• হোম > জাতীয় | দেশজুড়ে > কৃষি খাত লাভজনক করতে প্রণোদনা দিতে হবে: রাষ্ট্রপতি

কৃষি খাত লাভজনক করতে প্রণোদনা দিতে হবে: রাষ্ট্রপতি

  • বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:০৭
  • ১২

---

ইবি রিপোর্ট

কৃষিকে লাভজনক করতে কৃষকদের আর্থিক সহায়তা ও সরকারি প্রণোদনা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, কৃষিতে ভর্তুকি দেওয়া প্রয়োজন। তবে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ভর্তুকি দেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা দেয়।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের আয়োজনে কৃষি বিজ্ঞানীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন রাষ্ট্রপতি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, কৃষির যেসব ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে গবেষণার মাধ্যমে সমাধান বের করতে হবে। ফসল উৎপাদনের পর অনেক সময় কৃষক ন্যায্য দাম পান না। অথচ উৎপাদনের শুরুতেই তাঁদের বাড়তি দামে বীজ কিনতে হয়। এ পরিস্থিতিতে কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের উৎপাদন ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

কৃষির বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানোর মতো আয় না থাকায় কৃষিকাজে শ্রমিক পাওয়া কঠিন হয়ে উঠছে। কৃষি লাভজনক না হওয়ায় অনেকে এ পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকারের প্রণোদনা ও সহায়তা বাড়ানো দরকার।

ফসল সংগ্রহের পর সংরক্ষণের ব্যবস্থার ওপরও জোর দেন তিনি। রাষ্ট্রপতি বলেন, ফল ও সবজি দীর্ঘদিন ভালো রাখতে কোল্ড স্টোরেজ বা হিমাগার গড়ে তোলা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসতে হবে।

কৃষির অগ্রগতির উদাহরণ হিসেবে পেঁয়াজের উৎপাদনের কথা উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, পেঁয়াজ চাষে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এখন এ পণ্য আমদানি করতে হয় না। ফল উৎপাদনেও বাংলাদেশ এগিয়েছে, তবে এ খাতের প্রক্রিয়াগত দিকগুলো আরও উন্নত করা প্রয়োজন।

জমিতে সার ব্যবহারে কৃষকদের সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সঠিক নিয়মে সার ব্যবহার না করলে জমির উর্বরতা কমে যেতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বাড়াতে হবে।

কৃষি গবেষণার সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রয়োজনে আইন পরিবর্তন করে হলেও কৃষি বিজ্ঞানীদের পেনশনের ব্যবস্থা করতে হবে। তাঁদের গবেষণার পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা উন্নত করা গেলে কৃষির বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

সভায় দেশের কৃষি খাতের নানা চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। বক্তারা বলেন, শুধু উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ালেই হবে না, কৃষিপণ্যের মান নিশ্চিত করার দিকেও নজর দিতে হবে। উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি রপ্তানি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন, যাতে বাংলাদেশের পণ্য দেশের বাইরের বাজারেও পৌঁছাতে পারে।

এ ছাড়া পরিবেশের সুরক্ষা বিবেচনায় নিয়ে উন্নত কীটনাশক উদ্ভাবন ও ব্যবহারের উপযোগিতা বাড়াতে গবেষণার ওপর গুরুত্ব দেন আলোচকেরা। কৃষির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, পণ্যের মান উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ সম্প্রসারণে গবেষণা ও সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা সভায় উঠে আসে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/19678 ,   Print Date & Time: Thursday, 15 October 2026, 12:43:08 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh