![]()
ইবি রিপোর্ট
গাজীপুরের টঙ্গীতে ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ওষুধ কারখানায় আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন ফায়ার সার্ভিসের ১৪টি ইউনিট। আগুনের তীব্রতা, প্রচণ্ড তাপ, ঘন ধোঁয়া ও কেমিক্যালের গন্ধের কারণে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। আগুনের উৎস শনাক্ত এবং ভেতরের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা চালাচ্ছেন ফায়ার ফাইটাররা।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল সোয়া ১০টার দিকে টঙ্গীর চেরাগ আলী এলাকার বিসিকো রোডে অবস্থিত কারখানাটির ইউনিট-২-এ আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে আগুন পাশের একটি চারতলা ভবনেও ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে গাজীপুর, টঙ্গী, উত্তরা ও আশপাশের ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকে ১৪টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে।
টঙ্গী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা শাহীন আলম অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করছেন। তবে প্রচণ্ড তাপ ও ধোঁয়ার পাশাপাশি কেমিক্যালের গন্ধের কারণে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে কাজ করতে ঝুঁকির মুখে পড়ছেন তারা।
কারখানাটির ভেতরে ওষুধ, উৎপাদনসংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি, কেমিক্যাল, ধাতব যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন ধরনের শিল্পসামগ্রী রয়েছে। আগুনে এসব মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কত পরিমাণ মালামাল পুড়েছে কিংবা আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ কত, তা নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পর ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ জানা যেতে পারে।
এদিকে অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমে পানির সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। এ পরিস্থিতিতে আশপাশের এলাকা থেকে পানিবাহী গাড়ির মাধ্যমে পানি এনে আগুন নেভানোর কাজ চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আগুনের উৎস শনাক্ত করতে এবং ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে কাজ করতে গিয়ে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে কারখানার ভেতরে কেউ আটকা পড়েছেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে হতাহত এবং উদ্ধার কার্যক্রমের পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা সম্ভব হয়নি।
কারখানাটিতে আগুন লাগার প্রকৃত কারণও এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বৈদ্যুতিক ত্রুটি, যন্ত্রপাতির সমস্যা কিংবা অন্য কোনো কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে জানা যাবে। বর্তমানে ফায়ার সার্ভিসের ১৪টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পর ক্ষয়ক্ষতি, হতাহত এবং অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।