স্টাফ মিশন বাংলাদেশ সফর করবে। এরপর স্টাফ পর্যায়ের আলোচনায় ঋণের পরিমাণ ও শর্ত নির্ধারণ করা হবে।

২০২৬ সালের আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভার ফাঁকে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী নাইজেল ক্লার্কের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা আলোচনাকে ফলপ্রসূ বলে উল্লেখ করেছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণ পাওয়ার বিষয়েও তাঁরা আশাবাদ জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর প্রস্তাবিত ঋণের পরিমাণ কিংবা কিস্তির সংখ্যা নিশ্চিত করেননি। তিনি বলেন, স্টাফ পর্যায়ের আলোচনা ও আইএমএফের বোর্ড সভায় এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

তিতুমীর আরও বলেন, ২০৩০ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে, অর্থাৎ ২০২৯ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে। কারণ এরপর সরকারকে জনগণের ম্যান্ডেটের মুখোমুখি হতে হবে।

অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীও জানিয়েছেন, নতুন ঋণ কর্মসূচির আওতায় কিছু শর্ত থাকবে, যা বাংলাদেশকে পূরণ করতে হবে। তবে কয়েকটি বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানোর সুযোগ রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে।

রাজস্ব আদায় ও ব্যাংকিং সংস্কারে গুরুত্ব

আইএমএফের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের উপপরিচালক সোনালি জৈন-চন্দ্র জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত ঋণের পরিমাণ ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন থেকে ৫ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে হতে পারে। এ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং আর্থিক খাতের সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত কমে ৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা বিশ্বের সর্বনিম্ন পর্যায়ের মধ্যে রয়েছে। আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রাজস্ব আদায় বাড়ানো প্রয়োজন।

এ ছাড়া ব্যাংকিং খাতের বড় সমস্যাগুলো সমাধানে কৌশলগত পদক্ষেপ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অব্যাহত রাখা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংস্কার বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছে সংস্থাটি।

অর্থমন্ত্রী জানান, ব্যাংকিং খাত, কর-জিডিপি অনুপাত, ব্যাংকের পুনঃমূলধনীকরণ এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আইএমএফ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এসব বিষয়ে আইএমএফের পর্যবেক্ষণের সঙ্গে বাংলাদেশ একমত। কিছু সমস্যার সমাধান হয়েছে এবং বাকি বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চলছে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধসহ বৈশ্বিক নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও বাজেট-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিয়ে আইএমএফ সন্তোষ প্রকাশ করেছে বলেও জানান তিনি।

খেলাপি ঋণ কমানোর পরিকল্পনা

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিদলের এক কর্মকর্তা জানান, বৈঠকে ব্যাংকিং খাতের সংস্কার পরিকল্পনা তুলে ধরেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং খেলাপি ঋণ কমানোর উদ্যোগ রয়েছে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, সংকটে থাকা সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের আমানত ফেরত দেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার থেকে ন্যাশনাল ব্যাংকের গ্রাহকদের আমানত ফেরত দেওয়াও শুরু হয়েছে। দুর্বল ব্যাংকগুলোর আমানতকারীদের নিয়মিত অর্থ ফেরতের মাধ্যমে গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে চায় সরকার।

এদিকে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ কমাতে নতুন পরিকল্পনা প্রস্তুত করছে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল। ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সই করা ঋণচুক্তিতে ২০২৬ সালের মধ্যে খেলাপি ঋণের হার ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে বর্তমানে এ হার বেড়ে প্রায় ৩৩ শতাংশে পৌঁছেছে।

প্রস্তাবিত নতুন ঋণ কর্মসূচিতে খেলাপি ঋণের হার কতটা কমানো হবে, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

গত ১২ অক্টোবর ব্যাংককে ২০২৬ সালের আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভা শুরু হয়েছে। ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এ সভা। এতে বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, নীতিনির্ধারক এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/19725 ,   Print Date & Time: Friday, 16 October 2026, 01:16:12 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh