• হোম > দেশজুড়ে > শিক্ষার্থীদের অবরোধে চুয়েট উপাচার্য, বুকে ব্যথার অভিযোগ

শিক্ষার্থীদের অবরোধে চুয়েট উপাচার্য, বুকে ব্যথার অভিযোগ

  • মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:৪৫
  • ১৪

---

ইবি রিপোর্ট

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম জানিয়েছেন, অবরুদ্ধ অবস্থায় তিনি বুকে ব্যথা অনুভব করছেন। চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হাসপাতালে যেতে চান বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে তাঁকে পরীক্ষা করা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের একজন চিকিৎসক জানিয়েছেন, তাঁর পালস ও রক্তচাপ স্বাভাবিক রয়েছে। পরে আরেক চিকিৎসক তাঁর রক্তচাপ বেশি পাওয়ার কথা জানিয়ে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন।

মঙ্গলবার বেলা একটার দিকে চুয়েটের উপাচার্য ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় নিজের শারীরিক অসুস্থতার কথা জানান অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। এর আগে সোমবার দুপুর ১২টার পর শিক্ষার্থীরা তাঁকে ভবনের ভেতরে রেখে ফটকে তালা দেন। একই সঙ্গে ভবনের পানি ও বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। এতে উপাচার্যসহ অন্তত ১১ জন ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কয়েকজন সাংবাদিক আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে উপাচার্য ভবনে প্রবেশ করেন। তাঁরা উপাচার্যের সঙ্গে কথা বললে তিনি বুকে ব্যথার কথা জানান। তাঁর ভাষায়, ‘আমার বুকের লেফট সাইডে ব্যথা করছে। আমি ডাক্তার দেখাতে চাই, হসপিটালাইজড হতে চাই।’

উপাচার্যের অসুস্থতার খবর পেয়ে বেলা দেড়টার দিকে তাঁর দপ্তরে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক মো. শাহাবুদ্দিন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, উপাচার্যের পালস ও রক্তচাপ স্বাভাবিক রয়েছে। তাঁর রক্তচাপ পাওয়া গেছে ১২০/৮০।

হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন আছে কি না, জানতে চাইলে মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, উপাচার্য তাঁকে পালস ও রক্তচাপ পরীক্ষা করে দেখতে বলেছিলেন। পরীক্ষায় অস্বাভাবিক কিছু পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি। উপাচার্য মাঝেমধ্যে রক্তচাপের ওষুধ খান বলেও উল্লেখ করেন চিকিৎসক। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, উপাচার্য অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকার কারণে অস্বস্তি বোধ করছেন বলে জানিয়েছেন।

তবে বেলা দুইটার দিকে উপাচার্যকে দেখতে যাওয়া রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা টিপুল কান্তি দে ভিন্ন তথ্য দেন। তিনি জানান, উপাচার্যের রক্তচাপ ছিল ১৫০/১০০। উপাচার্য বুকে ব্যথার কথা বলায় তাঁকে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বলেও জানান এই চিকিৎসক।

এদিকে, উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের দাবি, অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম পদত্যাগ করলেই উপাচার্য ভবনের তালা খুলে দেওয়া হবে। তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের ২০২২-২৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী আবিদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘তিনি পদত্যাগ করলেই আমরা তালা খুলে দেব। তখন তিনি সসম্মানে যেতে পারবেন।’

গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণ করে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর পরদিন, ২২ সেপ্টেম্বর থেকে অধ্যাপক আবু সাদাতকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীরা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করেন। একই দাবিতে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ‘কর্মবিরতি’ পালন করে আসছেন। এ আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে।

দায়িত্ব পাওয়ার পরও আন্দোলনের কারণে নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে যেতে পারছিলেন না। তবে সোমবার শাখা ছাত্রদলের নেতাদের নিয়ে শিক্ষার্থীদের দেওয়া তালা ভেঙে তিনি নিজের দপ্তরে যান। তাঁর ক্যাম্পাসে আসার খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে নয়টা থেকে শিক্ষার্থীরা দপ্তরের সামনে জড়ো হন। একপর্যায়ে তাঁরা উপাচার্যকে কার্যালয় ছাড়ার সময়সীমা বেঁধে দেন। নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর দুপুর ১২টার দিকে আবারও ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে পানি ও বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. আহসানউল্লাহ বলেন, উপাচার্য এভাবে ক্যাম্পাসে আসবেন, তা তাঁরা ভাবেননি। তিনি জানান, শিক্ষক সমিতির অসহযোগ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। উপাচার্যের সঙ্গে অনেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী রয়েছেন বলে তিনি আগে দাবি করতেন উল্লেখ করে আহসানউল্লাহ বলেন, এখন তাঁরাই তাঁকে সাহায্য করুন।

চুয়েটে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যেই অবরুদ্ধ উপাচার্যের শারীরিক অবস্থা নিয়ে দুই চিকিৎসকের ভিন্ন পর্যবেক্ষণ সামনে এসেছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/19512 ,   Print Date & Time: Tuesday, 13 October 2026, 12:15:25 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh