• হোম > জাতীয় > রেলওয়ের দখল হওয়া জমি চিহ্নিত করে উদ্ধার করা হবে: মন্ত্রী

রেলওয়ের দখল হওয়া জমি চিহ্নিত করে উদ্ধার করা হবে: মন্ত্রী

  • মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:০২
  • ২৩

---

ইবি রিপোর্ট

রেলওয়ের দখল হয়ে থাকা জমি চিহ্নিত করে তা দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, রেলের জমি প্রথমে রেলওয়ের প্রয়োজন এবং পরে রাষ্ট্রের প্রয়োজনে ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। পরিদর্শন শেষে দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা জানান।

রেলওয়ের আবাসন পরিস্থিতি তুলে ধরে শেখ রবিউল আলম বলেন, সেখানে প্রায় ২ হাজার ৪০০টি আবাসন থাকলেও বসবাস করছেন আনুমানিক ৯০০ জন। ফলে আবাসনের কোনো সংকট নেই বলে তিনি মনে করেন। তাঁর ভাষ্য, পুরোনো ভবনের আবাসনে যে পরিমাণ বাড়িভাড়া কাটা হয়, তার চেয়ে কম টাকায় বাইরে ভালো বাসা ভাড়া পাওয়া যায়। এ কারণে অনেকেই রেলওয়ের আবাসনে থাকতে আগ্রহী নন।

রেলওয়ের জমি দখল প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, প্রায় ৬০ থেকে ৭০ একর জমি পৌরসভার দখলে রয়েছে। এ জমির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রেল কর্তৃপক্ষ ও পৌরসভার মধ্যে বিরোধ রয়েছে, যা অনেকটা আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে। মঙ্গলবারের বৈঠকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, রেলওয়ের যেসব জমি দখলে রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে। এরপর জমিগুলো দখলমুক্ত করে রেলের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করা হবে। পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রের প্রয়োজনেও এসব জমি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

দেশের রেলব্যবস্থার উন্নয়ন প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, নির্বাচিত সরকার রেলওয়েতে আমূল পরিবর্তন আনার পাশাপাশি যাত্রীবান্ধব পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়। রেলযাত্রার ঐতিহ্য ও প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে এ খাতের পরিসর আরও বাড়ানো দরকার। এটি সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা পরিদর্শনের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, দেশের দুটি রেলওয়ে কারখানাকে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা পর্যালোচনা করতেই তিনি সেখানে গেছেন। পরিদর্শনের সময় কারখানার সমস্যাগুলো জানার পাশাপাশি সম্ভাবনাও যাচাই করেছেন। কিছু যন্ত্রাংশ তৈরি সরাসরি দেখে সেগুলোর মানও পরীক্ষা করেছেন বলে জানান তিনি।

কারখানায় কোচ মেরামতের মান আরও উন্নত করার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন রেলমন্ত্রী। তাঁর তথ্য অনুযায়ী, পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে মিলিয়ে প্রায় ৪০০টি কোচ মেরামতের অপেক্ষায় রয়েছে। এসব কোচ মেরামত করে আবার সচল করতে দক্ষ কারিগর নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার অতীত ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে শেখ রবিউল আলম বলেন, একসময় প্রতিষ্ঠানটি দেশের পরিচিতি তুলে ধরেছে। ১৮৬২ থেকে ১৮৭০ সালের মধ্যে এখানে কারখানা প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন যে প্রয়োজনের ভিত্তিতে এটি গড়ে উঠেছিল, সময়ের সঙ্গে সেই প্রয়োজন আরও বেড়েছে। তবে সেই অনুপাতে কারখানাটির উন্নয়ন হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, একসময় এই কারখানায় প্রায় ১২ হাজার ধরনের পার্টস তৈরি হতো। বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে ৬৫৪ থেকে ৬৫৫-তে নেমে এসেছে। ফলে এখন এসব যন্ত্রাংশের অনেকগুলো আমদানি করতে হচ্ছে। অথচ কারখানাটিতে আরও অনেক ধরনের পার্টস উৎপাদন করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

রেলওয়ে হাসপাতাল পরিচালনার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, রেলওয়ের পক্ষে হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক, নার্স ও প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হওয়ায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। দেশের প্রায় নয়টি রেলওয়ে হাসপাতাল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথ ব্যবস্থাপনায় কীভাবে পরিচালনা করা যায়, তা নিয়ে কাজ করা হবে।

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার সক্ষমতা বাড়ানো, অপেক্ষমাণ কোচ মেরামত, যন্ত্রাংশ উৎপাদন সম্প্রসারণ এবং রেলওয়ের জমি উদ্ধার—এসব বিষয়কে রেল খাতের উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন শেখ রবিউল আলম। পাশাপাশি রেলযাত্রাকে আরও যাত্রীবান্ধব করা এবং হাসপাতালগুলোর সেবা উন্নত করার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/19514 ,   Print Date & Time: Tuesday, 13 October 2026, 12:40:24 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh