• হোম > জাতীয় | বাংলাদেশ > ইইউর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে নেদারল্যান্ডসের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ

ইইউর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে নেদারল্যান্ডসের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ

  • মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:০৯
  • ১৫

---

ইবি রিপোর্ট

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সুবিধা ধরে রাখতে নেদারল্যান্ডসের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে কৃষি, পাটশিল্প, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বন্দর অবকাঠামো ও পানি ব্যবস্থাপনায় ডাচ প্রযুক্তি এবং বিনিয়োগ কাজে লাগিয়ে দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে নেদারল্যান্ডসের বৈদেশিক বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতাবিষয়ক মন্ত্রী স্যোয়ার্ড স্যোয়ার্ডসমার সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয় তুলে ধরেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বৈঠকে নেদারল্যান্ডসের পক্ষ থেকেও কৃষি ও শিল্পপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বন্দর অবকাঠামো এবং পানি ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নেদারল্যান্ডস বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধু ও গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী। প্রচলিত বাণিজ্য সম্পর্কের বাইরে গিয়ে প্রযুক্তি হস্তান্তর, শিল্পায়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং টেকসই বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা ও সম্ভাবনাময় বাজারের সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার সমন্বয় করা গেলে উভয় দেশ উপকৃত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের রপ্তানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বজায় রাখার বিষয়টি তুলে ধরে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ইউরোপ বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি বাজার। এ বাজারে দীর্ঘমেয়াদি প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণে প্রাতিষ্ঠানিক ও নীতিগত সহযোগিতা জোরদার করা প্রয়োজন।

এ লক্ষ্য অর্জনে ইইউর সঙ্গে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির কারিগরি আলোচনা এগিয়ে নেওয়া এবং শুল্কবহির্ভূত বাণিজ্য বাধা দূর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বৈঠকে কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ খাতে দুই দেশের সহযোগিতার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, উন্নত বীজপ্রযুক্তি, গবেষণা এবং আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনায় নেদারল্যান্ডসের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

বিশেষ করে আলু ও অন্যান্য সবজির গুণগত মান এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে রপ্তানিযোগ্য কৃষিপণ্য উৎপাদন এবং নতুন বাজার তৈরিতে যৌথ উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া সিলেটসহ দেশের সম্ভাবনাময় অঞ্চলগুলোতে বিশেষায়িত সবজি চাষ সম্প্রসারণ, কৃষকদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানো এবং কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণে আধুনিক সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি।

নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রী স্যোয়ার্ড স্যোয়ার্ডসমাও কৃষিপ্রযুক্তি ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

পাটশিল্পের উন্নয়ন নিয়েও দুই মন্ত্রীর মধ্যে আলোচনা হয়। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, পরিবেশবান্ধব পণ্যের বৈশ্বিক চাহিদা বাড়ায় বাংলাদেশের পাট ও পাটজাত পণ্যের জন্য নতুন বাজার তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।

এ খাতে উন্নত পাটবীজ উদ্ভাবন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, যৌথ গবেষণাগার স্থাপন এবং বহুমুখী পাটপণ্য তৈরিতে ডাচ প্রযুক্তিগত সহযোগিতা কাজে লাগানো যেতে পারে। বিশেষ করে পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিং ও মিশ্র তন্তুর কাপড় উৎপাদনের মাধ্যমে পাটশিল্পে উচ্চমূল্য সংযোজনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

বৈঠকে বাংলাদেশের বিদ্যমান সার কারখানাগুলোর আধুনিকায়ন ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে ডাচ প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান স্ট্যামিকার্বনের সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি বিনিময় এবং জ্বালানি সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

বন্দর ও সামুদ্রিক পরিবহন খাতেও সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। লালদিয়া টার্মিনালসহ বাংলাদেশের বন্দর অবকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিক লজিস্টিকস ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং ডাচ প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্ভাব্য বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত অংশগ্রহণের বিষয়গুলো আলোচনায় আসে।

পাশাপাশি নদী ও খাল খনন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনায় নেদারল্যান্ডসের গবেষণা সংস্থা ডেল্টারেসের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর বিষয়েও মতবিনিময় হয়।

ডাচ বিনিয়োগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে মেধাস্বত্ব ও পেটেন্ট সুরক্ষা, কাস্টমস প্রক্রিয়ার আধুনিকায়ন এবং ব্যবসা পরিচালনার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো উন্নয়নের বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আলোচনায় দক্ষতা বৃদ্ধি, তরুণ ও নারী কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতার সম্ভাবনা উঠে আসে।

বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেলসহ উভয় দেশের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে আলোচনার মূল বিষয় ছিল ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি সুবিধা ধরে রাখা এবং প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের মাধ্যমে বিভিন্ন উৎপাদনশীল খাতের সক্ষমতা বাড়ানো। কৃষি, পাটশিল্প, জ্বালানি, বন্দর ও পানি ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনাও আলোচনায় উঠে আসে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/19498 ,   Print Date & Time: Tuesday, 13 October 2026, 11:43:24 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh