![]()
ইবি রিপোর্ট
ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের হাতে আটক বাংলাদেশের দুই পুলিশ সদস্যকে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বিএসএফের ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠক শেষে তাদের হস্তান্তর করা হয়।
বিজিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে সীমান্তের ২০৫৯ নম্বর পিলারের কাছে বিজিবির সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি) এবং বিএসএফের ৪৯ ব্যাটালিয়নের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বিএসএফের পক্ষ থেকে আটক এএসআই ইমরান হোসেন ও কনস্টেবল রোহিত দেওয়ানকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে দুপুর ১টা ৪২ মিনিটে বিজিবি তাদের বাংলাদেশ পুলিশের কাছে ফিরিয়ে দেয়।
বৈঠকে অংশ নেওয়া দেবিদ্বার-ব্রাহ্মণপাড়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. শাহিনও দুই পুলিশ সদস্যকে ফেরত পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পতাকা বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সুলতানপুর ব্যাটালিয়নের (৬০ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম শরিফুল ইসলাম, ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক হোসেন এবং শশীদল বিওপির কমান্ডার সুবেদার মোহাম্মদ তাকবীর হোসেন।
ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি ফারুক হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এএসআই ইমরান হোসেন ও কনস্টেবল রোহিত দেওয়ান সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে রাতের দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় তাঁরা উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের আশা বাড়ি সীমান্ত এলাকায় মাদক উদ্ধারে অভিযান চালান। অভিযানটি ২০৫৯ নম্বর সীমান্ত পিলার-সংলগ্ন এলাকায় পরিচালিত হয়।
ওসি জানান, পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক কারবারিরা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় তাঁদের ধাওয়া করেন ইমরান ও রোহিত। ধাওয়ার একপর্যায়ে দুই পুলিশ সদস্য ভুলবশত আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে বিএসএফ তাঁদের আটক করে।
ঘটনার পর দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ ও পতাকা বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়। শুক্রবার দুপুরে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠক শেষে বিএসএফ তাঁদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে। এরপর বিজিবি দুই পুলিশ সদস্যকে বাংলাদেশ পুলিশের কাছে ফিরিয়ে দেয়।
পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে দুই পুলিশ সদস্যকে ফেরত পাওয়ার মধ্য দিয়ে এ ঘটনার সমাধান হয়।