• হোম > উদ্যোক্তা | জাতীয় | দেশজুড়ে > হাঁসের খামারে লোকসান, কালো পোকা চাষে শিমুলের মাসে আয় ২ লাখ

হাঁসের খামারে লোকসান, কালো পোকা চাষে শিমুলের মাসে আয় ২ লাখ

  • বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:৫৭
  • ২৫

---

ইবি রিপোর্ট

 পোকা দেখলে অনেকেই বিরক্ত হয়ে দূরে সরিয়ে দেন। অথচ সেই পোকা চাষ করেই ঘুরে দাঁড়িয়েছেন পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার শিমুল হোসেন। চাকরি ছেড়ে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্নে হাঁসের খামার গড়ে তুললেও রোগে একের পর এক হাঁস মারা যাওয়ায় কয়েক লাখ টাকা লোকসানের মুখে পড়েন তিনি। দেনার চাপ ও হতাশার মধ্যে ইউটিউবের একটি ভিডিও থেকে জানতে পারেন ‘ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই’ বা কালো পোকা চাষের কথা। ছোট পরিসরে শুরু করা সেই উদ্যোগ এখন পাঁচটি খামারে বিস্তৃত হয়েছে। শিমুলের দাবি, বর্তমানে এ খাত থেকে তাঁর মাসিক আয় দুই লাখ টাকার বেশি। পাশাপাশি তাঁর খামারে কাজ করছেন ১৭ জন কর্মী।

শিমুল হোসেন পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার পারসিধাই গ্রামের মোজাহার আলী প্রামানিকের ছেলে। পাবনা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করার পর তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। প্রায় ছয় বছর আগে চাকরি ছেড়ে নিজের উদ্যোগে খামার শুরু করেন। লক্ষ্য ছিল আয় বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি করা। কিন্তু হাঁসের খামারে রোগ ছড়িয়ে পড়ায় একের পর এক হাঁস মারা যায়। এতে তাঁর বিনিয়োগ করা অর্থের বড় অংশ হারিয়ে যায়।

লোকসানের ধাক্কা সামলে নতুন করে কিছু করার পথ খুঁজতে গিয়ে অনলাইনে কৃষি ও খামারবিষয়ক ভিডিও দেখতে শুরু করেন শিমুল। সেখান থেকেই ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাইয়ের লার্ভা সম্পর্কে জানতে পারেন। এই লার্ভা প্রাণিখাদ্যে প্রোটিনের উৎস হিসেবে ব্যবহার করা যায়। পাশাপাশি খাবারের উচ্ছিষ্ট ও বিভিন্ন জৈব বর্জ্য খেয়ে বেড়ে ওঠার বৈশিষ্ট্যও তাঁকে আকৃষ্ট করে।

এরপর সীমিত পরিসরে পোকা চাষ শুরু করেন তিনি। প্রথম দিকে উৎপাদনপদ্ধতি শেখা, পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং লার্ভা সংগ্রহের মতো নানা বিষয়ে সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে ধীরে ধীরে উৎপাদনপদ্ধতি আয়ত্ত করেন। পরে চাহিদা বুঝে খামারের পরিসর বাড়াতে থাকেন।

বর্তমানে তাঁর পাঁচটি খামারে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাইয়ের লার্ভা উৎপাদন করা হচ্ছে। উৎপাদিত লার্ভা সংগ্রহ করে শুকানোর পর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করেন তিনি। শিমুলের ভাষ্য, চাহিদা থাকায় উৎপাদিত পণ্য বেশির ভাগ সময় দ্রুত বিক্রি হয়ে যায়।

শিমুল হোসেন বলেন, হাঁসের খামানে লোকসানের পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। পরে ইউটিউব থেকে পোকা চাষের বিষয়ে জেনে অল্প পরিসরে কাজ শুরু করেন। ধীরে ধীরে চাহিদা বুঝতে পেরে খামারের সংখ্যা বাড়িয়েছেন। তাঁর মতে, তুলনামূলক কম জায়গা ও খরচে এই চাষ করা সম্ভব হলেও সঠিক পরিচর্যা এবং পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ জরুরি।

শুরুতে তাঁর এই উদ্যোগকে অনেকেই ভালোভাবে নেননি। এমনকি পরিবারের সদস্যরাও পোকা চাষের বিষয়টি পছন্দ করতেন না। শিমুল জানান, একপর্যায়ে তাঁকে বাড়ি থেকেও বের করে দেওয়া হয়েছিল। তবে বাধা সত্ত্বেও কাজ চালিয়ে গেছেন তিনি। এখন নিজের উদ্যোগে পাঁচটি খামার গড়ে তুলতে পেরে এবং স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করতে পেরে সন্তুষ্ট।

শিমুলের বাবা মোজাহার আলী প্রামানিক বলেন, প্রথম দিকে তাঁরা এই কাজকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতেন এবং পোকা চাষের বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি। এখন ছেলের খামারের পরিসর ও সেখানে অনেক শ্রমিকের কাজ করার দৃশ্য দেখে তাঁদের ভালো লাগে।

স্থানীয় কয়েকজনের মতে, এলাকায় এ ধরনের উদ্যোগ আগে তেমন দেখা যায়নি। শিমুলের খামারে কাজের সুযোগ তৈরি হওয়ায় কয়েকজন বেকার যুবক আয়ের পথ পেয়েছেন। তাঁদের ধারণা, প্রশিক্ষণ ও সরকারি সহযোগিতা পেলে এ ধরনের উদ্যোগ আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

পাবনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাইয়ের লার্ভা প্রাণিখাদ্যে প্রোটিনের একটি সম্ভাবনাময় উৎস। প্রযুক্তিগতভাবে সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করে চাষ করা গেলে এ খাত উদ্যোক্তা তৈরি ও কর্মসংস্থানে ভূমিকা রাখতে পারে। সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়ার উদ্যোগ প্রাণিসম্পদ বিভাগের রয়েছে।

পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলামও বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান তৈরিতে এ ধরনের উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/19670 ,   Print Date & Time: Thursday, 15 October 2026, 01:37:30 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh