• হোম > অর্থনীতি | ব্যাংক > ন্যাশনাল ব্যাংকে আজ থেকে চাহিদামতো টাকা তুলতে পারবেন গ্রাহকেরা

ন্যাশনাল ব্যাংকে আজ থেকে চাহিদামতো টাকা তুলতে পারবেন গ্রাহকেরা

  • বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৭
  • ২২

---

ইবি রিপোর্ট

আর্থিক সংকট ও আমানত উত্তোলনের চাপ সামলে স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রমে ফেরার উদ্যোগ নিয়েছে ন্যাশনাল ব্যাংক। আজ বৃহস্পতিবার থেকে ব্যাংকটির সাধারণ গ্রাহকেরা নিজেদের চাহিদা অনুযায়ী আমানতের টাকা তুলতে পারবেন। গত চার দিনে টাকা ফেরত চেয়ে যেসব গ্রাহক আবেদন করেছেন, তাঁদের অর্থ ফেরত দেওয়ার কার্যক্রমও আজ থেকে শুরু হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্যারান্টির বিপরীতে সোনালী ব্যাংকের কাছ থেকে ৭ হাজার কোটি টাকা ধার পাওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যাংকটি।

ন্যাশনাল ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, তারল্য সংকট মোকাবিলায় পাওয়া এই অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক ১১টি শর্ত দিয়েছে। গত সোমবার ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে পাঠানো চিঠিতে এসব নির্দেশনা জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, ধার হিসেবে দেওয়া অর্থের সুদহার হবে ১০ শতাংশ এবং ঋণের মেয়াদ তিন মাস। এই অর্থ থেকে ব্যাংকের সাবেক বা বর্তমান কোনো পরিচালকের আমানত ফেরত দেওয়া যাবে না। একইভাবে ধারের টাকা ব্যবহার করে নতুন ঋণ দেওয়ার ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

ন্যাশনাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবু জাফর প্রথম আলোকে বলেন, ব্যাংকের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের পর টাকা উত্তোলনের চাপ কমেছে। আমদানি ব্যবসাও বাড়তে শুরু করেছে। বর্তমানে আমানত জমা ও টাকা উত্তোলনের মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য নেই। বৃহস্পতিবার থেকে গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী টাকা ফেরত দেওয়া হবে।

গ্রাহকদের চাহিদা বিবেচনায় গত ১১ থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত টাকা ফেরত চেয়ে আবেদন সংগ্রহ করে ন্যাশনাল ব্যাংক। ব্যাংকটির সূত্র জানায়, এ সময়ে প্রায় ১১ হাজার গ্রাহক মোট ২ হাজার কোটি টাকা উত্তোলনের আবেদন করেছেন। দেশজুড়ে ব্যাংকটির বিভিন্ন শাখা থেকে গ্রাহকদের চাহিদার তথ্য প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়। পরে সেই চাহিদার ভিত্তিতে শাখাগুলোতে অর্থ সরবরাহ করা হয়েছে।

প্রাথমিক পর্যায়ে কয়েক দিন আবেদনকারী গ্রাহকদের চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবের টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরপর ধাপে ধাপে অন্যান্য গ্রাহকের আমানতও ফেরত দেওয়া হবে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গ্যারান্টির বিপরীতে পাওয়া অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত বিধিনিষেধ অনুসরণ করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের শর্ত অনুযায়ী, ধার নেওয়া অর্থ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত ন্যাশনাল ব্যাংক নগদ লভ্যাংশ দিতে পারবে না। ব্যাংকটির সাবেক ও বর্তমান পরিচালক কিংবা তাঁদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ঋণ বা বিনিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রেও এই অর্থ ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। পরিচালকদের নামে বা বেনামে থাকা আমানত পরিশোধ, নতুন ঋণ বা বিনিয়োগ এবং বিদ্যমান ঋণের পরিমাণ বাড়ানোর জন্যও এই অর্থ ব্যয় করা যাবে না। আগে অনুমোদিত ঋণের অবিতরণকৃত অংশ ছাড় করার ক্ষেত্রেও একই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য।

এ ছাড়া অন্য ব্যাংকের সঙ্গে বিদ্যমান আন্তব্যাংক দায় বা প্লেসমেন্ট পরিশোধ, অন্য ব্যাংকের ঋণ বা বিনিয়োগ অধিগ্রহণ এবং ফোর্সড ঋণ বা এলটিআরের বিপরীতে ঋণপত্রের দায় মেটাতে বৈদেশিক মুদ্রা কেনার কাজে এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে না। অন্য কোনো ব্যাংকে আমানত হিসেবেও রাখা যাবে না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, গ্যারান্টি বহাল থাকা অবস্থায় নতুন সংগৃহীত আমানত শুধু তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি এবং সাধারণ আমানতকারীদের দায় পরিশোধে ব্যবহার করতে হবে। ব্যাংকটির পরিচালন ব্যয় আগের বছরের তুলনায় ৫ শতাংশের বেশি বাড়ানো যাবে না। গ্যারান্টির অর্থ পরিচালন ব্যয়েও ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। এই অর্থ কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, সে বিষয়ে প্রতি সপ্তাহে বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রতিবেদন দিতে হবে।

ন্যাশনাল ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ অক্টোবর পর্যন্ত ব্যাংকটির আমানতের পরিমাণ ছিল ৩৩ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা। একই সময়ে ঋণের স্থিতি দাঁড়ায় ৪৩ হাজার ২৩০ কোটি টাকা। এর ফলে ব্যাংকটির ঋণ-আমানত অনুপাত বা এডিআর হয়েছে ১৩২ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, একটি ব্যাংক প্রতি ১০০ টাকা আমানতের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৮৭ টাকা ঋণ দিতে পারে। সে হিসাবে অনুমোদিত ঋণ-আমানত অনুপাত ৮৭ শতাংশ। ন্যাশনাল ব্যাংকের বর্তমান এডিআর এই সীমার চেয়ে অনেক বেশি। এ ছাড়া গত জুন শেষে ব্যাংকটির বিতরণ করা ঋণের প্রায় ৬৬ শতাংশ খেলাপি ছিল।

সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংক, অন্যান্য ব্যাংক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্যারান্টির বিপরীতে নেওয়া ঋণ মিলিয়ে ন্যাশনাল ব্যাংকের মোট ধারের পরিমাণ প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা। ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ব্যাংকটি সিকদার গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ওই সময়ে নানা আর্থিক অনিয়মের ঘটনা ঘটে। এর ফলে ব্যাংকটি বড় ধরনের লোকসান ও আর্থিক সংকটে পড়ে। বর্তমান পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের আমানত ফেরত দেওয়া এবং তারল্য ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক করাই ব্যাংকটির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/19616 ,   Print Date & Time: Thursday, 15 October 2026, 06:57:23 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh