![]()
ইবি রিপোর্ট
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল আবাসিক প্রকল্পে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্লট বরাদ্দের মাধ্যমে দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সংস্থাটির সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল উদ্দিন চৌধুরীসহ আটজনকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে ২০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া দুই ব্যবসায়ীর নামে বরাদ্দ করা দুটি প্লট বাতিল করে রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯-এর বিচারক মো. আব্দুস সালাম এ রায় দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী সাইফুল ইসলাম মিঠু রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন রাজউকের সাবেক সদস্য এস. ডি. ফয়েজ, এ. কে. এম. ওয়াহেদুল ইসলাম, এস. এম. জাফর উল্লাহ, এইচ. এম. জহুরুল হক ও মো. রেজাউল করিম তরফদার। এ ছাড়া আম্বার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত আজিজ এবং আশফাক আজিজকেও সাজা দিয়েছেন আদালত।
মামলার রায়ে রাজউকের সাবেক ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে প্রত্যেক ধারায় তাঁদের সাত বছর করে মোট ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রতিটি ধারায় ১০ লাখ টাকা করে মোট ২০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাঁদের আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
অন্যদিকে, আসামি শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজকেও ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। তাঁদের প্রত্যেককে দুই ধারায় সাত বছর করে মোট ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাঁদের আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রায়ে বলা হয়েছে, আসামিদের হাজতবাসের সময় মূল সাজা থেকে বাদ যাবে। দুই ধারায় দেওয়া সাজা একই সঙ্গে কার্যকর হবে। তবে দণ্ডবিধির ৪২০ ধারার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ওই ধারা থেকে আসামিদের খালাস দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজের নামে বরাদ্দ করা পূর্বাচল আবাসিক প্রকল্পের সেক্টর-০১-এর রোড-৪০৫-এ অবস্থিত ০১১ ও ০১৩ নম্বর প্লটের বরাদ্দ বাতিল করেছেন আদালত। একই সঙ্গে প্লট দুটি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, প্রভাব খাটিয়ে পূর্বাচলে ২০ কাঠা জমির প্লট বরাদ্দ নেওয়া ও দেওয়ার অভিযোগে ২০১৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলাটি করে। দুদকের তৎকালীন উপসহকারী পরিচালক সিলভিয়া ফেরদৌস বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজের নামে পূর্বাচলে ১০ কাঠা করে মোট ২০ কাঠা জমির দুটি প্লট বরাদ্দ দেন। এ বরাদ্দের ফলে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
তদন্ত শেষে দুদক আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। পরে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। মামলার বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষের মোট নয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত আট আসামিকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, জরিমানা এবং দুই ব্যবসায়ীর নামে বরাদ্দ করা প্লট বাজেয়াপ্তের আদেশ দেন।