![]()
ইবি রিপোর্ট
চার্জে লাগানো মোবাইল ফোনে গেম খেলতে গিয়ে বিস্ফোরণের ঘটনায় লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে দুই যুবক আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মো. রুবেল (২২) নামের এক যুবকের দুই চোখ ও মুখমণ্ডল গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তার দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার বিষয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে ঢাকার জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে। অপর আহত শাকিলকে রায়পুরে চিকিৎসা দিয়ে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের চরবগা এলাকার চৌধুরী বাড়ির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। চার্জে থাকা অবস্থায় মোবাইল ফোনে গেম খেলার সময় হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটলে দুই যুবক আহত হন। এ ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ইমরান হোসেন মনজু জানান, মোবাইল ফোন বিস্ফোরণের কারণে রুবেলের চোখ ও মুখমণ্ডলে গুরুতর আঘাত লেগেছে। বিশেষ করে চোখের ভেতরের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তার দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
চিকিৎসক জানান, রুবেলকে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ও চোখের আঘাতের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকার জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে। সেখানে তার চোখের চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই ঘটনায় আহত অপর যুবক শাকিলকে রায়পুরে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
সোনাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, চার্জে থাকা অবস্থায় মোবাইল ফোনে গেম খেলার সময় এমন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, তা কেউ কল্পনাও করেননি। এ ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের মধ্যে মোবাইল ফোন বিস্ফোরণের কারণ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে ফোনটি কী কারণে বিস্ফোরিত হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন জানান, মোবাইল ফোনটি কী কারণে বিস্ফোরিত হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে পুলিশ তদন্ত করছে।
এ ঘটনায় দুই যুবকের আহত হওয়ার পাশাপাশি রুবেলের দুই চোখের ক্ষতির বিষয়টি উদ্বেগ তৈরি করেছে। চিকিৎসকেরা তার দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার বিষয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে, মোবাইল ফোন বিস্ফোরণের কারণ জানতে পুলিশের তদন্ত চলছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।