• হোম > অর্থনীতি | জাতীয় | দেশজুড়ে > অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তায় বাংলাদেশকে সহায়তার আশ্বাস যুক্তরাষ্ট্র-চীনের

অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তায় বাংলাদেশকে সহায়তার আশ্বাস যুক্তরাষ্ট্র-চীনের

  • বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:০৩
  • ১০

---

ইবি রিপোর্ট

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা, ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে চীনের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক (এক্সিম ব্যাংক)। অন্যদিকে, ঋণ ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভা চলাকালে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ এবং চীনের এক্সিম ব্যাংকের কর্মকর্তারা। বুধবার (১৪ অক্টোবর) এসব বৈঠকের বিষয়ে অবগত একাধিক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে সহযোগিতার আলোচনার তথ্য জানান।

বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের এক সদস্যের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীনের এক্সিম ব্যাংক। ব্যাংকটির চেয়ারম্যান আগামী সপ্তাহে ঢাকা সফর করবেন বলেও বাংলাদেশকে জানানো হয়েছে। ওই সফরে সম্ভাব্য বিনিয়োগ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আরও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

অন্যদিকে, ঋণ ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। আইএমএফের সিদ্ধান্ত গ্রহণে যুক্তরাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্য প্রভাব থাকায় সংস্থাটির কাছ থেকে অর্থায়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের সমর্থন বাংলাদেশের জন্য সহায়ক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের উন্নতি এবং দেশটি থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পণ্য আমদানির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশের আরও সহায়তা পাওয়া উচিত।

তিনি জানান, অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বাংলাদেশ তুলনামূলকভাবে কম সহায়তা পেয়েছে। তবে বর্তমানে দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়েছে। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়োজাহাজ কেনার পাশাপাশি তেল, সয়াবিনসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি করছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশকে বাড়তি সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতি পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, বৈঠকে ঋণ ব্যবস্থাপনা, মার্কিন সহায়তা এবং দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি চীনের এক্সিম ব্যাংক ও দেশটির সহায়তাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গেও কথা হয়েছে।

সরকারের অর্থনৈতিক কৌশলে ঋণনির্ভরতা কমিয়ে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ ও যৌথ বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে চীনের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিনিয়োগনির্ভর অর্থনৈতিক কর্মকৌশলের মাধ্যমে বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বর্তমান সরকার কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যে দায়িত্ব নিয়েছে—এ বিষয়টি আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক ও যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগসহ বিভিন্ন সংস্থা স্বীকার করেছে।

তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করেছে। এসব চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও সরকার অর্থনৈতিক সমস্যাগুলো সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো মনে করছে। এ কারণে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও মার্কিন ট্রেজারি বিভাগসহ বিভিন্ন পক্ষ বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে।

তিতুমীরের মতে, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের প্রচেষ্টাকে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও মার্কিন কর্মকর্তারা ইতিবাচকভাবে দেখেছেন। এসব আলোচনার ভিত্তিতে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে সহযোগিতার বিষয়গুলো আরও স্পষ্ট হতে পারে বলে আশা করছে সরকার। তবে সম্ভাব্য সহযোগিতার পরিমাণ, শর্ত ও বাস্তবায়নপ্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো জানানো হয়নি।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/19656 ,   Print Date & Time: Thursday, 15 October 2026, 08:51:55 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh