• হোম > অর্থনীতি | জাতীয় | পাকিস্তান | বাংলাদেশ > ২০২৯ সাল পর্যন্ত আইএমএফের কাছে ৪.৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ চায় বাংলাদেশ

২০২৯ সাল পর্যন্ত আইএমএফের কাছে ৪.৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ চায় বাংলাদেশ

  • শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:০৬
  • ১৭

---

ইবি রিপোর্ট

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে ত্রৈমাসিক কিস্তিতে ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিতে চায় বাংলাদেশ। প্রস্তাবিত ঋণের পরিমাণ ও শর্ত চূড়ান্ত করতে চলতি মাসের শেষ দিকে আইএমএফের স্টাফ মিশনের বাংলাদেশ সফরের পর আলোচনা হবে। সবকিছু নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় এগোলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ ঋণচুক্তি সই হতে পারে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের এক কর্মকর্তা।

গতকাল ব্যাংককে আইএমএফের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর নাইজেল ক্লার্কের সঙ্গে বৈঠকের পর প্রতিনিধিদলের এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানান। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে (টিবিএস) বলেন, ঋণের পরিমাণ ও শর্ত নিয়ে স্টাফ পর্যায়ের আলোচনায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

২০২৬ সালের আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভার ফাঁকে ক্লার্কের সঙ্গে বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তাঁর সফরসঙ্গী বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকটিকে ফলপ্রসূ বলে উল্লেখ করেছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণ পাওয়ার বিষয়েও তাঁরা আশাবাদী।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর প্রস্তাবিত ঋণের পরিমাণ বা কিস্তির সংখ্যা নিশ্চিত করেননি। তিনি জানান, স্টাফ পর্যায়ের আলোচনা এবং আইএমএফের বোর্ড সভায় এসব বিষয় নির্ধারিত হবে। তাঁর মতে, ২০৩০ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগেই, অর্থাৎ ২০২৯ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে সংস্কার উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। এরপর সরকারকে জনগণের ম্যান্ডেটের মুখোমুখি হতে হবে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীও জানিয়েছেন, নতুন ঋণ কর্মসূচির আওতায় কিছু শর্ত থাকবে এবং বাংলাদেশকে সেগুলো পূরণ করতে হবে। তবে কিছু বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানো হবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কর্মসূচির শর্ত এবং সেগুলো বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে।

আইএমএফের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের উপপরিচালক সোনালি জৈন-চন্দ্র জানিয়েছেন, বাংলাদেশের জন্য প্রস্তাবিত ঋণের পরিমাণ ৪ দশমিক ৫ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার হতে পারে। এ ঋণ নিয়ে আলোচনায় রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি ও আর্থিক খাতের সংস্কারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সংস্থাটি।

গতকাল এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলবিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে জৈন-চন্দ্র বলেন, বাংলাদেশের রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত কমে ৭ শতাংশে নেমেছে, যা বিশ্বের সর্বনিম্ন পর্যায়ের মধ্যে রয়েছে।

তিনি বলেন, আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রাজস্ব আদায় বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতের বড় সমস্যাগুলো সমাধানে কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়া, উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অব্যাহত রাখা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংস্কার বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছে আইএমএফ।

আমির খসরু জানান, ব্যাংকিং খাত, কর-জিডিপি অনুপাত, ব্যাংকের পুনঃমূলধনীকরণ ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আইএমএফের পর্যবেক্ষণ রয়েছে। এসব বিষয়ে বাংলাদেশেরও সম্মতি রয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক সমস্যার সমাধান হয়েছে, বাকি বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চলবে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মধ্যেও বাজেট-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে আইএমএফ সন্তোষ প্রকাশ করেছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিদলের এক কর্মকর্তা জানান, বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ব্যাংকিং খাত সংস্কারের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং খেলাপি ঋণ কমানোর বিষয় রয়েছে।

তিনি জানান, সংকটে থাকা সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের আমানত ফেরত দেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার থেকে ন্যাশনাল ব্যাংকের গ্রাহকদের আমানত ফেরত দেওয়াও শুরু হয়েছে। দুর্বল ব্যাংকগুলোর আমানতকারীদের অর্থ নিয়মিত ফেরত দেওয়ার মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতের ওপর গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে চায় সরকার।

খেলাপি ঋণ কমানোর জন্যও পরিকল্পনা তৈরি করছে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল। ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্বাক্ষরিত ঋণ চুক্তিতে ২০২৬ সালের মধ্যে খেলাপি ঋণের হার ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে বর্তমানে এ হার বেড়ে প্রায় ৩৩ শতাংশে পৌঁছেছে।

প্রস্তাবিত নতুন ঋণ কর্মসূচির আওতায় খেলাপি ঋণের হার কতটা কমানো হবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, গত ১২ অক্টোবর ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ২০২৬ সালের বার্ষিক সভা শুরু হয়েছে। আগামী ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এ সভা। এতে বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, নীতিনির্ধারক এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/19688 ,   Print Date & Time: Friday, 16 October 2026, 09:19:05 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh