![]()
ইবি রিপোর্ট
সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির পদ্ধতিতে শ্রেণিভেদে আলাদা নিয়ম নির্ধারণ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণিতে শিক্ষার্থী নেওয়া হবে ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে। অন্যদিকে, দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শূন্য আসনে ভর্তির জন্য বসতে হবে লিখিত পরীক্ষায়। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এ নীতিমালা প্রকাশ করে। এতে সই করেছেন সরকারি মাধ্যমিক-১ শাখার উপসচিব তানিয়া ফেরদৌস।
নীতিমালা অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী বাছাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একজন আবেদনকারী সর্বোচ্চ পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পছন্দের তালিকায় রাখতে পারবেন। কোনো বিদ্যালয়ে দুই শিফট চালু থাকলে উভয় শিফটকে পছন্দক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি দুটি বিদ্যালয়ে পছন্দ দেওয়ার সমতুল্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তবে একই প্রতিষ্ঠানে একাধিক আবেদন জমা পড়লে ওই শিক্ষার্থীর সব আবেদন বাতিল করা হবে।
প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন গ্রহণ থেকে শুরু করে লটারির আয়োজন ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কার্যক্রম কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালনা করবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। ভর্তি কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে লটারি আয়োজন করতে হবে। পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে নীতিমালায়।
লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তালিকা তৈরির পাশাপাশি শূন্য আসনের সমানসংখ্যক অপেক্ষমাণ শিক্ষার্থীর তালিকাও প্রস্তুত রাখতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচিতদের কেউ ভর্তি না হলে অপেক্ষমাণ তালিকার ক্রমানুসারে অন্য শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ দেওয়া হবে।
দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শূন্য আসনের বিপরীতে পরীক্ষায় প্রাপ্ত ফল অনুযায়ী মেধাক্রম তৈরি করে শিক্ষার্থী বাছাই করতে হবে। এ ক্ষেত্রেও নির্বাচিতদের তালিকার পাশাপাশি শূন্য আসনের সমানসংখ্যক অপেক্ষমাণ তালিকা রাখতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো নির্বাচিত শিক্ষার্থী ভর্তি না হলে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে পর্যায়ক্রমে অন্যদের ভর্তির সুযোগ দেওয়া হবে।
নীতিমালায় দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষার পূর্ণমান ও সময়ও নির্ধারণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা হবে মোট ৫০ নম্বরে। এর মধ্যে বাংলায় ১৫, ইংরেজিতে ১৫ এবং গণিতে ২০ নম্বর বরাদ্দ থাকবে। এ পরীক্ষার জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে এক ঘণ্টা।
অন্যদিকে, ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে ১০০ নম্বরে। এ ক্ষেত্রে বাংলায় ৩০, ইংরেজিতে ৩০ এবং গণিতে ৪০ নম্বর থাকবে। পরীক্ষার্থীরা এ পরীক্ষা দেওয়ার জন্য দুই ঘণ্টা সময় পাবে।
নতুন নীতিমালার মাধ্যমে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি কার্যক্রমে প্রথম শ্রেণির জন্য লটারি এবং দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণির জন্য লিখিত পরীক্ষার বিধান নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি আবেদনসংখ্যা, পছন্দক্রম, মেধাক্রমে নির্বাচন এবং অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে ভর্তির নিয়মও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।